জুলফিকার মাহমুদ মিন্টুর কলাম
ইংল্যান্ড দারুণ ব্যালেন্স একটা দল

ইংল্যান্ড এই বিশ্বকাপে বেশ রোমাঞ্চকর একটা দল হিসেবে এসেছে। তাদের গ্রুপ প্রতিপক্ষ ঘানা, ক্রোয়েশিয়া এবং হচ্ছে পানামা। প্রথম ম্যাচে তারা গ্রুপের মূল প্রতিপক্ষ ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে উড়িয়ে দিয়েছিল। ক্রোয়েশিয়ার ৩-৪-২-১ ফরমেশনের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের ৪-২-৩-১ ফরমেশন বেশ কার্যকর ছিল। দলের ফুটবলারদের পজেশন রোটেট করা, বিশেষ করে মাঝমাঠে, সেটা ছিল অসাধারণ। ক্রোয়েশিয়ার বড় সমস্যা কিছু বয়স্ক খেলোয়াড়। বিশেষ করে লুকা মদরিচ, পেরিসিচ। কখনো কখনো এই বেশি বয়সীরা দলের সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
ইংল্যান্ড ভাগ্যবান অভিজ্ঞ থমাস টুখেলকে কোচ হিসেবে পেয়েছে। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ, বুন্দেসলিগায় কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। তবে তার বিশ্বকাপ স্কোয়াড নিয়ে অনেক আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। ফিল ফডেন, হ্যারি ম্যাগুইয়ারের মতো খেলোয়াড় বাদ দেওয়াটা একটা রহস্য। তবে আমি বলব ইংল্যান্ড দারুণ ব্যালেন্স একটা দল।
অধিনায়ক হ্যারি কেন প্রথম ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে দুটি গোল করেন। জুড বেলিংহাম একটা দুর্দান্ত গোল করেন। প্রথমার্ধেই তারা ৩-২ গোলের লিড নেয়। দ্বিতীয়ার্ধে বদলি মার্কাস রাশফোর্ড নেমে গোল করে ইংল্যান্ডের বড় জয় নিশ্চিত করেন। ইংল্যান্ড স্কোয়াডে মার্কাস রাশফোর্ডের মতো খেলোয়াড়ও বেঞ্চে বসে থাকে। অথচ তিনি দুর্দান্ত একটা মৌসুম বার্সেলোনার হয়ে কাটিয়েছেন। আবার বুকায়ো সাকা আর্সেনালের ক্যাপ্টেন, ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন। তারপরও তিনি একাদশে নিয়মিত নন। অর্থাৎ দলটিতে মাল্টিকোয়ালিটি প্লেয়ার রয়েছে। কোবি মাইনুর মতো সলিড ডিফেন্স-মাইন্ডেড মিডফিল্ডার আছেন যে প্রয়োজনে ক্রিয়েটিভ পাস বাড়িয়ে দিতে পারেন ফ্রান্টলাইনের সতীর্থদের। দলের সুন্দর একটা ব্যালেন্স রয়েছে। তাদের প্রতিপক্ষ ঘানা প্রথম ম্যাচে পানামাকে ১-০ গোলে হারিয়েছে।
আজকের ম্যাচটা অনেক টাফ ম্যাচ হবে ইংল্যান্ডের জন্য। এক দিক দিয়ে ট্যাক্টিক্যাল এবং অন্য দিক দিয়ে হচ্ছে ফিজিক্যাল লড়াই হবে। ঘানা ফিজিক্যালি ভীষণ শক্তিধর এবং হাওয়ায় ভাসানো বলে তারা এগিয়ে থাকে। আজ মাঝমাঠে লড়াই তো হবেই, একইভাবে ট্যাক্টিক্যাল একটা মোকাবেলা হবে। দু’দলেরই আছে তিন পয়েন্ট করে। ঘানার চেষ্টা থাকবে যে করে হোক হার এড়ানো। প্রয়োজনে এক পয়েন্ট অন্তত তারা নিশ্চিত করতে চাইবে। ইংল্যান্ডের চেষ্টা থাকবে যে করে হোক তিন পয়েন্ট নেওয়ার।
দুদল একই ৪-২-৩-১ ফরমেশনে খেলবে। যে দল রক্ষণ সুরক্ষিত রেখে, গোল হজম না করে, গোলের সুযোগ তৈরি করে এবং সেগুলো কাজে লাগাতে পারবে, দিনশেষে তারাই জয় নিয়ে ফিরতে পারবে। ম্যাচটা ইংল্যান্ড এবং ঘানার পয়েন্ট অব ভিউ থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। লিগ টেবিলে দুই দলই হয়তো চাইবে যে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য। তাই আমরা দেখার অপেক্ষায় রইলাম বাস্তবে কী ঘটে।






