আর্জেন্টিনার নকআউট সমীকরণ ও সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ

সংগৃহীত ছবি
বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে দুর্দান্ত সূচনা করেছে আর্জেন্টিনা। এই বড় জয়ে ৩ পয়েন্ট এবং +৩ গোল ব্যবধান নিয়ে ‘জে’ গ্রুপের শীর্ষে আছে আলবিসেলেস্তেরা। সমান পয়েন্ট নিয়েও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় স্থানে আছে অস্ট্রিয়া, যারা জর্ডানকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে। গ্রুপ পর্বে এখনো দুটি ম্যাচ বাকি লিওনেল স্কালোনির দলের। আজ সোমবার তাদের প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়া এবং আগামী শনিবার শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হবে জর্ডানের।
এবারের বর্ধিত বিশ্বকাপের নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুটি দল এবং সেরা আটটি তৃতীয় স্থান অধিকারী দল জায়গা পাবে শেষ ৩২-এর মঞ্চে। নকআউট পর্বের টিকিট নিশ্চিত করতে আর্জেন্টিনার সামনে কী কী সমীকরণ কাজ করছে, এবং তাদের সামনে কোন প্রতিপক্ষ অপেক্ষা করছে— তা দেখে নেওয়া যাক:
১. আর্জেন্টিনা যদি অস্ট্রিয়া ও জর্ডান— উভয় দলকেই হারাতে পারে, তবে পূর্ণ ৯ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে পরের রাউন্ডে যাবে। সে ক্ষেত্রে শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ হবে গ্রুপ ‘এইচ’-এর রানার্সআপ দল (যে গ্রুপে আছে স্পেন, উরুগুয়ে, সৌদি আরব ও কেপ ভার্দে)।
২. বাকি দুই ম্যাচের যেকোনো একটিতে জিতলেই আর্জেন্টিনার পয়েন্ট দাঁড়াবে ৬। এই পয়েন্ট নিয়ে শেষ ৩২-এ যাওয়া প্রায় নিশ্চিত। একটি বিশেষ সমীকরণে আজই নকআউট নিশ্চিত হতে পারে মেসিদের। যদি আজ আর্জেন্টিনা অস্ট্রিয়াকে হারায় এবং গ্রুপের অন্য ম্যাচে আলজেরিয়া ও জর্ডান ড্র করে, তবে এক ম্যাচ হাতে রেখেই গাণিতিকভাবে পরের রাউন্ড নিশ্চিত হবে আলবিসেলেস্তেদের। কোনো কারণে স্কালোনির দল যদি গ্রুপ ‘জে’-র দ্বিতীয় দল হিসেবে পরের রাউন্ডে যায়, তবে তাদের মুখোমুখি হতে হবে গ্রুপ ‘এইচ’-এর চ্যাম্পিয়ন বা শীর্ষ দলের।
৩. যদি আর্জেন্টিনা বাকি দুই ম্যাচ থেকেই ১টি করে পয়েন্ট পায়, তবে তাদের মোট পয়েন্ট হবে ৫। বিশ্বকাপের ইতিহাসে গ্রুপ পর্বে ৫ পয়েন্ট পাওয়া দলগুলোর বিদায় নেওয়ার নজির নেই বললেই চলে। কোনো অলৌকিক ও অবিশ্বাস্য সমীকরণ না ঘটলে এই ৫ পয়েন্ট নিয়েই আর্জেন্টিনা শীর্ষ ৩২-এ চলে যাবে।
৪. যদি আর্জেন্টিনা এক ম্যাচে ড্র করে এবং অন্যটি হেরে যায়, তবে তাদের পয়েন্ট হবে ৪। সেরা তৃতীয় স্থান অধিকারী দলগুলোর পরের রাউন্ডে যাওয়ার ক্ষেত্রে ৪ পয়েন্ট সাধারণত যথেষ্ট। তবে সে ক্ষেত্রে আলজেরিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে পাওয়া +৩ গোল ব্যবধানটি আর্জেন্টিনার জন্য লাইফলাইন বা বড় সহায় হতে পারে।
৫. বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের জন্য পঞ্চম সমীকরণটির প্রয়োজন হবে না বলেই ধরে নেওয়া যায়। কারণ, তারা দুর্দান্ত ফর্মে আছে। সমীকরণ অনুযায়ী, বাকি দুই ম্যাচই হেরে গেলে তাদের পয়েন্ট ৩-এই আটকে থাকবে। তখন তাদের তাকিয়ে থাকতে হবে অন্য গ্রুপগুলোর ফলের দিকে। সেরা আটটি তৃতীয় স্থান অধিকারী দলের একটি হয়ে শেষ ৩২-এ যাওয়ার ক্ষীণ সুযোগ তখনো থাকবে, তবে তা হবে অত্যন্ত কঠিন ও ভাগ্যনির্ভর।
যদি গ্রুপ পর্ব শেষে দুই বা ততোধিক দলের পয়েন্ট সমান হয়, তবে টাই হওয়া দলগুলোর মধ্যকার হেড-টু-হেড ম্যাচ বা নিজেদের লড়াইয়ে অর্জিত পয়েন্ট, হেড-টু-হেড ম্যাচে গোল ব্যবধান এবং হেড-টু-হেড ম্যাচে করা গোলসংখ্যা বিবেচনায় আনা হবে। এতেও মীমাংসা না হলে পুরো গ্রুপ পর্বের পারফরম্যান্স দেখা হবে। যেমন— গ্রুপের সব ম্যাচ মিলিয়ে গোল ব্যবধান, মোট গোলসংখ্যা, ফেয়ার প্লে পয়েন্ট এবং ফিফা র্যাঙ্কিং।
-টিওয়াইসি স্পোর্টস অবলম্বনে






