হকিতে ভারত-পাকিস্তানের ‘হাই-ফাইভ’, ক্রিকেটে নয় কেন?

হকি বিশ্বকাপে হাই-ফাইভ করছেন ভারত-পাকিস্তানের খেলোয়াড়রা। ছবি: সংগৃহীত
ভারত-পাকিস্তানের মুখোমুখি হওয়া মানেই উত্তেজনা। রাজনৈতিক বৈরিতার রেশ পরে মাঠেও। ক্রিকেট, ফুটবল, হকি-সব খেলার ছবিটা একই। তবে এবারের হকি বিশ্বকাপে দেখা মিলল অন্য এক ছবি।
পাঁচ দিন আগে আমস্টেলভেনে গুরুত্বপূর্ণ হকি ম্যাচের আগে ঘটেছিল সেটা। প্রথাগত হাত মেলানোর বদলে আন্তর্জাতিক হকি ফেডারেশনের নিয়ম মেনে দুই দলের খেলোয়াড়রা ‘হাই-ফাইভ’ করে খেলা শুরু করেন। কুশলও বিনিময় করেন কেউ কেই। অথচ এই সৌজন্য দেখা যায় না ক্রিকেটে।
হকি বিশ্বকাপে সাধারণ তবে তাৎপর্যপূর্ণ এই ‘হাই-ফাইভ’ নিয়ে জ্যেষ্ঠ ভারতীয় সাংবাদিক শেখর গুপ্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ ছবিটি শেয়ার করে লিখেছেন, ‘বেলজিয়াম ও নেদারল্যান্ডসে চলা হকি বিশ্বকাপের এই ছবিটি ভাবার মতো। ভারত-পাকিস্তানের হকির প্রতিদ্বন্দ্বিতার উত্তাপ, ক্রিকেটের মতোই পুরোনো। সীমান্তে উত্তাপ থাকলেও সিনিয়র, অনূর্ধ্ব-১৯ কিংবা জুনিয়র—সব প্ল্যাটফর্মেই হকি খেলোয়াড়রা একে অপরকে মাঠে সম্মান জানিয়ে আসছেন। অপারেশন সিঁদুর-এর পরও দুই দল বহুবার মুখোমুখি হয়েছে। তারা করমর্দন করছে, হাই-ফাইভ করছে, কোলাকুলি করছে, পিঠ চাপড়ে দিচ্ছে—অথচ এটা নিয়ে কেউ ক্ষোভ প্রকাশ করছে না কিংবা হকি ইন্ডিয়া বা দলের দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তুলছে না। ট্রোলাদের দেশপ্রেম যেন শুধু ক্রিকেটকেই লক্ষ্য বানায়।’
তার মূল ইঙ্গিত ছিল ক্রিকেটের দিকে। ২০২৫ সাল থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভারতের পুরুষ ও নারী দল পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের সঙ্গে হাত মেলানো এড়িয়ে চলছে। এশিয়া কাপের পর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং গত জুনে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও পাকিস্তানের বিপক্ষে ভারতীয় খেলোয়াড়রা করমর্দন করেননি।
ক্রিকেট ঘিরে বিশাল আবেগ ও রাজনৈতিক সমীকরণ জড়িয়ে থাকে বলেই এটা নিয়ে আলোচনা বেশি হয়। শেখর গুপ্তর যুক্তি হলো—হকির ঘটনাপ্রবাহ প্রমাণ করে, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের টানাপড়েন থাকলেও খেলায় তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও সৌজন্য একসঙ্গে বজায় রাখা সম্ভব।
হাই-ফাইভের সেই ম্যাচে ৫-৩ গোলের রোমাঞ্চকর জয় তুলে নেয় ভারত, যা পাকিস্তানকে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে দেয়।






