বিশ্বকাপ
৩৬ বছর পর স্কটল্যান্ডের জয়ে কে এই ২০ বছরের গ্যানন-ডোক?

সংগৃহীত ছবি
ম্যাচের তখন ৫৪ মিনিট। বলটিকে নিরাপদে সাইডলাইনের বাইরে পাঠিয়ে দিয়ে বুনো উল্লাসে মেতে উঠলেন বেন গ্যানন-ডোক। মুষ্টিবদ্ধ হাত বাতাসে ছুড়ে এমনভাবে চিৎকার করলেন, যেন বিশ্বকাপের ফাইনালে জয়সূচক গোলটি তিনিই করেছেন! আসলে পুরো স্কটল্যান্ড দলের কাছে হাইতির বিপক্ষে এই ম্যাচটি তো ফাইনালের চেয়ে কম কিছু ছিল না। বোস্টন স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে ছড়িয়ে থাকা হাজারো ‘টার্টান আর্মি’ (স্কটিশ সমর্থক) যখন দলের পারফরম্যান্স নিয়ে খানিকটা শঙ্কিত, তখনই ২০ বছর বয়সী এই উইঙ্গারের এমন আক্রমণাত্মক শরীরী ভাষা পুরো গ্যালারিতে জোগাল বিশ্বাসের জ্বালানি।
দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরেছে স্কটল্যান্ডের পুরুষ ফুটবল দল। আর হাইতিকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে ৩৬ বছর পর বিশ্বমঞ্চে প্রথম জয়ের স্বাদ পেল তারা। ম্যাচে স্কটল্যান্ডের হয়ে জয়সূচক গোলটি করেছেন অভিজ্ঞ জন ম্যাকগিন। দলে স্কট ম্যাকটমিনে কিংবা লরেন্স শ্যাঙ্কল্যান্ডের মতো তারকা ফুটবলাররা থাকলেও, বোস্টন স্টেডিয়ামে সব আলো কেড়ে নিলেন এক তরুণ। স্কটল্যান্ড যখন শেষবার বিশ্বকাপে খেলেছিল (১৯৯৮), তখন তার জন্মও হয়নি!
দুই বছর আগে জার্মানি ইউরোর স্কোয়াডে ডাক পেলেও চোটের কারণে শেষ মুহূর্তে বিমান মিস করেছিলেন গ্যানন-ডোক। গত নভেম্বরে ডেনমার্কের বিপক্ষে বাছাইপর্বের ম্যাচে যখন হ্যামস্ট্রিংয়ের মারাত্মক চোট নিয়ে মাঠ ছাড়েন, তখন স্কটিশ সমর্থকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছিল। এটি ছিল গত তিন বছরে তার ক্যারিয়ারের তৃতীয় বড় চোট।
তবে চোটের সেই অন্ধকার অধ্যায় পেছনে ফেলে বোর্নমাউথের এই উইঙ্গার নিজের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচেই দেখালেন কেন তাকে স্কটিশ ফুটবলের ভবিষ্যৎ বলা হচ্ছে। ডান প্রান্ত দিয়ে ম্যাচের শুরু থেকেই হাইতির রক্ষণভাগকে তছনছ করে দেন তিনি। প্রথমার্ধে ম্যাকটমিনের একটি শট পোস্টে লাগার পেছনেও অবদান ছিল তার। এরপর চে অ্যাডামসের নেওয়া একটি শট হাইতির গোলরক্ষক প্রতিহত করলে ফিরতি বলে গোল করে দলকে উল্লাসে ভাসান জন ম্যাকগিন।
মাত্র ১৬ বছর বয়সে সেল্টিক ছেড়ে লিভারপুলের মতো বড় ক্লাবে যোগ দিয়েছিলেন গ্যানন-ডোক। পরিবার ছেড়ে একা থাকা এবং চোটের কারণে মাঠের বাইরে থাকার দিনগুলোতে ভীষণ একাকীত্বে ভুগেছেন এই তরুণ। আর তখনই তিনি ফিরে যান ধর্মের কাছে। গ্যানন-ডোক বলেন, 'আমি ম্যাচের আগে প্রার্থনা করি। ড্রেসিংরুমে অনেক ধর্মের মানুষ থাকে বলে আমি একান্তে নিজের মতো করে বাইবেল পড়ি। এটি আমাকে মানসিকভাবে শক্ত ও শান্ত রাখে। এটা আমার ফুটবলেরও মূল ভিত্তি।'
ম্যাচের ৭৫ মিনিটে যখন গ্যানন-ডোককে তুলে নেওয়া হয়, তখন পুরো স্টেডিয়াম দাঁড়িয়ে তাকে করতালি দিয়ে অভিবাদন জানায়। সাবেক স্কটিশ উইঙ্গার প্যাট নেভিন তাঁর পারফরম্যান্সের প্রশংসা করে বলেন, 'আজ রাতে ও দুর্দান্ত খেলেছে।' সাবেক অধিনায়ক স্কট ব্রাউন যোগ করেন, 'একজন স্কটিশ খেলোয়াড়কে আপনি ঠিক যেভাবে দেখতে চান, ওই সেটাই।'
গ্যানন-ডোক মাঠ ছাড়ার কিছু পরেই মাঠে নামেন ১৯ বছর বয়সী ফিনলে কার্টিস। এই তরুণদের সুবিধা হলো, অতীতের টানা ব্যর্থতা বা ইউরোর হতাশার কোনো বোঝা তাদের কাঁধে নেই। তারা খেলেন একদম নির্ভীক ও স্বাধীনভাবে। ২০ বছর বয়সী গ্যানন-ডোক যেভাবে দলকে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন, তাতে এই তরুণকে ঘিরে আরও বড় স্বপ্ন দেখতেই পারে স্কটল্যান্ড।


