চেলসিকে ডুবিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের পথে ম্যান ইউ

ম্যান ইউ তারকাদের বিজয় উদযাপন।
চেলসির বিপক্ষে ১-০ গোলের জয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের টিকিট প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেছে মাইকেল ক্যারিকের ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ম্যাথিউস কুনহার করা একমাত্র গোলটিই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেয়। এই হারের ফলে আগামী মৌসুমে ইউরোপসেরা প্রতিযোগিতায় ফেরার স্বপ্নে বড় ধাক্কা খেল চেলসি।
স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে ম্যাচের শুরু থেকেই দাপট দেখায় স্বাগতিক চেলসি। এনজো ফার্নান্দেস এবং এস্তেভাও উইলিয়ান গোলের সুবর্ণ সুযোগ মিস না করলে ম্যাচের চিত্র অন্যরকম হতে পারত। চেলসি যখন একের পর এক আক্রমণ করছিল, ঠিক তখনই প্রতি-আক্রমণ থেকে গোল আদায় করে নেয় ইউনাইটেড। মৌসুমে ১৮তম অ্যাসিস্টের মাধ্যমে কুনহাকে বল এগিয়ে দেন ব্রুনো ফার্নান্দেস। চোখ ধাঁধানো ফিনিশিংয়ে জাল কাঁপান কুনহা।
খেলা শুরুর আগে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজের বাইরে চেলসির মালিকপক্ষ ‘ব্লু-কো’র বিরুদ্ধে কয়েকশ সমর্থক বিক্ষোভ করেন। ক্লাবের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তারা। ম্যাচের শেষে যখন চেলসি হার নিয়ে মাঠ ছাড়ে, তখন গ্যালারি জুড়ে দুয়োধ্বনি শোনা যায়। এই পরাজয়ে চেলসি এখন তৃতীয় স্থানে থাকা ইউনাইটেডের চেয়ে ১০ পয়েন্টে পিছিয়ে পড়ল।
ম্যাচের আগে বড় সংকটে ছিল ইউনাইটেডের রক্ষণভাগ। ডি লিট, মার্তিনেস, ম্যাগুয়ার এবং ইয়োরো— ৪জন মূল ডিফেন্ডারকে ছাড়াই দল সাজাতে হয়েছিল ক্যারিককে। সবাইকে অবাক করে দিয়ে নুনো মাজরাউই এবং ১৯ বছর বয়সী তরুণ আইডেন হেভেনকে সেন্টার-ব্যাক হিসেবে খেলান তিনি। অভিষেক ম্যাচে অনবদ্য খেলে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতে নেন হেভেন।
ম্যাচ শেষে ক্যারিক বলেন, ‘মাজরাউই এবং আইডেন অবিশ্বাস্য খেলেছে। এত অল্প বয়সে আইডেন যেভাবে পরিস্থিতি সামলেছে, তার জন্য সে এবং কোচিং স্টাফ বড় প্রশংসার দাবিদার। আগের ম্যাচে লিডসের কাছে হেরে খুব বেশি ভেঙে পড়িনি। আমরা জানতাম শেষ ১২টি ম্যাচের পারফরম্যান্সে আমরা সবার ওপরে। সেটিই আমাদের আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে। এখানে আমরা স্রেফ ম্যাচটা জিততে এসেছিলাম এবং ছেলেরা সেটা করে দেখিয়েছে।’
টানা চার ম্যাচে গোল করতে ব্যর্থ হওয়া এবং ঘরের মাঠে টানা তিন হারের তেতো স্বাদ পেল চেলসি। এমন বাজে রেকর্ডের পর চেলসি বস লিয়াম রোজেনিওর ওপর চাপ আরও বেড়ে গেল। ম্যাচ শেষে রোজেনিওর ভাষ্য ছিল এমন, ‘আমরাই আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছি, কিন্তু সুযোগ কাজে লাগাতে পারিনি। ৪বার বল পোস্টে লেগে ফিরেছে। এই হারের ধরণ অত্যন্ত হতাশাজনক।’
লিভারপুলের চেয়ে এক ম্যাচ বেশি খেলে এবং ৪ পয়েন্ট পিছিয়ে থেকে চেলসির শীর্ষ চারে থাকার আশা এখন সুতোয় ঝুলছে। অন্যদিকে, চ্যাম্পিয়নস লিগে ফেরা নিশ্চিত করতে এখন শেষ ৫ ম্যাচ থেকে ৮ পয়েন্ট প্রয়োজন রেড ডেভিলদের। ৩ মে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে লিভারপুলের বিপক্ষে ম্যাচটি এখন ইউনাইটেডের জন্য মর্যাদার লড়াই হয়ে দাঁড়িয়েছে।



