অ্যাটাকিং ফুটবলেই এই দল সুরভি ছড়াবে

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বিশ্বকাপ জুড়ে ‘আগামীর সময়’এর সঙ্গে থেকে বিভিন্ন ম্যাচের বিশ্লেষণ করেছেন সাবেক ফুটবলার ও অভিজ্ঞ কোচ জুলফিকার মাহমুদ মিন্টু। সেই অভিজ্ঞতা থেকে সাজিয়েছেন এ বিশ্বকাপে তার পছন্দের একাদশ—
এ বিশ্বকাপে খেলা দলগুলোর পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে চেষ্টা করেছি একটা সেরা একাদশ নির্বাচন করতে। যদিও এটা ভীষণ কঠিন কাজ, তারপরও আমি চেষ্টা করেছি নিজের মতো করে একটা নির্দিষ্ট ফরমেশন এবং সিস্টেমে ১১ জনকে বেছে নিতে। আমার পছন্দের একাদশকে ৪-১-২-৩ ফরমেশনে খেলাতে চাইব।
গোলকিপার হিসেবে দুজন পছন্দ ছিল— এমিলিয়ানো মার্তিনেস ও উনাই সিমন। দুজনের মধ্যে উনাই সিমনকে বেছে নিয়েছি। তবে কখনো কখনো তিনি সুইপার হিসেবেও খেলেছেন। বাইরে এসে বিপজ্জনক বলগুলো ডেস্ট্রয় করা, নিচে থেকে খেলা বিল্ডআপ করা এবং সবচেয়ে কম গোল হজম করে স্পেনকে ফাইনালে আনাই সিমনকে এগিয়ে রাখছে।
সেন্টারব্যাক পজিশনে প্রথম পছন্দ স্পেনের পাউ কুবারসি। পাসিং অ্যাকুরেসি, নিজ থেকে পজেশন ধরে রাখার শুরু, ওয়ান অন ওয়ান ডিফেন্ডিংয়ে পারদর্শী থাকা। টুর্নামেন্টে কুবারসি ভীষণ ধারাবাহিক। তার সঙ্গে ক্রিস্তিয়ান রোমেরোকে রাখব। এখানে উপামেকানোও ভাবনায় ছিল। তবে রোমেরোর সেটপিস কাজে লাগিয়ে স্কোরিং কোয়ালিটিকে গুরুত্ব দিয়েছি। দলের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তিনি গোল করে কার্যকর ভূমিকা রেখেছেন। এক্ষেত্রে ফ্রান্সের উপামেকানো কিছুটা পিছিয়ে রয়েছেন।
রাইট ফুলব্যাক পজিশনে আমার পছন্দ মরক্কোর অধিনায়ক আশরাফ হাকিমি। মরক্কো সেমিফাইনালে আসতে না পারলেও তার পারফরম্যান্সের বিশাল ভূমিকা ছিল। পেছন থেকে খেলা বিল্ডআপ করে থাকেন তিনি এবং ব্রাহিম দিয়াজ। পজিশন সুইচ করে ব্যাকলাইন থেকে হাকিমি বল নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং ফ্ল্যাঙ্ক থেকে ক্রস করেন। তা ছাড়া তার উইথ দ্য বল রান ভীষণ কার্যকর।
লেফট ফুলব্যাক পজিশনেও কুকুরেয়াকে নিতে একদমই ভাবতে হয়নি আমাকে। যেহেতু আমি ৪-১-২-৩ ফরমেশনে খেলব, অবশ্যই দুই ফুলব্যাককে অ্যাটাকে অংশ নিতে হবে। কুকুরেয়ার পারফরম্যান্স এক কথায় অনবদ্য। অনেক ম্যাচেই তিনি ক্রস করে গোল করিয়েছেন। ওয়াইড মিডফিল্ডারের সঙ্গে কম্বিনেশনটা হয় কুকুরেয়ার সঙ্গে।
হোল্ডিং মিডফিল্ড পজিশনে যেহেতু আমি একজন খেলাব, সেখানে স্পেনের রোদ্রি আমার একমাত্র পছন্দ। পুরো আসরে স্পেনের খেলা বিল্ডআপ করা, গতি নিয়ন্ত্রণ করা, সঠিক পজিশনে থেকে বল পজেশনে ভূমিকা রাখার কাজগুলো দারুণভাবে করেছেন তিনি। ব্যাক ফোর, গোলকিপারের সঙ্গে বিল্ড করে সঠিক পজিশনে পৌঁছে পাসিং গেমে খেলাটাকে নিয়ন্ত্রণ করেছেন তিনি।
এবার আসা যাক দুজন অ্যাডভান্স মিডফিল্ডার প্রসঙ্গে। নাম্বার এইট পজিশনে আমার পছন্দ জুড বেলিংহাম। এই মিডফিল্ডারের পারফরম্যান্স ইংল্যান্ডকে সেমিফাইনালে আনতে বড় ভূমিকা রেখেছে। গোল তো আছেই এবং নিচে থেকে খেলা বিল্ডআপ করা, মিডফিল্ডে ইন বিটুইন লাইনে থেকে বল নিয়ন্ত্রণ করা এবং উইঙ্গারদের সঙ্গে বা নাম্বার নাইনের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনে তিনি পুরোপুরি সফল।
নাম্বার টেন পজিশনে অটোমেটিক চয়েস লিওনেল মেসি। তাকে নিয়ে বেশি কিছু বলার প্রয়োজন নেই। উনি এমন একজন খেলোয়াড়, যার উপস্থিতি যেকোনো প্রতিপক্ষের জন্য বড় আতঙ্কের। যেকোনো সময় খেলার গতি-প্রকৃতি পরিবর্তন করে দিতে সক্ষম। এই বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনার মূল চালিকাশক্তি তিনি এবং তাকে কেন্দ্র করেই আর্জেন্টিনার মূল আক্রমণগুলো রচিত হয়।
রাইট ওয়াইড মিডফিল্ডার হিসেবে দুটি নাম ছিল। উসমান দেম্বেলে ও লামিন ইয়ামালের মধ্যে আমি ইয়ামালকে বেছে নিচ্ছি। ইয়ামাল হয়তো দেম্বেলের মতো অত গোল করেননি; তবে ফ্ল্যাঙ্ক অপারেশন ও ইনসাইড-আউটসাইড এরিয়া থেকে ক্রস করা, বক্সে ঢুকে স্ট্রাইক করার ক্ষেত্রে তিনি যথেষ্ট কার্যকর।
লেফট ওয়াইড মিডফিল্ডার হিসেবে কিলিয়ান এমবাপ্পেও আমার কাছে অটোমেটিক চয়েস। বিশ্বকাপে এ মুহূর্তে ৮ গোল করে তিনি মেসির সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতা এখনো। বাঁ দিকে ভীষণ কার্যকর ও স্কোরিং জোনে তার চেয়ে ভালো বিকল্প আর কেউ হতে পারে না।
নাম্বার নাইন পজিশনেও আমার কাছে দুটি নাম ছিল। হ্যারি কেইন ও আর্লিং হলান্ড। তবে আমি সবকিছু বিবেচনা করে হলান্ডকে রাখব একাদশে। বিশ্বকাপে তার গোল সাতটি এবং নরওয়েকে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত আসতে সবচেয়ে অবদান রেখেছেন।
কেইনও ৬ গোল করেছেন। তবে তার নিচে নেমে লিঙ্কআপ করার প্রবণতা রয়েছে। এই ফরমেশনে স্ট্রাইকারকে আমি বেশি নিচে নামাতে চাচ্ছি না। যখন বেলিংহাম ও মেসির মতো অ্যাডভান্স মিডফিল্ডার ও রোদ্রি থাকেন, তখন আমি চাইব নাম্বার নাইন যাতে প্রাইম স্কোরিং এরিয়াতেই বেশি সময় থাকেন।
আমার বিশ্বাস, এই দলটি বেশ ভারসাম্যপূর্ণ এবং যথেষ্ট আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলবে, যারা যেকোনো একাদশকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারবে।




