কারখানা শ্রমিকের গোলেই জার্মানি দ্বিতীয় রাউন্ডে

সংগৃহীত ছবি
আইভরি কোস্টের বিপক্ষে জয় পেতে বেশ খানিকটা বেগ পেতে হয়েছে জার্মানিকে। ফ্রাংক কেসির গোলে শুরুতে এগিয়ে গিয়েছিল আইভরি কোস্ট। অনেকের মনে শঙ্কা জেগেছিল, চারবারের চ্যাম্পিয়নরা গত দুই আসরের ব্যর্থতার বৃত্ত ভাঙ্গতে পারছে না এবারও! কিন্তু এমন সময় জার্মানির আশার দূত হয়ে আসেন স্টুটগার্ট ফরোয়ার্ড ডেনিজ উনডাফ। বদলি হিসেবে নেমে তিনি হারের মুখ থেকে রক্ষা করেন তার দলকে। তার জোড়া গোলেই এক যুগ পর দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করে জার্মানি।
বেশি দিন আগের কথা নয়, জার্মানি দলের ম্যানেজার ইউলিয়ান নাগেলসমানের প্রকাশ্য সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন ডেনিজ উনডাফ। এই ফরোয়ার্ডই এবারের আসরে জার্মানির অন্যতম প্রভাবশালী খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করছেন। দুটি ম্যাচেই বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমে ২৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড এখন পর্যন্ত তিনটি গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট করেছেন।
উনডাফের গল্প অধ্যবসায় ও সংকল্পের। বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চে পৌঁছানোর পথ মোটেই সহজ ছিল না। মাত্র ১৪ বছর বয়সে ভেরডার ব্রেমেন তাকে ছেড়ে দেয়। ক্লাবের মতে, তার শারীরিক গড়ন সাফল্যের জন্য যথেষ্ট নয়। কিন্তু স্বপ্ন ছেড়ে দেননি উনডাফ। একই সঙ্গে জীবন চালানোর জন্য তাকে কারখানায় কাজ করতে হয়েছে। সেই সময়ের কথা স্মরণ করে উনডাফ বললেন, ‘ব্রেমেন যখন ১৪ বছর বয়সে আমাকে বলল যে আমার ভবিষ্যৎ নেই, কারণ আমি বেশি ছোট— সেটি আমার হৃদয় ভেঙে দিয়েছিল। কিন্তু আমি আশা ছাড়িনি। ১৭ বছর বয়সে পরিবার ছেড়ে জার্মানির চতুর্থ বিভাগের ক্লাব হানোভারে যোগ দিই। সেখানে ফুটবলের পাশাপাশি একটি কারখানায় লেজার মেশিন চালিয়ে আট ঘণ্টা পূর্ণকালীন কাজও করতাম। ভোর ৪টায় উঠতাম, কারখানায় যেতাম, তারপর অনুশীলনে যেতাম, রাত ৮টায় বাড়ি ফিরতাম এবং পরদিন আবার একই রুটিন। শুধু ফুটবলের আয়ে জীবন চলত না, তাই বাঁচার জন্যই ওই কাজটা করতে হতো।’




