দ. কোরিয়ায় সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে টিউশন ফি নিয়ে দ্বন্দ

ছবি: রয়টার্স
রাজধানী সিউলের বাইরের ৩০টি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে শতভাগ টিউশন ফি মওকুফ বা 'আঞ্চলিক ভারসাম্য বৃত্তি' চালুর উদ্যোগ নিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে এসব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সব প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী বিনামূল্যে পড়ার সুযোগ পাবেন। তবে সরকারের এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী নীতি ঘোষণার পর থেকেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষক সংগঠনগুলো। সিদ্ধান্তটিকে বৈষম্যমূলক আখ্যা দিয়ে প্রথাগত শিক্ষাব্যবস্থায় তীব্র অসম প্রতিযোগিতা তৈরির অভিযোগ এনেছেন তারা।
দক্ষিণ কোরিয়ার আঞ্চলিক ভারসাম্য রক্ষা এবং সিউলকেন্দ্রিক তরুণ জনসংখ্যার চাপ কমানোর লক্ষ্যেই এই টিউশন ফি মওকুফের চিন্তা করা হয়েছে বলে সরকারের দাবি। প্রতি বছর অতিরিক্ত প্রায় ৪০০ বিলিয় ন রাষ্ট্রীয় বাজেট বরাদ্দ দিয়ে পর্যায়ক্রমে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সব বর্ষের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে পড়ার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এতে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। তাদের দাবি, সরকারের কোনো ধরনের আগাম আলোচনা বা গণশুনানি ছাড়াই এ ধরনের বড় সিদ্ধান্ত হঠাৎ ঘোষণা করা হয়েছে, যা আগামীর ভর্তি মৌসুমে তাদের চরম আর্থিক ও শিক্ষার্থী সংকটে ফেলবে।
দীর্ঘদিন ধরে সরকার টিউশন ফি বৃদ্ধির ওপর আইনি কড়াকড়ি আরোপ করে রাখায় দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এমনিতেই গভীর আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়ার মোট উচ্চশিক্ষার প্রায় ৮০ শতাংশের বেশি যেখানে বেসরকারি খাতের ওপর নির্ভরশীল, সেখানে একপাক্ষিক এই সরকারি অনুদান পাবলিক ও প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের মাঝে অসম দেয়াল তুলে দিচ্ছে বলে মনে করেন খাতসংশ্লিষ্টরা। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমিতি ও অধ্যাপক ইউনিয়ন হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, ফ্রি টিউশনের সুবিধা পেয়ে শিক্ষার্থীরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়মুখী হলে আঞ্চলিক প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় ও জুনিয়র কলেজগুলোতে শিক্ষার্থী খরা দেখা দেবে, যা অনেক প্রতিষ্ঠানকে বন্ধ হওয়ার মুখে ঠেলে দেবে।
বিশেষজ্ঞ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রধানদের মতে, রাজধানী সিউলের বাইরের ছোট শহরগুলোতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো স্থানীয় অর্থনীতির একটি বড় চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে। তাই শুধু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিলে আঞ্চলিক উচ্চশিক্ষার সামগ্রিক ইকোসিস্টেম ভেঙে পড়বে। ক্ষোভের জবাবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পাবলিক রোল বিবেচনাতেই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে এই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে; তবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্যও 'আঞ্চলিক মেধা বৃত্তি' প্রসারসহ বিকল্প সহায়তার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।




