টটেনহাম কি অবনমন এড়াতে পারবে?

সংগৃহীত ছবি
শেষবার যখন টটেনহাম হটস্পার অবনমনে পড়েছিল, সমর্থকের বড় একটা অংশের জন্মই হয়নি! যে স্পার্স কয়েক মৌসুম আগেও লড়েছে শিরোপার জন্য, সেই দলই এখন অবনমনের দ্বারপ্রান্তে। মৌসুমের শেষপ্রান্তে এখন একটাই প্রশ্ন, টটেনহাম কি অবনমন এড়াতে পারবে?
১৯৭৬-৭৭ মৌসুমে সবশেষ দ্বিতীয় বিভাগে নেমে যেতে হয়েছিল টটেনহামকে। প্রথম বিভাগে ফেরার পর দীর্ঘ ৫০ বছর কখনোই অবনমনের তিক্ত স্বাদ পেতে হয়নি স্পার্সদের। গত এক দশকে তারা হয়ে উঠেছিলেন ইংল্যান্ডের সেরা ৬ ক্লাবের একটি। গ্যারেথ বেল থেকে হিউ মিন সন, তারকা ফুটবলাররা টটেনহামকে নিয়মিতই ইউরোপিয়ান ফুটবলে পৌঁছে দিয়েছেন।
তবে এই মৌসুমে দেখা গেছে ভিন্ন এক টটেনহামকে। মৌসুমের শুরু থেকেই চরমভাবে ধুঁকছে লন্ডনের এই ক্লাবটি। অবস্থা তো এমন দাঁড়িয়েছে, টানা ১১৭ দিন জয়হীন ছিল তারা! গত ২৫ এপ্রিল উলভসে হারিয়ে হারের বৃত্ত থেকে বের হয় স্পার্স। তবুও অবনমন অঞ্চল থেকে বের হতে পারেনি তারা।
অন্ধকার টানেলে পথ হারিয়ে ফেলা টটেনহাম অবশেষে খুঁজে পাচ্ছে আশার আলো। গত রাতে অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে ২-১ গোলের এক জয়ে বহুদিন পর অবনমন অঞ্চল থেকে বের হয়েছে সনের দল। ২৫৩ দিন পর লিগে টানা দুই জয়ের স্বাদ পেল তারা।
৩৫ ম্যাচে ৩৭ পয়েন্ট নিয়ে ১৭তম অবস্থানে আছে রবার্তো ডি জারবির দল। ৩৬ পয়েন্ট নিয়ে ১৮তম অবস্থানে থাকা ওয়েস্ট হ্যাম অবশ্য তাদের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে। জারবি যখন দলের দায়িত্ব নেন, তখন টানা ১৫ ম্যাচে জয়হীন ছিল টটেনহাম। দায়িত্ব নেওয়ার সময় টানা ১৫ ম্যাচ জয়হীন ছিল দল।
জারবির মতে, দীর্ঘদিন জয় না পাওয়া ছিল মূলত মানসিক বাধা। টটেনহাম আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে বলেই বিশ্বাস তার, ‘ফুটবলারদের পারফরম্যান্সে আমি খুবই খুশি। এই মৌসুমে তারা কতটা কষ্টের মধ্যে দিয়ে গেছে, সেটা আমি জানি। প্রবল চাপ সামলানোটা আসলে মানসিকতার ব্যাপার। বল পজেশনে আমরা ভালো খেলেছি। যখন স্পেসে আক্রমণ করা দরকার ছিল বা শট নেওয়া দরকার ছিল, আমরা সেটাও করেছি। আমার কাজ হলো তাদের সাহায্য করা, দলকে বোঝানো যে তারা আসলে কী করতে সক্ষম।’
টটেনহামের বাকি আর তিনটি ম্যাচ। পরের ম্যাচ নিজেদের মাঠে, প্রতিপক্ষ লিডস ইউনাইটেড। এরপর চেলসির মাঠে অ্যাওয়ে ম্যাচ। টটেনহামের মৌসুম শেষ হবে এভারটনের বিপক্ষে ঘরের মাঠের ম্যাচ দিয়ে। নিজেদের ম্যাচে জিতলেই অবনমন নিয়ে ভাবতে হবে না স্পার্সের।
টটেনহাম কি শেষ পর্যন্ত অবনমনের লজ্জা থেকে বেঁচে যাবে? নাকি ৫০ বছর পর দ্বিতীয় বিভাগে নেমে যাবে ঐতিহ্যবাহী এই ক্লাবটি?



