ফুটবলে প্রথম ‘ডেলাইট’ অফসাইড গোল

কানাডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে হয়েছে ‘ডেলাইট’ অফসাইড গোল। ছবি: সংগৃহীত
ইতিহাসই হলো কানাডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে। প্রথমবার কোনো পেশাদার ম্যাচে দেখা মিলল ‘ডেলাইট’ অফসাইড গোলের।
শনিবার কানাডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) প্যাসিফিক এফসি ও হ্যালিফ্যাক্স ওয়ান্ডারার্সের ম্যাচটি শেষ হয়েছে ২-২ গোলের সমতায়। ম্যাচের ফলের চেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে প্যাসিফিকের ফরোয়ার্ড আলেহান্দ্রো দিয়াসকে নিয়ে। ২০তম মিনিটে তার করা গোলটি ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ডের (আইএফএবি) প্রচলিত নিয়মে অফসাইডে বাতিল হতো। কিন্তু সিপিএলে ফিফার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে পরীক্ষামূলক ‘ডেলাইট’ অফসাইড নিয়মে এটা বৈধ।
প্রচলিত অফসাইড নিয়ম অনুযায়ী, কোনো আক্রমণকারী খেলোয়াড়ের শরীরের যেকোনো অংশ— মাথা, বুক বা পা দ্বিতীয় সর্বশেষ রক্ষণকারীর চেয়ে এগিয়ে থাকলেই তিনি অফসাইড। কিন্তু নতুন ডেলাইট নিয়মে আক্রমণকারীর পুরো শরীর সম্পূর্ণভাবে রক্ষণকারীর সামনে না গেলে তাকে অফসাইড দেওয়া যাবে না। আক্রমণকারী ও দ্বিতীয় সর্বশেষ রক্ষণকারীর মাঝে স্পষ্ট ফাঁক বা ডেলাইট না দেখা গেলে আক্রমণকারী অনসাইড থাকবেন।
এই পরীক্ষার লক্ষ্য হলো আক্রমণের গতি বাড়ানো। সিপিএল কমিশনার জেমস জনসন বলেছেন, 'এই নিয়ম আরও আক্রমণাত্মক খেলা, আরও গোল এবং আইনের ক্ষেত্রে আরও স্বচ্ছতার কথা বলে।'
এই ধারণার আবিষ্কারক সাবেক আর্সেনাল ম্যানেজার আর্সেন ওয়েঙ্গার, যিনি ফিফার গ্লোবাল ফুটবল ডেভেলপমেন্ট বিভাগের প্রধান। তিনি চলতি বছরের জানুয়ারিতে আইএফএবির কাছে এই প্রস্তাব উপস্থাপন করেন।
সিপিএলই বিশ্বের প্রথম পেশাদার লিগ যেখানে এই বিকল্প অফসাইড নিয়মের আনুষ্ঠানিক পরীক্ষা চলছে। এর আগে ২০২৩ সালে ইতালির অনূর্ধ্ব-১৮ চ্যাম্পিয়নশিপে এবং নেদারল্যান্ডসের কিছু যুব টুর্নামেন্টে সীমিত পরিসরে এই নিয়ম পরীক্ষা করা হয়েছিল।
বছর শেষে পরীক্ষার ফলাফল আইএফএবিতে পেশ করা হবে। সফল হলে ২০২৭-২৮ মৌসুম থেকে ইউরোপসহ বিশ্ব ফুটবলে এই নিয়ম কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

