১২ দলের টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ও এক ম্যাচ সিরিজের ভাবনা আইসিসির

ফাইল ছবি
টেস্ট ক্রিকেটে ছোট দলগুলো সবসময়ই অবহেলিত থাকে। বড় দলগুলো তাদের বিপক্ষে খেলতে চায় না। এর ওপর আবার দ্বিস্তর বিশিষ্ট টেস্ট সিরিজের প্রস্তাবও উঠেছিল। কিন্তু তীব্র প্রতিবাদের মুখে আইসিসি এখন ইউটার্ন নিয়েছে। এখন তারা বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (ডব্লিউটিসি) খোলনলচে বদলে ফেলতে চায়। ৯ দলের জায়গায় টেস্ট মর্যাদা পাওয়া ১২টি দলকেই টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে সুযোগ দিতে চায় আইসিসি।
ইএসপিএনক্রিকইনফো জানিয়েছে, ১২ দল নিয়ে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজনের পাশাপাশি টেস্ট ক্রিকেটের কাঠামো রক্ষায় এক ম্যাচের টেস্ট সিরিজ চালুর বৈপ্লবিক সুপারিশও আসছে। আইসিসির কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী চক্রে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে জিম্বাবুয়ে, আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ড। ২০১৯ সালে এই লিগ শুরু হলেও পূর্ণ সদস্য হওয়া সত্ত্বেও এই তিনটি দেশ এতদিন বাইরে ছিল।
নিউজিল্যান্ডের সাবেক ব্যাটার রজার টোসের নেতৃত্বাধীন আইসিসি ওয়ার্কিং গ্রুপ এই সম্প্রসারণের সুপারিশ তৈরি করেছে। বর্তমানে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হতে হলে একটি সিরিজ অন্তত দুই ম্যাচের হতে হয়। কিন্তু লোকসানের অজুহাতে বড় দলগুলো ছোট দলগুলোর বিপক্ষে দুই ম্যাচের সিরিজ আয়োজন করতে চায় না। এই সমস্যা সমাধানে ওয়ার্কিং গ্রুপ প্রস্তাব দিচ্ছে যেন এক ম্যাচের টেস্ট সিরিজকেও ডব্লিউটিসি পয়েন্ট টেবিলের আওতায় আনা হয়।
এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে ছোট দলগুলো সুযোগ পাবে বড় দলগুলোর সঙ্গে অন্তত একটি টেস্ট ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে। উদাহরণস্বরূপ, দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাওয়ার পথে জিম্বাবুয়ে কোনো দলের সঙ্গে একটি ওয়ান-অফ টেস্ট খেলে পয়েন্ট অর্জন করতে পারবে। আবার ইংল্যান্ডের মতো দলগুলোও তাদের গ্রীষ্মকালীন সূচিতে ৫ ম্যাচের সিরিজের পাশাপাশি সহজেই একটি টেস্টের আয়োজন করতে পারবে।
চলতি মাসের শেষে বা মে মাসের শুরুর দিকে আইসিসির বোর্ড সভায় এই প্রস্তাব নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনা হবে। পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতির কারণে দোহার পূর্বনির্ধারিত সভাটি স্থগিত করা হয়েছিল। ওই সভায় দুটি প্রধান বিষয় গুরুত্ব পাবে। প্রথমত, এক ম্যাচের টেস্ট সিরিজ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের প্রতিদ্বন্দ্বিতার মান ধরে রাখতে পারবে কি না এবং দ্বিতীয়ত, জিম্বাবুয়ে বা আয়ারল্যান্ডের মতো ছোট বোর্ডগুলোর জন্য টানা দুই বছর নিয়মিত টেস্ট খেলা আর্থিকভাবে টেকসই হবে কি না? এই দুটি প্রশ্নের জবাব মিললেই টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে বিপ্লব আসতে পারে।
















