বিশ্বকাপ
গোলের পর ‘বন্দুক উদ্যাপন’ নিয়ে মুখ খুললেন ইরানের মোহেবি

এভাবেই উদযাপন করেছিলেন মোহাম্মদ মোহেবি।
বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করে মাঠ ছেড়েছে ইরান। তবে মাঠের ফুটবল ছাপিয়ে এখন আলোচনার কেন্দ্রে দলটির উইঙ্গার মোহাম্মদ মোহেবির এক বিতর্কিত গোল উদ্যাপন। ম্যাচের ৫৫ মিনিটে ইরানের হয়ে সমতাসূচক গোলটি করার পর মোহেবি যে অঙ্গভঙ্গি করেছেন, সেটাকে রাজনৈতিক বার্তা বলে মনে করছেন অনেকে। ফিফার কাছে তদন্তও দাবি করা হয়েছে।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে গোল করার পর ২৭ বছর বয়সী এই উইঙ্গার নিজের এক হাতের দুই আঙুল অন্য হাতের বাহুতে তাক করেন এবং পরে ডান হাতের দুটি আঙুল বন্দুকের মতো করে বাতাসে ঘোরান। রাজনৈতিকভাবে উত্তপ্ত ইরান শিবিরের এই ফুটবলারের এমন অঙ্গভঙ্গি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। তবে সব বিতর্ক উড়িয়ে দিয়ে মোহেবি জানিয়েছেন, এটি কেবলই একটি সাধারণ উদ্যাপন ছিল, কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নয়।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে নিজের উদ্যাপনের ব্যাখ্যা দিয়ে মোহেবি বলেন, ‘আমি লস অ্যাঞ্জেলেসে বসবাসরত সব ইরানি প্রবাসীকে ধন্যবাদ জানাতে চেয়েছিলাম। স্টেডিয়ামে তারা দারুণ এক পরিবেশ তৈরি করেছিলেন। গোল করার পর হঠাৎ করেই উদ্যাপনটা মাথায় আসে এবং আমি গ্যালারির সব ভক্তদের উদ্দেশ্যেই ওটা করেছি। এটি স্রেফ একটি সাধারণ উদ্যাপন, অন্য কিছু নয়।’
মোহেবি বিষয়টিকে সাধারণ বলে উড়িয়ে দিলেও তার সতীর্থ ডিফেন্ডার রামিন রেযাইয়ানের ম্যাচ পরবর্তী মন্তব্য বিতর্ককে আরও উস্কে দিয়েছে। ম্যাচে গোল করার পর রেযাইয়ান নিজের জার্সি দিয়ে মুখ ঢেকে গ্যালারির দিকে ছুটে গিয়েছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে নিজের সেই উদ্যাপনের পেছনে রাজনৈতিক কোনো কারণ ছিল কি না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে রেযাইয়ান সরাসরি বলেন, ‘হ্যাঁ, এটা একটা রাজনৈতিক ব্যাপার ছিল। তবে আমি এটা নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে চাই না।’
পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে দেখে এই ডিফেন্ডার দ্রুত ফুটবল প্রসঙ্গে ফিরে গিয়ে বলেন, ‘আমরা এখানে ফুটবল সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে এসেছি। আমাদের (ইরানের জনগণের) মধ্যে যদি কোনো সমস্যা থেকে থাকে, তবে সেটা আমাদের নিজেদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার।’
যুক্তরাষ্ট্রে চলমান এই বিশ্বকাপে রাজনৈতিক ও সামাজিক নানা ইস্যুতে ইরান দল বরাবরই স্পটলাইটে থাকে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পয়েন্ট ভাগাভাগির পর গ্রুপ পর্বের পরবর্তী ম্যাচের প্রস্তুতি নিলেও, মাঠের বাইরের এই ‘বন্দুক’ উদ্যাপন বিতর্ক টিম মেল্লিদের (ইরান জাতীয় দল) ওপর বাড়তি মানসিক চাপ তৈরি করল।






