যে ম্যাচ কেউ খেলতে চায় না

সংগৃহীত ছবি
বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি জয়ের স্বপ্ন নিয়ে উত্তর আমেরিকায় পা রেখেছিল ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড। কিন্তু সেমিফাইনালের বাধা পার হতে পারেনি কোনো দলই। শিরোপার স্বপ্নভঙ্গ হলেও তাদের বিশ্বকাপ এখনো শেষ হয়ে যায়নি। মায়ামির হার্ডরক স্টেডিয়ামে শনিবার রাত ৩টায় তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে এ দুই পরাশক্তি। ইংলিশ কোচ টমাস টুখেল আক্ষেপ করে বলেছেন, ‘আমাদের কোনো খেলোয়াড়ই ম্যাচটা খেলতে চায় না। ফ্রান্সের খেলোয়াড়রাও নয়। সবাই চায় ফাইনালে খেলতে।’ খেলা শুরুর আগে এমন হতাশা ছড়ালেও এই ‘ব্রোঞ্জ ফাইনাল’ ম্যাচটিতেও রয়েছে বিশেষ আকর্ষণ। ফ্রান্সের কোচ হিসেবে এটিই হতে যাচ্ছে দিদিয়ের দেশমের শেষ ম্যাচ। ১৪ বছরের বর্ণাঢ্য কোচিং ক্যারিয়ারের ইতি টানবেন এই ম্যাচ দিয়েই।
ফরাসি ফুটবলের গত এক দশকের সাফল্যের মূল কারিগর দেশম। তার অধীনে ফ্রান্স ২০১৮ সালে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, পরের আসরে খেলেছে ফাইনাল। সব মিলিয়ে তিনটি বিশ্বকাপে টানা সেমিফাইনাল খেলার রেকর্ড গড়েছেন তিনি। শনিবারের ম্যাচটি হতে যাচ্ছে ফরাসি খেলোয়াড়দের জন্য কোচকে একটি জয় উপহার দেওয়ার শেষ সুযোগ। অন্যদিকে, আর্জেন্টিনার কাছে সেমিফাইনালে হারার পর প্রবল সমালোচনার মুখে থাকা ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেলের জন্য এই ম্যাচটি সম্মান রক্ষার লড়াই। দলের ভেতর কিছুটা ইতিবাচক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে জয়ের বিকল্প নেই তাদের সামনে। এরই মধ্যে ব্রিটিশ মিডিয়া টুখেলের মুণ্ডুপাত করেছে। তাকে এই মুহূর্তে বরখাস্ত করার দাবি উঠেছে জোরেশোরে। তাই বিশ্বকাপের পর টুখেলের চাকরি থাকার সম্ভাবনা খুবই কম।
ম্যাচটি নিয়ে খুব একটা উৎসাহ নেই কোনো দলেই। সেমিফাইনালের হতাশায় দুই দলই এখন শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্লান্ত। যে কারণে দুই কোচই মূল একাদশে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারেন। যারা টুর্নামেন্টে খুব একটা খেলার সুযোগ পাননি, তাদের এই ম্যাচে মাঠে নামানো হতে পারে। ফ্রান্সের হয়ে রায়ান চেরকি, মার্কাস থুরাম কিংবা ইংল্যান্ডের হয়ে কোবি মাইনো, অলি ওয়াটকিন্স ও আইভান টনিদের দেখা যেতে পারে প্রথম একাদশে। তবে কিলিয়ান এমবাপ্পের জন্য এই ম্যাচ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এই বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ৮টি গোল করেছেন তিনি, যা লিওনেল মেসির সমান। একটি অ্যাসিস্ট বেশি থাকায় গোল্ডেন বুটের দৌড়ে আপাতত মেসিই এগিয়ে আছেন। তাই ২০টি বিশ্বকাপ গোল করা এমবাপ্পের সামনে ব্যক্তিগত অর্জন আরও সমৃদ্ধ করার সুযোগ। এ ছাড়া ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহামেরও গোল আছে ৬টি করে। বিশ্বকাপ ইতিহাসে সাতজন গোল্ডেন বুটজয়ী তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে গোল করেছিলেন। ফ্রান্সের জুস্ত ফঁতেইন করেছিলেন ৪ গোল।
ফুটবল ইতিহাসে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের মুখোমুখি লড়াই সবসময়ই হাড্ডাহাড্ডি হয়েছে। ১৯৬৬ বিশ্বকাপে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়েছিল ইংল্যান্ড। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ে ফ্রান্সই এগিয়ে। সর্বশেষ নয়টি লড়াইয়ে ইংল্যান্ডের জয় মাত্র একটি। কাতার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালেও ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল ফ্রান্স। সেই হারের প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগও আজ ইংলিশদের সামনে। যদিও ফুটবল বিশ্লেষকদের বড় অংশ আজ ফ্রান্সকেই এগিয়ে রাখছেন, তবে নিঃসন্দেহে মাঠের খেলায় যে কেউ কাউকে একচুলও ছাড় দেবে না। ফ্রান্সের রক্ষণভাগ যদি স্পেনের ম্যাচের ভুলগুলো শুধরে নিতে পারে এবং ইংল্যান্ড যদি টুখেলের সমালোচিত কৌশল থেকে বেরিয়ে এসে নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দ ফিরে পায়, তবে মায়ামির ম্যাচটি হয়ে উঠতে পারে দারুণ উপভোগ্য।




