১ লাখ টাকা ও ক্রীড়া কার্ড পেলেন সাফজয়ীরা

সাফজয়ীদের সংবর্ধনা ও আর্থিক পুরস্কার দিয়েছে সরকার। ছবি: আগামীর সময়
মালদ্বীপে ভারতকে হারিয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জেতা বাংলাদেশ দলকে আজ জাতীয় ক্রীড়া দিবসে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা ও আর্থিক পুরস্কার দিয়েছে সরকার। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিজয়ী দলের প্রতিটি খেলোয়াড় ও কর্মকর্তার হাতে নগদ এক লাখ টাকা এবং ক্রীড়া কার্ড তুলে দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। পুরস্কার হাতে পেয়ে উচ্ছ্বসিত ছিল পুরো দল।
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী সাফ জয়ী যুবাদের প্রশংসা করেন এবং অভিনন্দন জানান। তিনি এই জয়ের গুরুত্ব উল্লেখ করে খেলোয়াড়দের পাশে থাকার ঘোষণা দেন,’এই জয় পুরো জাতির জন্য গর্বের এবং খেলোয়াড়দের সকল প্রয়োজনে আমরা পাশে থাকব।‘ এছাড়া তাদের সব প্রয়োজন পূরণের আশ্বাস দেন তিনি।
বক্তব্য শেষে তিনি বিজয়ী দলের খেলোয়াড় ও স্টাফদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। সরকারের কাছ থেকে স্বীকৃতির প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে অধিনায়ক মিঠু চৌধুরী এই বিজয়কে দেশের ফুটবলের এক নতুন সূচনা হিসেবে উল্লেখ করেন, ‘নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রথম দল হিসেবে আমরা শিরোপা জিতলাম। আমরা এই ট্রফিটা সরাসরি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দিতে চাই। আমরা উনার সঙ্গে দেখা করে এই অর্জনের আনন্দ ভাগ করে নিতে চাই।‘ সেই সঙ্গে বাফুফের বর্তমান নেতৃত্বের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মিঠু।
শিরোপা জয়ের অন্যতম নায়ক রোনান সুলিভানও অনুষ্ঠানে বেশ উচ্ছ্বসিত ছিলেন। অধিনায়ক মিঠু চৌধুরী তাকে দলের অপরিহার্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন। পুরস্কার হাতে পেয়ে সুলিভান বাফুফে এবং বাংলাদেশের সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাফুফের সভাপতি তাবিথ আউয়াল, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুব-উল-আলম, ওয়ার্ল্ড আর্চারি এশিয়ার সভাপতি কাজী রাজিব উদ্দিন আহমেদ চপল, বিসিবির পরিচালক নাজমুল আবেদীন ফাহিম এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী দেশের ক্রীড়া সংগঠকদের ত্যাগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। স্মৃতিকাতর সাবেক এ ফুটবল তারকা বলেন, ফুটবল ও ক্রিকেটের মতো গুটিকয়েক ফেডারেশন বাদে অধিকাংশ ফেডারেশনের অবস্থাই জরাজীর্ণ, অথচ একটা সময় এমন অনেক নিবেদিতপ্রাণ সংগঠক ছিলেন যাঁরা স্ত্রীর গহনা কিংবা নিজের গাড়ি বিক্রি করে খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক পরিশোধ করেছেন, 'গুণীদের যথাযথ সম্মান দিলে দেশে ভবিষ্যতে আরও অনেক গুণী মানুষের জন্ম হবে।'
এজন্য তিনি ফেডারেশনগুলোকে স্বাবলম্বী করার রূপরেখা তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় একটি টেকসই কর্পোরেট সিস্টেম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন ব্যাংক ও কর্পোরেট হাউসের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং সাড়াও মিলেছে ইতিবাচক। অনুদানের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘোরার যে পুরোনো সংস্কৃতি, তার চিরঅবসান ঘটানোই এখন সরকারের লক্ষ্য।‘















