স্পেনকে চাপে ফেলতে বাণিজ্য বন্ধের নির্দেশ ট্রাম্পের

ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে ট্রাম্প- রয়টার্স
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার ন্যাটো সদস্য দেশ স্পেনের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য অবিলম্বে বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রতিরক্ষা ব্যয় এবং ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যেই তিনি এ সিদ্ধান্ত নেন। যদিও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নিয়ম অনুযায়ী, বাণিজ্য আলোচনা পৃথক দেশের সঙ্গে নয়, পুরো জোটের সঙ্গে পরিচালিত হয়।
আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে ইউরোপীয় নেতারা জোটের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য কমানোর আশা করলেও ট্রাম্প সেখানে স্পেনকে নিয়ে নতুন করে বিরোধ উসকে দেন। একই সঙ্গে তিনি আবারও বলেছেন, গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকা উচিত। এতে ন্যাটোর আরেক সদস্য ডেনমার্ক অসন্তোষ প্রকাশ করে জানায়, তারা নিজেদের ভূখণ্ডের ‘প্রতিটি ইঞ্চি’ রক্ষা করবে।
ন্যাটোর নতুন লক্ষ্য অনুযায়ী জিডিপির ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করতে স্পেন রাজি না হওয়ায় ট্রাম্প দ্বিতীয়বারের মতো অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টকে দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধের নির্দেশ দেন। তবে মার্চে একই ধরনের ঘোষণা দেওয়ার পরও দুই দেশের বাণিজ্য স্বাভাবিকভাবেই চলতে থাকে।
ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের উদ্দেশে ট্রাম্প বললেন, ‘স্পেন কোনো কিছুতেই রাজি নয়, আর তাদের বোঝা আপনারা বহন করবেন না।’
পরে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে রুটে বলেছেন, গত বছর প্রতিরক্ষা ব্যয় ২ শতাংশে উন্নীত করে স্পেন ‘বড় পদক্ষেপ’ নিয়েছে। তবে তিনি স্বীকার করেন, ‘এখনো কিছু বিষয় সমাধান করা বাকি।’
এরপর ট্রাম্প অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘আমি তাদের সঙ্গে কোনো বাণিজ্য করতে চাই না, ঠিক আছে?’
জবাবে বেসেন্ট বললেন, ‘জি, স্যার।’
এরপর ট্রাম্প বললেন, ‘এখনই কার্যকর করুন। তাদের সঙ্গে কথাও বলবেন না। তারা নিরাশাজনক। তারা খারাপ মানুষ... তারা আমাদের সঙ্গে অনেক অর্থ উপার্জন করে, আর আমরা নিশ্চিত করব তারা যেন অনেক কম অর্থ আয় করে।’
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানায়, তারা ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘স্বাভাবিক ঘটনা’ হিসেবেই দেখছে এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে বিদ্যমান ‘চমৎকার’ সম্পর্ক পরিবর্তনের কোনো পরিকল্পনা নেই।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যে স্পেনের ঘাটতি রয়েছে এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক মূলত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এ ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের শুল্ক ও বাণিজ্য ব্যবস্থার সদস্য হওয়ায় কোনো একক সদস্য রাষ্ট্রকে আলাদাভাবে লক্ষ্যবস্তু করা সম্ভব নয়।
সাম্প্রতিক সময়ে ইরান যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের আকাশসীমা বা সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে না দেওয়ায় সমাজতান্ত্রিক নেতা পেদ্রো সানচেজের প্রতি বারবার অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। যদিও স্পেনের দক্ষিণাঞ্চলে নৌ ও বিমান অভিযানের জন্য দুটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি যৌথভাবে পরিচালনা করে ওয়াশিংটন ও মাদ্রিদ।
স্পেন বিশ্বের সবচেয়ে বড় জলপাই তেল রপ্তানিকারক দেশ। এ ছাড়া তারা যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ির যন্ত্রাংশ, ইস্পাত ও রাসায়নিক পণ্যও রপ্তানি করে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের অর্থনৈতিক চাপের হুমকিতে ইউরোপের অনেক দেশের তুলনায় কম ঝুঁকির মুখে রয়েছে স্পেন।




