বিশ্বকাপ
২০০২ বিশ্বকাপের সঙ্গে অনেক কিছু মিলে যাচ্ছে এই ব্রাজিলের!

সংগৃহীত ছবি
ফুটবল বিশেষজ্ঞরা এবার ব্রাজিলকে ফেবারিটের তালিকায় রাখেননি। পেছনে ঠেলে দিয়েছেন ‘ডার্ক হর্স’ ট্যাগ দিয়ে। কিন্তু বিশ্লেষণে গেল এই ব্রাজিলের অনেক মিল খুঁজে পাবেন ২০০২ বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন দলের সঙ্গে।
ব্রাজিলকে বিশ্বকাপ জেতার জন্য কখনো ২৪ বছরের বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি। শিরোপা খরার ২৪ বছর পার করে এবার যুক্তরাষ্ট্রে গেছে সেলেসাওরা। ১৯৭০ এ ট্রফি জেতার ঠিক ২৪ বছর পর তারা ১৯৯৪ বিশ্বকাপ জিতেছিল যুক্তরাষ্ট্রে। রোজ বোল স্টেডিয়ামে সেবার সোনালী ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছিল তারা। তাদের বিশ্বাস, এবার মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনাল শেষেও সেই কাঙ্খিত ট্রফি ধরা দেবে ভিনি-রাফিনিয়াদের হাতে।
চুলচেরা বিশ্লেষণে হয়তো অনেক দূর্বলতা ধরা পড়ছে তবে এই দলে আগের তারকাদের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের ভালো সমন্বয় ঘটেছে। নেইমার, কাসেমিরো, দানিলোর সঙ্গে আছেন এই সময়ের সেরা তিন তারকা ভিনিসিয়ুস, রাফিনিয়া, মার্কিনিয়োস। তিন জনই ক্লাবে চমৎকার খেলছেন এখন। এর সঙ্গে যোগ করে নিতে পারেন নতুন প্রজন্মের সম্ভাবনাময়ী ফুটবলার এন্দ্রিক, রায়ান ও ইগর থিয়াগোকে। কয়েকটি প্রজন্মকে একসঙ্গে মিলিয়ে দলটিকে ভারসাম্যপূর্ণ করে তোলার কাজ করেছেন কার্লো আনচেলত্তি।
এই ইতালিয়ান কোচ নকআউট টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত ক্যারিশমেটিক। চ্যাম্পিয়নস লিগে তার মতো কেউ সফল হতে পারেননি। জিতেছেন সর্বোচ্চ ৫টি শিরোপা। পাশাপাশি ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ ফুটবল লিগ জেতার রেকর্ডও তার। যাদের দিয়ে ক্লাব ফুটবলে সাফল্য পেয়েছেন, সেই ভিনিসিয়ুস-কাসেমিরোদের নিয়েই্ তার বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হচ্ছে কাল ভোরে মরক্কোর বিপক্ষে।
এই ইতালিয়ানের হাতে গড়া ব্রাজিল দলের আরেকটা বড় সুবিধা হলো, তারা ফেবারিটের তালিকায় না থাকা। তাতে খেলোয়াড়দের ওপর চাপ থাকে কম। ২০১৪ সালে স্বাগতিক সুবিধার সঙ্গে নেইমার তার তুমুল ফর্মে ছিল বলে প্রত্যাশাও বেড়ে গিয়েছিল অনেক। সেই চাপে শেষ হয়েছিল তারা সেমিফাইনালে গিয়ে। পরের দুটো বিশ্বকাপে বাছাই পর্বে দারুন খেলে অনেক প্রত্যাশা জাগিয়ে গিয়েছিল মূল টুর্নামেন্টে।
তবে ২০০২ বিশ্বকাপে অনেক খারাপ খেলে তারা বাছাই পর্ব উতরেছিল। যাত্রাপথেও দলের দায়িত্ব ঘুরেছিল চার কোচের হাতে। লুক্সেমবার্গো, এমারসন লেয়াও, কানদিনহো ও ফেলিপে স্কলারি। এবারও রামন, দিনিজ, দোরিভালের হাতে ঘুরে শেষমেষ ব্রাজিলের দায়িত্ব ওঠে আনচেলত্তির হাতে।
তাছাড়া ২০০২ বিশ্বকাপের আগেও ইনজুরির কারণে রোনালদোর সমার্থ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। পরে মাঠে সব সমালোচনার জবাব দিয়ে ‘দ্য ফেনোমেনন’ জিতিয়েছেন পঞ্চম বিশ্বকাপ। এবার নেইমারকে নিয়েও যাবতীয় সন্দেহ-শঙ্কা। ইনজুরি কাটিয়ে কি এই তারকা পারবেন ব্রাজিলের হেক্সা মিশন সফল করতে !




