মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণে থাকলেই সহজ হবে কাজ

আর্জেন্টিনা ও অস্ট্রিয়া— দুই দলই জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করেছে। আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে আর্জেন্টিনা এবং জর্ডানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে অস্ট্রিয়া গ্রুপ টেবিলের যথাক্রমে প্রথম ও দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। আজকের ম্যাচের পর দুই দলের একটি করে ম্যাচ বাকি থাকবে। আমার বিশ্বাস, এই গ্রুপ থেকে এ দুই দল শেষ ৩২-এ খেলবে।
গত ম্যাচে লিওনেল স্কালোনির আর্জেন্টিনা ৪-৩-৩ ফরমেশনে খেললেও রালফ রাংনিকের অস্ট্রিয়া ৪-২-৩-১ ফরমেশনে মাঠে নেমেছিল। অভিজ্ঞ কোচ রালফ রাংনিকের অধীনে অস্ট্রিয়া মূলত হাই-প্রেসিং বা হাই ব্লক গেম খেলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে।
রাংনিক অত্যন্ত অভিজ্ঞ একজন কোচ এবং ওনার গেমপ্ল্যান ও স্ট্র্যাটেজি যদি শেষ ইউরোতেও দেখি, তাহলে দেখব যে, অস্ট্রিয়া ওপরের দিকে প্রেসিং করে এবং প্রতিপক্ষকে নিচ থেকে খেলা গোছাতে দিতে চায় না।
তাদের মূল স্ট্র্যাটেজি হলো প্রেসিং করে প্রতিপক্ষের বিল্ডআপ নষ্ট করা এবং মিডফিল্ডে একটি দমবন্ধ পরিস্থিতি তৈরি করা। আজকের ম্যাচে স্কালোনি শুরুর একাদশে কিছু কৌশলগত পরিবর্তন আনতে পারেন। গনসালো মন্তিয়েলের জায়গায় নাহুয়েল মোলিনা ও থিয়াগো আলমাদার পরিবর্তে হুলিয়ান আলভারেসকে শুরু থেকে খেলানো আর্জেন্টিনার জন্য বেশি কার্যকর হতে পারে। গত ম্যাচে দেখা গেছে, আর্জেন্টিনা ওপরে বল পজেশন হারালে লিওনেল মেসি ডান দিক থেকে ভেতরে ঢুকে লাউতারো মার্তিনেসের সঙ্গে টুইন করেন। তখন আলমাদা নিচে নেমে এনসো ফের্নান্দেস ও ম্যাক আলিস্টারের সঙ্গে ফ্ল্যাট ফোর-মিডফিল্ড তৈরি করেন, যেখানে দে পল চলে যান একদম রাইট উইংয়ে। ডিফেন্সিভ ট্রানজিশনে এই ফ্ল্যাট ফোর করার মূল উদ্দেশ্য হলো মেসিকে মাঠের ওপরের দিকের রানার জোন মুক্ত রাখা, যাতে বল জেতার সঙ্গে সঙ্গে তাকে পাস দেওয়া যায়।
অস্ট্রিয়ার নাম্বার নাইন কালাইজিস, অ্যাটাকিং মিডফিল্ডে সাবিৎজার, শ্লাগার, স্মিথ এবং দুই হোল্ডিং মিডফিল্ডার লাইমার ও সেইওয়ার্ল্ড যখন ওপরের দিকে হাই-প্রেস করবে, তখন আর্জেন্টিনার এনসো, ম্যাক আলিস্টার, দে পল ও আলভারেসকে খুব দ্রুত বল সার্কুলেট করতে হবে। রাংনিকের প্রেসিং ভাঙার একমাত্র উপায় হলো কুইক পাস বাড়ানো। বল দ্রুত সার্কুলেট করে মেসির কাছে পৌঁছানো মাত্রই আলভারেস বা ম্যাক আলিস্টারকে পেছন থেকে এসে তাকে সমর্থন দিতে হবে এবং লাউতারো স্পেস তৈরি করবেন।
অস্ট্রিয়ার দুই ফুলব্যাক (পোশ ও মায়োনি) হাই-প্রেসের কারণে ওপরে উঠে এলে ডিফেন্স লাইনের পেছনে প্রচুর ফাঁকা জায়গা তৈরি হবে। আর্জেন্টিনা চাইবে কুইক সার্কুলেশনের মাধ্যমে বলটি ভার্টিক্যালি ওয়াইড জোনে মেসির কাছে পাঠাতে, যা অস্ট্রিয়ার জন্য মূল ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। পাশাপাশি অস্ট্রিয়া সেটপিসে অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং শারীরিক উচ্চতার সুবিধা নিতে পছন্দ করে। তাই লিসান্দ্রো মার্তিনেস ও ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোকে প্রতিপক্ষের এরিয়াল ডুয়েলগুলো নিউট্রালাইজ করার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
খেলার মূল নিয়ন্ত্রণ থাকবে মিডফিল্ডে, যাকে আমরা ইঞ্জিন রুমও বলতে পারি। আলভারেস খেললে তাকে দ্রুত বল রিসাইকেল করে ভার্টিক্যাল পাসের মাধ্যমে মেসির কাছে পৌঁছাতে হবে এবং একই সঙ্গে মেসি ও লাউতারোকে সমর্থন দিতে ওপরে উঠতে হবে। অস্ট্রিয়া ট্রানজিশনে দারুণ কার্যকর দল হলেও আর্জেন্টিনা যদি মিডফিল্ডের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে এবং মেসি যদি নিজের চেনা ছন্দে থাকেন, তবে এই ম্যাচ জয় আর্জেন্টিনার জন্য কঠিন হবে না।




