জাকার্তা থেকে ম্যানিলা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ঝুঁকছে রাশিয়ার দিকে

১৩ এপ্রিল মস্কোর ক্রেমলিনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন (ডানদিকে) এবং ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোবো সুবিয়ান্তো। ছবি : এপি
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের কারণে বিশ্বব্যাপী ব্যাপক জ্বালানি ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোকে রাশিয়ার দিকে না ঝুঁকতে সতর্ক করেছে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ)।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার ব্রুনাইতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ান দেশগুলোর সংগঠনের (আসিয়ান) পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকের পর ইইউর পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কায়া কাল্লাস এ আহ্বান জানিয়েছেন।
দেশগুলোকে ‘বৃহত্তর প্রেক্ষাপট’ দেখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, তেল কেনার মাধ্যমে রাশিয়াকে ইউক্রেন যুদ্ধ চালিয়ে যেতে সহায়তা করা হচ্ছে।
কিন্তু জ্বালানি ও সারের জন্য দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ান দেশগুলো মধ্যপ্রাচ্যের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। যুদ্ধের কারণে এ দুই খাতে ব্যাপক সংকট তৈরি হয়েছে। এজন্য ইইউর সতর্কবার্তাগুলো উপেক্ষা করেই মস্কোর সঙ্গে চুক্তি করতে যাচ্ছে এ অঞ্চলের দেশগুলো।
ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোবো সুবিয়ান্তো মস্কোয় ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাতের পর গত সপ্তাহে ঘোষণা করেছেন, তারা ১৫০ মিলিয়ন ব্যারেল পর্যন্ত রুশ অপরিশোধিত তেল আমদানি করবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র হিসেবে পরিচিত ফিলিপাইন মার্চ মাসে পাঁচ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো রুশ অপরিশোধিত তেলের চালান পেয়েছে। থাইল্যান্ড সার কেনার জন্য রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা করছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে ভিয়েতনাম রাশিয়ার সঙ্গে বহু আগে করা একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল, যে চুক্তিটির প্রয়োজনীয়তা এখন আরও বেশি জরুরি হয়ে উঠেছে।
রাশিয়ার জন্য এই সংকট এরই মধ্যে অপ্রত্যাশিত লাভের সুযোগ এনে দিয়েছে। আকাশছোঁয়া জ্বালানির মূল্য এবং ব্যাপক ঘাটতির কারণে সমুদ্রপথে নিষেধাজ্ঞাভুক্ত রুশ তেল কেনার জন্য দেশগুলো হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। এ ক্ষেত্রে আবার মস্কো দিচ্ছে বিশেষ অস্থায়ী ছাড়। এতে রাশিয়া বহু বিলিয়ন ডলার মুনাফা অর্জন করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিকভাবে একঘরে করার পশ্চিমা প্রচেষ্টা রুখে দিয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, একের পর এক চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়াই প্রমাণ করে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত রাশিয়াকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া জুড়ে আরও শক্তিশালী অবস্থান করে দিচ্ছে।



