ব্রাজিল ফুটবলে বিতর্ক
নেইমার অচল নাকি ত্রাতা?

সংগৃহীত ছবি
গত সপ্তাহে বেলো হরিজন্তে এক অনুষ্ঠানে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা নেইমারকে নিয়ে একটি কৌতুক করেছিলেন। রসিকতা করে তিনি নেইমারকে আখ্যা দেন ‘ওয়ার্ক-ফ্রম-হোম প্লেয়ার’ হিসেবে। প্রেসিডেন্টের এই খোঁচা ব্রাজিলে খুব একটা ভালোভাবে নেননি ফুটবলপ্রেমীরা। কারণ, সেলেসাওদের দলে নেইমারের অন্তর্ভুক্তি কোনো হাসির বিষয় নয়। বরং অর্ধেক ফিট নেইমারকে কেন বিশ্বকাপ দলে নেওয়া হলো, সেটা নিয়ে ব্রাজিলেই চলছে তুমুল বিতর্ক।
গোল ডট কম জানাচ্ছে, লুলার এই কটাক্ষের পেছনে রাজনৈতিক কারণও থাকতে পারে। কারণ, নেইমার ছিলেন লুলার কট্টর প্রতিদ্বন্দ্বী উগ্র-ডানপন্থী সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর কড়া সমর্থক। তবে রাজনীতি একপাশে সরিয়ে রেখে সাধারণ ব্রাজিলিয়ানরা এখন চাতক পাখির মতো চেয়ে আছেন মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামের দিকে। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রাজিলের মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নেইমার ফিরবেন কি না, তা নিয়েই এখন যত জল্পনা-কল্পনা।
স্কটল্যান্ড ম্যাচের আগে অবশ্য চোট কাটিয়ে নেইমারের ফেরার ইঙ্গিত মিলেছে। ব্রাজিলের প্রথম দুটি ম্যাচ মিস করলেও কাফ ইনজুরি থেকে পুরোপুরি সেরে উঠেছেন তিনি। তিনটি বিশ্বকাপ খেলা এই তারকাকে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে শুরুর একাদশে না হলেও বদলি হিসেবে ডাগ-আউটে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। ‘সি’ গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করতে এই ম্যাচে ব্রাজিলের জয় পাওয়া ভীষণ জরুরি।
সতীর্থ লুকাস পাকেতা চলতি সপ্তাহে অনুশীলনে নেইমারকে ফিরে পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেছেন, ‘জাতীয় দলের জন্য সে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একজন খেলোয়াড়। এই জার্সিতে তার ইতিহাস অসাধারণ এবং সে এখনো আমাদের অনেক সাহায্য করতে পারে। আমরা আশা করি সে দ্রুত মাঠে নেমে দলে অবদান রাখবে।’
ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি রসিকতার ছলে বলেছেন, ‘নেইমার সম্পূর্ণ সুস্থ এবং খেলার জন্য প্রস্তুত। সে ৯০ মিনিটই খেলতে পারে। সত্যি বলতে, আমিও চাইলে ৯০ মিনিট হাঁটতে হাঁটতে খেলতে পারি! (হাসি)। সে কঠোর পরিশ্রম করেছে, খুব ভালো অনুশীলন করেছে। আমি তাকে নিয়ে অত্যন্ত সন্তুষ্ট।’
তবে ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড দলে কতটা অবদান রাখতে পারবেন, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন রয়েছে। ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা শুধু তার অতীতের সুখ্যাতির জোরেই দলে টিকে আছেন বলে মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক। গত ৩ বছরে তিনি ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে খেলেছেন মাত্র ৪৫টি ম্যাচ, গোল করেছেন মাত্র ১৭টি!
অথচ নেইমারের কারণে চেলসির ফরোয়ার্ড জোয়াও পেদ্রোর মতো ফর্মে থাকা তারকাকে বিশ্বকাপ স্কোয়াড থেকেই বাদ দিয়েছেন আনচেলত্তি, যিনি গত এক মৌসুমেই চেলসির হয়ে ৫০ ম্যাচে ২০টি গোল করেছিলেন। এই বিতর্কই এখন ব্রাজিল ফুটবলকে দুই ভাগে বিভক্ত করে ফেলেছে।
নেইমারের বয়স এখন ৩৪। চার বছর আগে কাতার বিশ্বকাপে লিওনেল মেসি যখন আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতান, তখন তার বয়স ছিল ৩৫। মাঠের প্রতিভায় একসময় নেইমারকে মেসির সমকক্ষ ভাবা হলেও মাঠের বাইরের শৃঙ্খলা ও জীবনযাত্রায় দুজনে সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুর। আর এ কারণেই মেসি ৩৮ বছর বয়সেও বিশ্ব মাতাচ্ছেন, আর নেইমার ৩৪ বছরেই ক্যারিয়ারের শেষপ্রান্তে।
ব্রাজিলের সমর্থকরা অবশ্য আশা ছাড়ছেন না। ফুটবলবোদ্ধাদের মতে, নেইমার যদি শুধু মাঠের সাইডলাইনে বা বেঞ্চেও বসে থাকেন, তার উপস্থিতিই সতীর্থদের মধ্যে মেসির মতো জাদুকরি অনুপ্রেরণা জোগাতে পারে। সেলেসাওদের বাঁচা-মরার লড়াইয়ে নেইমার শেষ পর্যন্ত ত্রাতা হয়ে উঠবেন নাকি অচল হিসেবে প্রমাণিত হবেন, সেটা দেখার জন্য বিশ্ব জুড়ে কোটি চোখ তাকিয়ে থাকবে মায়ামির সবুজ ক্যনভাসে।







