মুখ ঢেকে ইতিহাসের প্রথম লাল কার্ড আলমিরনের

মাঠে প্রতিপক্ষের ফুটবলারের সঙ্গে তর্ক করছেন? খবরদার, হাত বা জার্সি দিয়ে মুখ ঢাকা যাবে না! মুখ ঢাকলেই রেফারি পকেট থেকে সরাসরি বের করবেন লাল কার্ড। ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা ও আন্তর্জাতিক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ডের (আইএফএবি) এই নতুন ও অত্যন্ত বিতর্কিত আইনটির প্রথম ঐতিহাসিক প্রয়োগ দেখা গেল বিশ্বকাপে তুরস্কের বিপক্ষে প্যারাগুয়ের ১-০ গোলে জয় পাওয়া ম্যাচে।
ফিফার নতুন আইনের প্রথম শিকার হলেন প্যারাগুয়ের তারকা মিডফিল্ডার মিগুয়েল আলমিরন। তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচে প্রতিপক্ষের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের সময় মুখ ঢেকে রাখার অপরাধে তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান ম্যাচ রেফারি। ফুটবল মহলে অনানুষ্ঠানিকভাবে এই নতুন নিয়মটিকে ডাকা হচ্ছে ‘প্রেস্তিয়ানি আইন’ বা ‘ভিনিসিয়ুস আইন’ নামে। তবে প্রথমবার এই আইনের প্রয়োগ নিয়ে এরই মধ্যে ফুটবল বিশ্বে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা ও বিতর্ক।
নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী, মাঠে প্রতিপক্ষের কোনো খেলোয়াড়ের সঙ্গে বাদানুবাদে জড়ানোর সময় কোনো ফুটবলার যদি হাত, বাহু বা জার্সি দিয়ে নিজের মুখ আড়াল করেন, তবে রেফারি তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখাতে পারবেন। এই আইনের পক্ষে ফিফার যুক্তি, টিভি ক্যামেরা বা লিপ-রিডারদের চোখ ফাঁকি দিয়ে বর্ণবাদী, বৈষম্যমূলক বা আপত্তিকর গালাগাল লুকানোর উদ্দেশ্যেই মূলত ফুটবলাররা মুখ ঢেকে কথা বলেন।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এই নিয়মটিকে ‘অপরাধের পূর্বানুমান’ হিসেবে দেখছেন। অর্থাৎ, তর্কের সময় মুখ ঢেকে আপনি কী বলেছেন, রেফারিকে তা প্রমাণ করতে হবে না। মুখ ঢাকাই এখানে অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। তবে ফুটবলাররা যখন নিজেদের দলের সতীর্থদের সঙ্গে বা প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ কথাবার্তা বলবেন, তখন মুখ ঢাকলে কোনো শাস্তি দেওয়া হবে না।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে চ্যাম্পিয়নস লিগের বেনফিকা বনাম রিয়াল মাদ্রিদ ম্যাচ থেকে এই আইনের সূত্রপাত। সেই ম্যাচে রিয়ালের ব্রাজিলিয়ান তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সঙ্গে তর্ক করার সময় নিজের জার্সি টেনে মুখ ঢেকে রেখেছিলেন বেনফিকার আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড জানলুকা প্রেস্তিয়ানি। পরে তদন্তে প্রমাণিত হয়, তিনি ভিনিসিয়ুসকে বর্ণবিদ্বেষী গালি দিয়েছিলেন। উয়েফা তাকে ছয় ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পর ফিফা গত এপ্রিলে আইনটি আনুষ্ঠানিকভাবে পাস করে এই বিশ্বকাপ থেকেই কার্যকর করে।
সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়া স্টেডিয়ামে ‘ডি’ গ্রুপের ম্যাচের প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ঘটনাটি ঘটে। প্যারাগুয়ের ফরোয়ার্ড ইসিদ্রো পিতার একটি ফাউলকে কেন্দ্র করে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। এ সময় তুরস্কের রাইট-ব্যাক মের্ট মুলডুরের সঙ্গে বাদানুবাদে জড়ান আটলান্টা ইউনাইটেডের প্যারাগুয়েন মিডফিল্ডার আলমিরন। তর্কের একপর্যায়ে আলমিরন হাত দিয়ে নিজের মুখ ঢেকে কিছু একটা বলেন।
মুলডুর সঙ্গে সঙ্গে রেফারির কাছে এ নিয়ে আপত্তি জানালেন। এর পরপরই এল সালভাদরের রেফারি ইভান বার্টন ভিএআর পরীক্ষা করে নিশ্চিত হন যে আলমিরন মুখ ঢেকেছিলেন। সঙ্গে সঙ্গে তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেওয়া হয়। আলমিরন তীব্র প্রতিবাদ জানালেও রেফারির সিদ্ধান্ত অপরিবর্তিত থাকে। এটি বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই নিয়মে প্রথম লাল কার্ডের রেকর্ড, পাশাপাশি প্যারাগুয়ের বিশ্বকাপ ইতিহাসের মাত্র তৃতীয় লাল কার্ড।







