‘সুইট স্পট’-এ ভীষণ ভয়ংকর রানা

বল হাতে ছুটছেন নাহিদ রানা। ছবি: আগামীর সময়
পাকিস্তান সিরিজের পর নাহিদ রানা আবার ৫ উইকেটের দেখা পেলেন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। তাহলে ওই ‘সুইট স্পট’ বা নিখুঁত নিশানায় বল ফেলতে পারছেন এই ফাস্ট বোলার! তাই তো শেষ ১০ ম্যাচে রানার উইকেট সংখ্যা হয়েছে ২৩। গত বছর সাদা বলের পরিকল্পনা থেকে বাদ যাওয়া রানার ফর্মে ফেরার সাফল্যের রহস্য এখানেই।
রানার ক্যারিয়ারে টি-টোয়েন্টি মাত্র একটি। গত বছর আরব আমিরাতের সঙ্গে খেলা ওই ম্যাচে চার ওভারে খরচ করেন ৫০ রান। তাই ম্যাচটিতে ২ উইকেট নিলেও তাকে আর ছোট ফরম্যাটের দলে দেখা যায়নি। অক্টোবরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একটি ওয়ানডেতেও সুযোগ দেওয়া হয়। ওই ম্যাচেও আট ওভারে ৫৬ রান দিয়ে হয়েছিলেন খরুচে বোলার। সাদা বলে খরুচে হওয়ায় এ ফাস্ট বোলারকে শুধু লাল বলেই রেখে দেওয়ার চিন্তা করেছিলেন নির্বাচকরা।
তবে লাল বলেও যে রানা খুব ভালো করছিলেন, এমন নয়। সাদা বলের ব্যর্থতায় তার টেস্টের পারফরম্যান্সেও পড়ে নেতিবাচক প্রভাব। গত নভেম্বরের পর বাংলাদেশের আর টেস্ট ব্যস্ততা ছিল না। লম্বা সময় পেয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজেকে নিয়ে কাজ করেছেন রানা। ওই সময়ই কোচ তালহা জুবায়েরকে জানান নিজের সমস্যার কথা। কোচের টোটকায় ফিরে আসার পথটাও পেয়ে যান।
তালহার পরামর্শ ছিল, ‘খুব ভালো ঘুম, প্রচুর ফল খাওয়া এবং মিষ্টিকে না বলা। সঙ্গে তেলে ভাজা খাবার পরিহার করা।’ এসব মেনে চললে নাহিদ রানা আবার হয়ে উঠবেন আগুনে বোলার। নিজের যত্ন নিয়ে রানা ঠিক সেভাবেই এসেছেন ফিরে।
গত বিসিএল ওয়ানডেতে তালহা জুবায়েরের কোচিংয়ে নর্থ জোনের হয়ে দারুণ ছিল রানার পারফরম্যান্স। প্রতি ম্যাচেই পেয়েছেন একাধিক উইকেটের দেখা। তাতে পেয়ে গেলেন আবার ওয়ানডেতে ফেরার পুরস্কার। পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই ৫ উইকেট নিয়ে বাজিমাত।
রানার এত সফল হয়ে ফেরার রহস্য জানালেন তালহা, ‘পাকিস্তান সিরিজের আগে শন টেইটের সঙ্গে ও কাজ করছিল। আমিও ছিলাম। বেশ আত্মবিশ্বাস নিয়েই রানা বলল, ‘আমি এখন পিচের সুইট স্পট পেয়ে গেছি। ওখানেই বল ফেলি, খুব বেশি কিছু আর চিন্তা করি না।’ ও যে গতিতে বল করে, এমন একজন পেসার যদি পিচের ‘সুইট স্পট’ পেয়ে যায়, তাহলে বিশ্বের যেকোনো ব্যাটারের জন্য এ বোলারকে সামলানো কঠিন। রানা পিচের সঠিক জায়গাটা ধরে ফেলায় সুফল পাচ্ছে এখন।
রানার জন্য এই ‘সঠিক জায়গা’ খুঁজে পাওয়া সহজ ছিল না। দল থেকে বাদ পড়ার পর ঘরোয়া ক্রিকেটে কাজ করেছেন তালহার সঙ্গে। ওই সময় সাবেক এ পেসার দেখেছেন রানাকে নির্ভার থাকতে, ‘ও খুব কম বয়সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলা এবং বাদ পড়া দুটোই দেখে ফেলেছে। কিন্তু যথেষ্ট পরিপক্বতার পরিচয় দিয়ে সে ওই সময়টায় ছিল শান্ত। খুব বেশি ভাবত না। বাদ পড়ার পর থেকেই দেখেছি সে বোলিংয়ে চেষ্টা করছে অ্যাকুরেসি আনার। কোচরা শুধু পরামর্শ দিতে পারে, রানা সেটা কাজে লাগিয়েছে নিজে চেষ্টা করে।’
রানার এই সেরা সময়টা ধরে রাখতে হবে। মূল দায়িত্ব বিসিবির। যথেষ্ট যত্নও নিতে হবে এই পেসারের। জাতীয় দলের পক্ষ থেকে পেসারদের বিশ্রাম দিয়ে খেলানোর জন্য তৈরি করাই আছে একটি প্রক্রিয়া। রানা অবশ্যই তার অংশ। কিন্তু নিজেরও যে যত্ন নিতে হবে। তালহা জুবায়ের বুঝিয়ে দিয়েছেন কী করতে হবে আর কী করা বারণ।

