নকআউটে চোখ ফ্রান্সের

সংগৃহীত ছবি
টানা দুই বিশ্বকাপে দুই ফাইনাল। ২০১৮-তে জয়, ২০২২-এ টাইব্রেকারে স্বপ্নভঙ্গ। বিশ্বকাপে ফ্রান্স যেন উড়ছে সপ্তম আকাশে। এই বিশ্বকাপেও দুবারের চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স এসেছে ফেভারিটের তকমা গায়ে লাগিয়েই। গ্রুপের দ্বিতীয় ম্যাচে ইরাকের মুখোমুখি কিলিয়ান এমবাপ্পেরা। ফ্রান্সের চোখ গ্রুপে সবার আগে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করা। এমবাপ্পের লক্ষ্য মেসি ও ক্লোসাকে ছাড়িয়ে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখানো।
গ্রুপ ‘আই’র প্রথম ম্যাচে ফ্রান্স পেরিয়েছে সেনেগাল বাধা। ২০০২ বিশ্বকাপের সেই তিক্ত অভিজ্ঞতার বদলা এবার ভালোভাবেই নিয়েছেন এমবাপ্পে-বার্কোলারা। এমবাপ্পে করেছেন জোড়া গোল, গোল পেয়েছেন বার্কোলাও। ৩-১-এর ব্যবধানে এবারও জয় দিয়েই টুর্নামেন্ট শুরু করেছে ১৯৯৮ ও ২০১৮-এর চ্যাম্পিয়নরা।
কাগজে-কলমে কিংবা মাঠের লড়াইয়ে কোথাও ফ্রান্সের ধারেকাছেও নেই ইরাক। আন্তর্জাতিক ফুটবলে কখনোই দেখা হয়নি এ দুই দলের। আগের ম্যাচের শুরুর একাদশে আজ পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা কম। পূর্ণ শক্তির দল নিয়ে ফুরফুরে মেজাজেই মাঠে নামবে ফ্রান্স।
ইরাক শিবিরে পরিস্থিতি ঠিক উল্টো। বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হয়েছে হতাশাজনকভাবে। প্রথম ম্যাচে নরওয়ের কাছে ৪-১ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়ের শঙ্কা জেগেছে। ফ্রান্সের কাছে হেরে গেলে অনেকটাই নিশ্চিত হবে তাদের ছিটকে যাওয়া।
এই ম্যাচে এমবাপ্পের সামনে রেকর্ডের হাতছানি। বিশ্বকাপে ১২ গোল নিয়ে এসেছিলেন এমবাপ্পে। প্রথম ম্যাচেই পেয়েছেন জোড়া গোল। ১৪ গোলে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় তৃতীয় স্থানে আছেন এই রিয়াল মাদ্রিদ তারকা
দুর্বল প্রতিপক্ষ হলেও ফ্রান্স কিন্তু ইরাককে মোটেও হালকাভাবে নিচ্ছে না। ফরাসি ডিফেন্ডার উইলিয়াম সালিবা বলেছেন, ‘ইরাক কঠিন প্রতিপক্ষ এবং তাদের অবমূল্যায়ন করা বিপজ্জনক হবে। বাছাই পর্বে ইরাক শক্ত প্রতিরোধ গড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বড় দলগুলোর বিপক্ষেও লড়াই করেছে। তাদের তাই হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।’
ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় তারকা এমবাপ্পে। অবিশ্বাস্য গতি ও দুর্দান্ত ফিনিশিং ইরাক রক্ষণভাগকে ভেঙে চুরমার করে দিতে পারে নিমিষেই। এই ম্যাচে এমবাপ্পের সামনে রেকর্ডের হাতছানি। বিশ্বকাপে ১২ গোল নিয়ে এসেছিলেন এমবাপ্পে। প্রথম ম্যাচেই পেয়েছেন জোড়া গোল। ১৪ গোলে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় তৃতীয় স্থানে আছেন এই রিয়াল মাদ্রিদ তারকা। এমবাপ্পের সামনে আছেন ব্রাজিলের রোনালদো নাজারিও (১৫ গোল), জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসা ও আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি। ক্লোসা ও মেসির গোল ১৬টি।
এমবাপ্পে যে বিধ্বংসী ফর্মে আছেন, ইরাকের বিপক্ষেই ভেঙে ফেলতে পারেন এই তিন ফুটবলারের রেকর্ড। ক্লোসা ও মেসির রেকর্ড ভেঙে এমবাপ্পে পৌঁছে যেতে পারেন রেকর্ডের চূড়ায়।
ফ্রান্সের হয়ে নিজের গোল রেকর্ড বাড়ানোর সুযোগও থাকছে এমবাপ্পের সামনে। সেনেগালের বিপক্ষে দুই গোল করে ফ্রান্সের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন। বর্তমানে তার আন্তর্জাতিক গোল ৫৮। নজর এ আসরের শীর্ষ গোলদাতা হওয়ার দিকেও। তিন গোল করা মেসির চেয়ে পিছিয়ে থাকা এমবাপ্পে নিশ্চয়ই অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নিজের গোল বাড়িয়ে নিতে চাইবেন।
একদিকে শিরোপার অন্যতম দাবিদার, আরেক দিকে আসরের দুর্বলতম দলের একটি। ফ্রান্স-ইরাক লড়াইটা হাড্ডাহাড্ডি হবে, এমনটা কেউই হয়তো ভাবছেন না। তবে বিশ্বকাপের মঞ্চে হতে পারে যেকোনো কিছুই!




