মেসির নামটাও ভুল জানত আর্জেন্টিনা

লিওনার্দো মেচ্চি (Mecci) থেকে লিওনেল মেসি (Messi)! ২০০৪ সালের এপ্রিলে বার্সেলোনার ফুটবল প্রশাসনের কাছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন থেকে পাঠানো ফ্যাক্সটিতে লেখা ছিল ‘লিওনার্দো মেচ্চি’। আর্জেন্টাইন এই খেলোয়াড়কে নিয়ে স্পেনের আগ্রহ দেখে তড়িঘড়ি করে ‘ভুল নামে’ ডেকে পাঠানো হয় তাকে।
লা মাসিয়ায় গড়ে ওঠা সেই উদীয়মান তরুণ মেসি ১৭ বছর বয়সে আর্জেন্টিনার বয়সভিত্তিক দলের ডাকে আসেন বুয়েনস এইরেসের এসেইসা ট্রেনিং কমপ্লেক্সে। বার্সেলোনার জার্সিতে ততদিনে নিজের নাম উজ্জ্বল করতে শুরু করেছিলেন তিনি। সে বছরের ২৫ জুন, আর্জেন্টাইন মিডিয়া যখন বোকা জুনিয়র্সের কিংস কাপের ফাইনালে খেলতে মানিজালেস সফরের খবর আর কোপা আমেরিকায় অংশ নিতে পেরুগামী সিনিয়র জাতীয় দলের খবরে ব্যস্ত, তখন প্রায় কেউই জানতেন না যে, লিওনেল মেসি অনূর্ধ্ব-২০ দলের সঙ্গে অনুশীলন করতে এসেইসায় এসেছেন।
২০০৪ সালে এসেইসায় আসার সময় সতীর্থরা ভেবেছিলেন মেসি স্প্যানিশ উচ্চারণে কথা বলবেন। কিন্তু সবার আগে সের্হিয়ো আগেুয়েরো বুঝতে পারেন মেসি আসলে ‘দুলসে দে লেচের (আর্জেন্টাইন ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি) চেয়েও খাঁটি আর্জেন্টাইন।
কোনো মিডিয়া কাভারেজ ছিল না, ক্যামেরা ছিল না, এমনকি তার পৌঁছানোর একটি ছবিও তোলা হয়নি। বুয়েনস এইরেসের এসেইসা ট্রেনিং সেন্টারে মেসি শেষবারের মতো ফিরলেন গত রবিবার। সেই ট্রেনিং কমপ্লেক্সে— যা এখন তার নামেই নামাঙ্কিত! দীর্ঘদিন ট্রফিহীন থাকা আর্জেন্টিনা তার হাত ধরেই গড়ে তুলেছে অন্যতম সফল এক স্বর্ণযুগ।
অনুশীলনের পর, দলের সিনিয়র খেলোয়াড়রা মেসিকে নিয়ে আয়োজন করেন নৈশভোজের। আর্জেন্টিনায় যাকে বলা হয় ‘আসাদো’ (আর্জেন্টাইন বারবিকিউ)। ডিভোর্স হওয়া বন্ধুকে সান্ত্বনা দিতে, ১৫তম জন্মদিনের উৎসবে, কোনো শুভ সংবাদ জানাতে কিংবা পুরনো ভুল শুধরে নিতে আসাদোর জুড়ি নেই আর্জেন্টিনায়। জাতীয় দলের হয়ে বিদায়ী ম্যাচের আগে সদ্য পোড়ানো আগুনের সুবাস মেসির নাকে এসেইসার সদ্য কাটা ঘাসের গন্ধকে ভুলিয়ে দিয়েছিল হয়তো।
সেই ১৭ বছর বয়স থেকে এ ঘাসের গন্ধ তিনি পেয়ে আসছেন, যখন মুখে দাড়ি ছিল না, অধিনায়কের ফিতা বাঁধা কিংবা বিশ্বজয়ের স্বপ্নও তখন ছিল কল্পনার অতীত। সবকিছু জয় করে বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোর ৫টায় বেনিনের বিপক্ষে শেষ ম্যাচটি খেলতে নামছেন মেসি। বেনিনের বিপক্ষে শুরুর একাদশেই থাকবেন মেসি, খেলবেন পুরো ৯০ মিনিট। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ম্যাচের আগে, বিরতির সময় এবং ম্যাচ শেষে বর্ণাঢ্য সংবর্ধনার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
২০০৪ সালে যেবার প্রথম এসেছিলেন এসেইসায়, তা ছিল এমন এক মহাকাব্যের শুরু, যা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। আর ২২ বছর পর, মেসি সেই একই দরজা দিয়ে শেষবারের মতো হেঁটে বের হয়ে যাচ্ছেন— নিজের এবং গোটা আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসকে চিরতরে নতুন রূপ দিয়ে।



