নার্স সংকটে কোরিয়ায় অবৈধভাবে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন কেয়ারগিভাররা

সংগৃহীত ছবি
দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রবীণ রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়লেও সে অনুপাতে নার্স না থাকায় হোম- কেয়ার খাতে তৈরি হয়েছে তীব্র সংকট। নার্সের অপ্রতুলতার সুযোগে বর্তমানে কোনো ধরনের লাইসেন্স বা প্রশিক্ষণ ছাড়াই চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন সাধারণ কেয়ারগিভার ও সমাজকর্মীরা, যা দেশটির আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ অবৈধ।
ন্যাশনাল হেলথ ইন্স্যুরেন্স সার্ভিস (NHIS)-এর তথ্যমতে, গত জুন পর্যন্ত দেশে নিবন্ধিত হোম-ভিজিটিং নার্স রয়েছেন মাত্র ৬,৪৫১ জন। অর্থাৎ, গড়ে প্রতি ১ জন নার্সকে প্রায় ৯০ জন প্রবীণ বা শয্যাশায়ী রোগীর দেখভাল করতে হচ্ছে। সারাদেশে থাকা ৯৩২টি হোম-নার্সিং সেন্টারের প্রতিটিকেই সামলাতে হচ্ছে গড়ে ৬২০ জন করে রোগী।
অবৈধ চিকিৎসার চিত্র ও ঝুঁকি:
১। বেআইনি চিকিৎসা চর্চা: মেডিকেল সার্ভিস অ্যাক্টের ২৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পেশাদার স্বাস্থ্যকর্মী ছাড়া অন্যদের চিকিৎসা সম্পর্কিত কাজ করা নিষিদ্ধ হলেও, কেয়ারগিভাররা কফ টানা (Suckion), কৃত্রিম উপায়ে খাবার দেওয়া (Feeding) এবং ক্যাথেটার পরানোর মতো জটিল কাজ করছেন।
২। চিকিৎসাগত দুর্ঘটনা: দক্ষ নার্স না থাকায় অপেশাদারদের হাতে ভুল চিকিৎসা ও রক্তপাতের মতো মারাত্মক দুর্ঘটনা বাড়ছে।
৩। সহজে কর্মী পাওয়ার প্রবণতা: নিবন্ধিত নার্সের তুলনায় দেশে কেয়ারগিভারের সংখ্যা বহুগুণ বেশি হওয়ায় রোগীর স্বজনেরাও বাধ্য হয়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ‘কফ টানা ও টিউবে খাবার দেওয়া জানতে হবে’ জাতীয় শর্ত দিয়ে কেয়ারগিভার খুঁজছেন।
সরকার চলতি বছরের মার্চে সমন্বিত পরিচর্যা আইন কার্যকর করে শয্যাশায়ী প্রবীণদের জন্য হোম-নার্সিং সেবা বৃদ্ধির উদ্যোগ নিলেও মাঠপর্যায়ে নার্সের ঘাটতি না মেটায় এ ধরনের অবৈধ ও বিপজ্জনক চিকিৎসা চর্চা রোখা যাচ্ছে না।




