একাই ডাক্তার, নার্স, কর্মচারী
দক্ষিণ কোরিয়ার গ্রামগুলোয় স্বাস্থ্যসেবার বেহাল দশা

সংগৃহীত ছবি
দক্ষিণ কোরিয়ার গ্রামীণ ও দুর্গম এলাকাগুলোয় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা প্রায় ১ হাজার ৯০০টি ‘এক-ব্যক্তি পরিচালিত স্বাস্থ্য ক্লিনিক’ (পাবলিক হেলথ সাব-সেন্টার) চরম কর্মীসংকট ও অতিরিক্ত কাজের চাপে ধুঁকছে। প্রতিটি কেন্দ্রে চিকিৎসাসেবা দেওয়া থেকে শুরু করে রোগী দেখতে বাড়ি বাড়ি যাওয়া এবং দাপ্তরিক ফাইলপত্র সামলানো— সব কাজ একা হাতেই করতে হচ্ছে মাত্র একজন স্বাস্থ্যকর্মীকে।
যেসব দ্বীপাঞ্চল বা পাহাড়ি গ্রামে বড় হাসপাতাল কিংবা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের চেম্বার নেই, সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার একমাত্র ভরসা এসব ক্লিনিক। তবে গত কয়েক বছরে সরকারি বরাদ্দের অভাব ও পর্যাপ্ত সহকারী নিয়োগ না দেওয়ায় কেন্দ্রগুলোর স্বাস্থ্যকর্মীরা চরম শারীরিক ও মানসিক চাপে দিন কাটাচ্ছেন।
ক্লিনিকগুলোর এই জরাজীর্ণ অবস্থার পেছনে মূলত তিনটি বড় কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে।
একাই সব দায়িত্ব: সামান্য সর্দি-কাশির ওষুধ বিতরণ থেকে শুরু করে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস পরীক্ষা, নিয়মিত টিকাদান এবং সরকারি নথিপত্র প্রস্তুতের মতো একাধিক কাজ একাই সামলাতে হচ্ছে ওই এক কর্মীকে।
প্রবীণ রোগী বৃদ্ধি: কোরিয়ার গ্রামাঞ্চলগুলোয় দ্রুত বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। ফলে প্রতিদিন কেন্দ্রে আসা রোগীদের চিকিৎসার পাশাপাশি শারীরিক প্রতিবন্ধকতায় ভুগতে থাকা প্রবীণদের বাড়ি গিয়ে সেবা দেওয়ার চাহিদা আগের চেয়ে দ্বিগুণ বেড়েছে।
ছুটি পাওয়ার সুযোগ নেই: ক্লিনিকে আর কোনো বিকল্প কর্মী না থাকায় জরুরি প্রয়োজনে বা অসুস্থ হলেও ছুটি পান না তারা। কোনো কর্মী এক দিনের জন্য বাইরে গেলে পুরো গ্রামের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাই এক প্রকার স্তব্ধ হয়ে যায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোরিয়ার গ্রামাঞ্চলে নতুন কোনো চিকিৎসক বা জনবল যুক্ত না হলে এই প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কাঠামো ভেঙে পড়ার মুখে পড়বে। পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত মোবাইল মেডিকেল টিম এবং প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যসেবা চালুর পরামর্শ দিয়েছেন তারা।




