ক্রিকেটাররা বিশ্বকাপ খেলতে চেয়েছিলেন: আসিফ নজরুলের স্বীকারোক্তি

বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।
বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা যে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে চেয়েছিলেন- সেটা এখন দিনের আলোর মতো পরিস্কার। ইতোমধ্যেই বিভিন্ন গণমাধ্যমে ক্রিকেটাররা বলেছেন সেসব কথা। এবার বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলও বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে, ক্রিকেটারদের কথায় তিনি নাকি তেমন জোর পাননি।
বিবিসি বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আসিফ নজরুল দাবি করেছেন, বিশ্বকাপে খেলার বিষয়টি নাকি সরকারের ওপরেই ছেড়ে দিয়েছিলেন ক্রিকেটাররা। তার ভাষায়, ‘আমি যখন খেলোয়াড়দের সাথে বসেছিলাম, সালাউদ্দিন সাহেব (কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন) ওখানে ছিল নাকি জানি না। আমি বোর্ডের সাথে, খেলোয়াড়দের সাথে বসেছিলাম। আমি বলেছি আপনারা মুক্তভাবে আপনাদের মতামত ব্যক্ত করেন। আমি আপনাদের মতামত শুনতে চাই।’
সাবেক এই ক্রীড়া উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘কেউ (ক্রিকেটাররা) জোরালোভাবে বলেনি এই সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হচ্ছে না, ক্রিকেটের ক্ষতি হয়ে যাবে… এই টোন ছিল- “স্যার আমরা তো খেলতে চাইব, তবে আপনারা যে সিদ্ধান্ত নেবেন মেনে নেব”।’
নিরাপত্তা ইস্যুতে বিশ্বকাপ না খেলা প্রসঙ্গে আসিফ নজরুল বলেন, ‘আমাদের নিরাপত্তা ইস্যু যখন এতো বড় একটা দেশের (ভারত) কাছে তুচ্ছ মনে হয়, আমাদেরকে অপমান করা যখন সহজ ব্যাপার হয়, স্বার্থ হানি করা, আমাদের নিয়ে মকারি করার জবাব যে আমরা দিতে পারি- এসবেরই একটি ভালো উদাহরণ রাখলাম।’
উল্লেখ্য, রাজনৈতিক কারণে মোস্তাফিজুর রহমানকে চলতি আইপিএলের স্কোয়াড থেকে বাদ দিয়েছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স। সেই অজুহাতে ভারতের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেলার সিদ্ধান্ত নেন তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। গত ২২ জানুয়ারি ক্রিকেটারদের সঙ্গে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে আসিফ নজরুল বলেছিলেন, ভারতে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশ দলকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে না দেওয়া ছিল সরকারি সিদ্ধান্ত।
এরপর গত ১০ ফেব্রুয়ারি উপদেষ্টার দায়িত্ব ছাড়ার দিনে সংবাদ সম্মেলনে আসিফ নজরুল বক্তব্য পাল্টে ফেলেন। সেদিন তার দাবি ছিল, বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্ত সরকার নেয়নি। এটা বিসিবি ও ক্রিকেটারদের সিদ্ধান্ত ছিল।
আসিফ নজরুলের ওই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে গত ২০ ফেব্রুয়ারি জাতীয় দলের সাবেক কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেছিলেন, ‘উনি খাড়ার ওপর এভাবে মিথ্যা কথা বলবেন, এটা আমি ভাবতেও পারিনি। আমি কীভাবে ছেলেদের সামনে মুখ দেখাব? উনি একজন শিক্ষক মানুষ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের একজন শিক্ষক এভাবে মিথ্যা বলবেন। এটা আমরা মেনে নিতে পারছি না। আমি জানি, আমার দুইজন খেলোয়াড় কোমায় চলে গিয়েছিল। পাঁচ দিন তারা কোথায় ছিল জানি না।’
গত ৪ এপ্রিল মিরপুরে সংবাদ সম্মেলনে সদ্য বিতাড়িত হওয়াা বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বোর্ডের পরিচালকরাও বলে গেছেন, সব ক্রিকেটার এবং পরিচালকেরা বিশ্বকাপে না খেলার বিরুদ্ধে ছিলেন। এটা হয়েছে সরকারের সিদ্ধান্তে।



