‘যোগ্যতা প্রমাণ করে দলে টিকতে হবে, এমন জায়গায় আমি নেই’

ভারতের ব্যাটিং কিং বিরাট কোহলি।
চলতি আইপিএলে ফর্মের তুঙ্গে আছেন বিরাট কোহলি। ভারতের এই ব্যাটিং দানব ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলবেন কি না— এ নিয়ে আলোচনার শেষ নেই। ভারতের সাবেক এই অধিনায়ক জানালেন, দলে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করার মতো মানসিক অবস্থায় তিনি এখন আর নেই। খেলাটার প্রতি ভালোবাসা থেকেই তিনি খেলে যাচ্ছেন, কাউকে কিছু প্রমাণ করার জন্য নয়।
সম্প্রতি ‘আরসিবি পডকাস্ট’-এ ভারতের খ্যাতনামা ক্রীড়া সঞ্চালক মায়ান্তি ল্যাঙ্গারের মুখোমুখি হয়ে নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও মানসিকতা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন কোহলি। ২০২৭ বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে তিনি বলেছেন, ‘আমাকে অনেকবার জিজ্ঞেস করা হয়েছে, ২০২৭ বিশ্বকাপে খেলতে চাই কি না? আমি কেন ঘরের আরাম-আয়েশ ছেড়ে, সব গুছিয়ে এসে বলব যে আমি নিজেই জানি না আমি কী চাই! অবশ্যই আমি যদি (বিশ্বকাপে) খেলি, তবে ক্রিকেটটা চালিয়ে যেতে চাই। ভারতের হয়ে বিশ্বকাপ খেলা সবসময়ই দারুণ এক অনুভূতি। তবে আমি যেমনটা বলেছি, এই চাওয়ার বিষয়টি দুপক্ষ থেকেই (তার নিজের এবং নির্বাচকদের) আসতে হবে।’
খেলাটির প্রতি নিজের নিবেদন ও দলে নিজের অবস্থান নিয়ে ৩৭ বছর বয়সী এই ব্যাটার আরও যোগ করেন, ‘আমার দৃষ্টিভঙ্গি একদম পরিষ্কার। আমি যে দলেরই অংশ হই না কেন, সেখানে যদি আমি অবদান রাখতে পারি এবং দলেরও যদি মনে হয় যে আমাকে দিয়ে কাজ হবে, তবেই আমাকে বিশ্বকাপে দেখা যাবে। কিন্তু পরিস্থিতি যদি এমন হয় যে, আমাকে নিজের যোগ্যতা এবং কার্যকরিতা প্রমাণ করতে হবে, তবে আমি সেই জায়গায় নেই। কারণ, আমি আমার প্রস্তুতি ও খেলার ধরনের প্রতি শতভাগ সৎ।’
নিজের ফিটনেস ও পরিশ্রমের কথা উল্লেখ করে কোহলি বলেছেন, ওয়ানডে ম্যাচে ৪০ ওভার বাউন্ডারি লাইনে ফিল্ডিং করতে হলেও তিনি হাসিমুখে তা করবেন। কারণ তার প্রস্তুতি তেমনই থাকে। তবে এরপরও যদি নিজের কার্যকরিতা প্রমাণ করতে হয়, তবে তিনি তা করবেন না। ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসে তার সত্যিই নতুন করে কিছু প্রমাণের নেই।
গত বছর ভারতের ঘরোয়া টুর্নামেন্ট ‘বিজয় হাজারে ট্রফি’তে খেলেছেন কোহলি। দীর্ঘদিন পর ঘরোয়া ক্রিকেটে ফেরার অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে তিনি বলেছেন, ‘শুরুতে ভেবেছিলাম, এতদিন ধরে খেলছি, ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলার মতো যথেষ্ট অনুপ্রেরণা পাব তো? কিন্তু যখনই নিজের মানসিকতা পরিবর্তন করে ভাবলাম যে, আমি খেলাটাকে ভালোবাসি বলেই খেলছি। তখন আর বাকি কোনো কিছুর পরোয়া করিনি। পুরো ম্যাচে ফিল্ডিং করেছি, ডাইভ দিয়েছি; নিজেকে আবার সেই ছোটবেলার মতো মনে হচ্ছিল।’
ক্রিকেট বোর্ড বা নির্বাচকদের উদ্দেশে প্রচ্ছন্ন বার্তা দিয়ে এই রানমেশিন বলেছেন, ‘ধরুন আপনি আপনার কর্মক্ষেত্রে গেলেন এবং সেখানকার মানুষ বলল ‘আমরা আপনার দক্ষতায় বিশ্বাস করি’। কিন্তু এক সপ্তাহ পরেই তারা আপনার কাজের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করল। তাহলে সেটা কেমন হবে? হয় প্রথম দিনই আমাকে বলে দিন যে আমি যথেষ্ট যোগ্য নই বা আমাকে দরকার নেই। আর যদি বলেন যে আমি যোগ্য, তবে চুপ থাকুন। ফলের ওপর ভিত্তি করে যদি আপনাদের অবস্থান বারবার ওঠানামা করে, তবে কখনোই একটি স্থায়ী জায়গায় পৌঁছানো সম্ভব নয়।’






