ফর্টিস পড়েছে মুরাসের চ্যালেঞ্জের মুখে

সংগৃহীত ছবি
তিন দিন বাদেই আন্তর্জাতিক ক্লাব ফুটবলে অভিষেক হবে ফর্টিস ফুটবল ক্লাবের। বসুন্ধরা কিংস ও আবাহনী লিমিটেডের দুঃসময়ে এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের প্রিলিমিনারি রাউন্ডে সুযোগ পেয়েছে ফর্টিস ফুটবল ক্লাব ও বাংলাদেশ পুলিশ ফুটবল ক্লাব। গত মৌসুমের লিগ চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা ও রানার্সআপ এএফসির টুর্নামেন্ট খেলার জন্য ক্লাব লাইসেন্সিংয়ের সব শর্ত পূরণ করেনি। তাতেই ফর্টিস ও পুলিশের সামনে খুলে যায় আন্তর্জাতিক অভিষেকের দরজা। ১১ আগস্ট ফর্টিস কিংস অ্যারেনায় আতিথ্য দেবে কিরগিজস্তানের দল মুরাস ইউনাইটেড এফসিকে। যে দলটিতে রয়েছেন ১৬ জন বিদেশি ফুটবলার। ফর্টিস এমন দলের মোকাবিলা করবে আট বিদেশি নিয়ে।
এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের গত আসরে আবাহনীকে প্রিলিমিনারি রাউন্ডে ২-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপ পর্বে খেলার সুযোগ পেয়েছিল মুরাস। গ্রুপ পর্বের চার ম্যাচের দুটিতে জয় ও ড্রয়ে তারা পৌঁছে যায় কোয়ার্টার ফাইনালে। লেবাননের আল আনসারকে হারিয়ে তারা সেমিফাইনালেও গিয়েছিল। তবে কুয়েতের আল-কুয়েতের কাছে হেরে ফাইনাল খেলা হয়নি। এমন দলের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক অভিষেকে কতটা সুবিধা করতে পারবে ফর্টিস, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছেই।
গত চার মৌসুম শীর্ষ লিগে খেলা ফর্টিসের কোচ মাসুদ পারভেজ কায়সার অবশ্য আস্থা রাখছেন শিষ্যদের ওপর। টানা এক মাস অনুশীলন করিয়েছেন দলকে। কায়সার জানিয়েছেন, শুধুমাত্র এএফসির ম্যাচের জন্য তারা চারজন বিদেশি ও দুজন স্থানীয় ফুটবলারকে ধারে দলে নিয়েছেন। গত বছর লাওসের একটি ক্লাবের হয়ে এই টুর্নামেন্ট খেলা দুই জাপানিজ ডিফেন্ডার সিয়ান ও ইউসে, গত মৌসুমে ব্রাদার্সে খেলা নেপালি হোল্ডিং মিডফিল্ডার এরিক বিসতা ও নাইজেরিয়ার শীর্ষ লিগে খেলা স্ট্রাইকার চুকুদেকে নিয়েছে ফর্টিস। দুই গাম্বিয়ান পুরানো মুখ পা ওমর বাবু ও ইসা জেলো দলের আস্থা হয়ে আছেন আক্রমণভাগের। সঙ্গে বাড়তি সাহস জোগাচ্ছেন শ্রীলঙ্কান গোলকিপার সুজন পেরেরা ও নেপালি ফরোয়ার্ড অনন্ত তামাং। মুরাসকে সব দিক থেকে এগিয়ে রাখলেও অভিষেকটা জয়ে রাঙানোর লক্ষ্যের কথা বলেছেন কোচ কায়সার, ‘ওরা তো অবশ্যই সব দিক থেকে শক্তিশালী। শারীরিক সক্ষমতায় অনেক এগিয়ে। সেট-পিচে ভয়ংকর, ছোট ছোট পাসে বিল্ডআপ ফুটবল খেলে। তারপরও ওদের হারানো অসম্ভব নয়। আমরা আমাদের নিজেদের মাঠে, পরিচিত দর্শক ও আবহাওয়ায় খেলব। দলের সবার মাঝে সেরাটা দেওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা দেখেছি।’
ক্লাবটির সভাপতি শাহীন হাসান ভীষণ রোমাঞ্চিত দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়ে— ‘আমরা যখন প্রথম ফুটবলে আসি, লক্ষ্য ছিল এমন কিছু করা, যাতে দেশের ফুটবলের উন্নতি হয়। আজ যে আমরা আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের পতাকা নিয়ে নামতে যাচ্ছি, এটাই সবচেয়ে গর্বের। আমার বিশ্বাস, নিজেদের পরিচিত কন্ডিশন কাজে লাগিয়ে ছেলেরা ৯০ মিনিট নিজেদের করে নেবে। আমার বিশ্বাস, তাদের সে সামর্থ্য আছে।’
আগামীকাল মুরাস ঢাকায় পা রাখবেন। ১১ আগস্ট কিংস অ্যারেনায় ম্যাচটা শুরু হবে বেলা ৩টায়। মধ্য এশিয়ার শীতপ্রধান দেশের ফুটবলারদের গরমে নাকাল করতে ম্যাচটা ভরদুপুরে আয়োজনের সিদ্ধান্ত ফর্টিসের।




