মেসি প্রসঙ্গে রোনালদো
অন্যকে নিয়ে ভাবার সময় নেই

উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ৫-০ ব্যবধানের বিধ্বংসী জয়ে জোড়া গোল করেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ফুটবল ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে গড়েছেন টানা ছয়টি বিশ্বকাপে গোল করার অবিস্মরণীয় কীর্তি। রাজকীয় পারফরম্যান্সের সমালোচকদের মুখ বন্ধ করার পর মিক্সড জোনে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মেজাজ হারালেন পর্তুগিজ মহাতারকা। তার মেজাজ হারানোর কারণ – মেসি।
রোনালদোর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি লিওনেল মেসি চলতি বিশ্বকাপে দুই ম্যাচে পাঁচ গোল করেছেন। অন্যদিকে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে রোনালদো ছিলেন মলিন। গতকাল ম্যাচ শেষে মিক্সড জোনে তার কাছে সাংবাদিকদের প্রথম প্রশ্ন ছিল- বিশ্বকাপে পরবর্তী ধাপগুলোর কোনো একটিতে মেসির মুখোমুখি হতে চান কি না? সেটা হতে পারে দুজনেরই সম্ভাব্য বিদায়ী ম্যাচ। শুরুতে ধৈর্য্য সহকারেই জবাব দেন রোনালদো, ‘কী উত্তর দেব বুঝতে পারছি না, কারণ প্রশ্নটাই অর্থহীন। এমনটা হলে তো দারুণ হতো। তবে সবচেয়ে বড় বিষয় ছিল গ্রুপ পর্ব পার হতে ম্যাচটা জেতা এবং সামনের লড়াইয়ের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করা। আমরা জানি, কলম্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটা বেশ কঠিন হবে। আমি ভালো খেলেছি, গোল পেয়েছি এবং দলকে সাহায্য করতে পেরেছি; পুরো দলই আজ দারুণ খেলেছে’
কঙ্গোর বিপক্ষে ড্র হওয়া প্রথম ম্যাচে অফ-ফর্মের কারণে রোনালদোকে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। তাকে একাদশে রাখার যৌক্তিকতা নিয়েও আলোচনা আহচ্ছিল। সেই ম্যাচের পর গত কয়েকটা দিন কীভাবে কেটেছে, তা অকপটে স্বীকার করেছেন ৪-১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড, ‘গত একটা সপ্তাহ আমার জন্য ভীষণ কঠিন আর অন্ধকার ছিল। চারপাশের কথা শুনে মনে হচ্ছিল আমি যেন ফুটবল থেকেই অবসর নিয়ে নিয়েছি!’ মিক্সড জোনে আবারও ঘুরেফিরে আসে মেসি প্রসঙ্গ। একপর্যায়ে বিরক্ত হয়ে রোনালদো বলেন, ‘এই প্রশ্নের কোনো অর্থই হয় না!’ রোনালদো যখন মিক্সড জোন ছেড়ে চলে যাচ্ছিলেন, তখন শেষ চেষ্টা হিসেবে এক সাংবাদিক দূর থেকে চিৎকার করে বলেন, ‘লিওনেল মেসি হ্যাটট্রিক করেছেন... এমবাপ্পেও গোল পেয়েছেন...’। এবার আর নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি পর্তুগিজ যুবরাজ। কিছুটা ক্ষুব্ধ স্বরেই পাল্টা জবাব দেন, ‘অন্যরা কে কী করল, তা নিয়ে আমার বিন্দুমাত্র মাথাব্যথা নেই।’
চলতি বিশ্বকাপে ২ ম্যাচে ৫ গোল করে যেখানে মেসি লাইমলাইটে, সেখানে প্রথম ম্যাচে গোলশূন্য থাকার পর দ্বিতীয় ম্যাচে জোড়া গোল পেয়ে বুক ভরে শ্বাস নিচ্ছেন রোনালদো। ২ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট পাওয়া পর্তুগালের নকআউট পর্ব এখনো নিশ্চিত না হলেও সিআরসেভেন বুঝিয়ে দিলেন—বিশ্বমঞ্চে নিজের রাজত্ব ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ে তিনি কতটা মরিয়া। সেখানে অন্য কারোর আলোচনার বিন্দুমাত্র জায়গা নেই।






