পুতিনের বিরল ক্ষতির স্বীকারোক্তি

রাতের আকাশে হঠাৎ জ্বলে ওঠে আগুনের লেলিহান শিখা। বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে রাশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগার। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ছড়িয়ে পড়ে ধোঁয়ার কালো মেঘ। যুদ্ধের মূল ফ্রন্টলাইন থেকে শত শত কিলোমিটার দূরে রাশিয়ার অভ্যন্তরে এই দৃশ্য যেন এক নতুন বাস্তবতার ঘোষণা। তিন বছরের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধ এখন আর শুধু ইউক্রেনের মাটিতে সীমাবদ্ধ নয়; এর আগুন পৌঁছে গেছে রাশিয়ার অর্থনীতির হৃৎপিণ্ডে। আর সে কারণেই এবার বিরলভাবে স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য হলেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বললেন, ইউক্রেনের ক্রমবর্ধমান হামলা রাশিয়ার অর্থনীতি ও অবকাঠামোর ক্ষতি করছে। তবে একই সঙ্গে তার দৃঢ় দাবি— এসব আঘাত রাশিয়াকে থামাতে পারবে না, বরং যুদ্ধ আরও তীব্র হবে।
কয়েক সপ্তাহ ধরে রাশিয়ার ভেতরে একের পর এক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইউক্রেন। নিশানায় রয়েছে তেল শোধনাগার, জ্বালানি সংরক্ষণাগার, পাইপলাইন এবং সরবরাহব্যবস্থা— অর্থাৎ রাশিয়ার সবচেয়ে লাভজনক তেল ও গ্যাস শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার রাতে রাশিয়ার নিজনেকামস্ক শহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগারে হামলার দায় স্বীকার করেছে কিয়েভ।
এই হামলাগুলো এমন এক সময়ে ঘটছে, যখন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হচ্ছে এবং পূর্ব ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়ার অগ্রগতি আগের তুলনায় ধীর হয়ে এসেছে। ফলে ইউক্রেন নতুন কৌশল হিসেবে সরাসরি রাশিয়ার অর্থনৈতিক শক্তিকে আঘাত করার পথ বেছে নিয়েছে।
গত শুক্রবার এ বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে পুতিন স্বীকার করেছেন, হামলাগুলো রাশিয়ার কিছু ক্ষতি করছে। তার ভাষায়, ‘তারা অবশ্যই আমাদের কিছু ক্ষতি করছে। কিন্তু আমরা খুব দ্রুত ঘুরে দাঁড়াচ্ছি।’


