নিশ্চিন্তে বসে নেই আর্জেন্টিনা

ছবি: রয়টার্স
আর্জেন্টিনার শুরুটা হয়েছে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের মতোই। দাপটে আর নিখুঁতভাবে। আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে গুঁড়িয়ে দেওয়া ম্যাচটা দেখে নেদারল্যান্ডস অধিনায়ক ভার্জিল ফন ডাইক প্রশংসায় ভাসালেন তাদের, ‘আর্জেন্টিনা যেভাবে বিশ্বকাপ শুরু করেছে, তাতেই বোঝা যায় সত্যি সত্যিই শিরোপা ধরে রাখতে চায় ওরা। কোনো খেলাই সহজ নয়, তবে আর্জেন্টিনা এটিকে একদম সহজ বানিয়ে ছেড়েছে।’
এমনকি লিওনেল মেসির ভক্ত বনে গেছেন অস্ট্রিয়ার গোলকিপার আলেকজান্ডার শ্লাজারও! তাই বলে তিনি তো আর চেয়ে চেয়ে বল জালে যেতে দেখতে পারেন না। তাই আজ মেসির আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার আগে শ্লাজার দিলেন প্রচ্ছন্ন হুমকিও, ‘মেসিকে নিয়ে নেতিবাচক কথা বলাটাও ধৃষ্টতা। তিনি যখন মাঠে থাকেন, তখন যে আবহ ছড়িয়ে দেন, তা দুর্দান্ত। এজন্যই আমি ম্যাচটি খেলার জন্য মুখিয়ে আছি। তবে মেসিকে রুখে দেওয়ার জন্য সাধ্যমতো সবকিছু করার চেষ্টা করব আমরা।’
ম্যাচটা আর্জেন্টিনা বনাম অস্ট্রিয়া হলেও মধ্যমণি হয়েই থাকবেন মেসি। ম্যাচের আগে শ্লাজারের পাশাপাশি অস্ট্রিয়ার মিডফিল্ডার কনরড লাইমারও ফিফায় দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘মেসি বিশ্বের সেরা ফুটবলার। ম্যাচটা জিততে হলে মেসিকে আটকাতে হবে।’
মেসিকে আটকাতে চান সবাই। কিন্তু জাদুকরকে কি আর মায়াজালে বাঁধা সম্ভব? আলজেরিয়া সবরকম চেষ্টা করেও পারেনি। উল্টো হ্যাটট্রিক করে অমরত্বের দিকে আরও একধাপ এগিয়ে গেছেন। আজ অস্ট্রিয়ার বিপক্ষেও সবটুকু আলো থাকবে তার ওপর। তবে খেলাটা তো একজনের নয়, ১১ জনের বিপক্ষে ১১ জনের লড়াই। এই ১১ জন নির্বাচন করতেই হিমশিম খাচ্ছেন আর্জেন্টাইন কোচ লিওনেল স্কালোনি।
প্রথম ম্যাচের একাদশ থেকে আজ কয়েকটা বদল আসতে পারে আর্জেন্টিনায়। হ্যামস্ট্রিংয়ে আঘাত পাওয়া রাইটব্যাক গনসালো মন্তিয়েল খেলছেন না নিশ্চিতভাবে। তার জায়গায় একাদশে দেখা যেতে পারে নাহুয়েল মোলিনাকে। টিওয়াইসি স্পোর্টস জানিয়েছে, থিয়াগো আলমাদার জায়গায় নিকো গনসালেস আর লাউতারো মার্তিনেসের বদলে একাদশে হুলিয়ান আলভারেসকে খেলানো নিয়ে ভাবছেন স্কালোনি। চোট থেকে সেরে ওঠায় ম্যাচের কোনো একপর্যায়ে মাঠে নামতে পারেন লিয়ান্দ্রো পারেদেস ও নিকোলাস তাগিয়াফিকো। এই দুজনকে ফিরে পাওয়াটা শক্তিই বাড়াবে আর্জেন্টিনার।
আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ পাবলো আইমার ফিফায় দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘মেসি আমাকে আদর্শ মানত শুনে বুকটা গর্বে ভরে ওঠে। (তার হ্যাটট্রিকে) দারুণ জয় দিয়ে শুরু করতে পেরে আমরা খুশি। আমরা শান্ত আছি, তবে বড্ড বেশি নিশ্চিন্ত নই। কারণ, ফুটবলে আপনি কখনোই পুরোপুরি নিশ্চিন্তে বসে থাকতে পারেন না। প্রথম ম্যাচে ভালো পারফরম্যান্সের সন্তুষ্টি যেমন আছে, তেমনি দলে একজন বিশ্বমানের খেলোয়াড় থাকার স্বস্তিও রয়েছে।’
২০২২ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর অস্ট্রিয়াকে আগ্রাসী ও গতিময় ফুটবল খেলাচ্ছেন জার্মান কোচ রালফ রাংনিক। দলের সেরা খেলোয়াড় ডেভিড আলাবা পুরোপুরি ফিট আর রক্ষণভাগ সামলাতে তৈরি। রক্ষণভাগের কেন্দ্রে তার সঙ্গে রয়েছেন কেভিন ডানসো। মাঝমাঠে কনরড লাইমার ও মার্সেল সাবিৎজারের অক্লান্ত পরিশ্রম এবং হাই-প্রেসিং ফুটবল যেকোনো প্রতিপক্ষের মাথাব্যথার কারণ। নিজেদের প্রমাণ করে প্রথম ম্যাচে জর্ডানকে ৩-১ গোলে হারিয়েছিলও তারা।




