বিশ্বকাপ জেতানো বুমরা আইপিএলে কেন ছন্নছাড়া?

আইপিএলে নিজেকে খুঁজে পাচ্ছেন না জসপ্রিত বুমরা।
মাসখানেক আগেই ঘরের মাঠে দুর্দান্ত বোলিংয়ে ভারতকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতিয়েছেন জসপ্রিত বুমরা। ১৪ উইকেট নিয়ে হয়েছেন টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী, যার মধ্যে ফাইনালেই নিয়েছিলেন ৪ উইকেট। সেই বুমরা চলতি আইপিএলে নিজেকে হারিয়ে ফেলেছেন। বিশ্বের অন্যতম সেরা এই পেসার আসরের প্রথম চার ম্যাচে উইকেটের খাতাই খুলতে পারেননি। তার দল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সও চার ম্যাচে মাত্র ১টি জয় পেয়েছে।
পরিসংখ্যান বলছে বুমরার ইকোনমি রেট ৮.২০, যা তার দলের অন্য বোলারদের তুলনায় অনেক ভালো। বোলিং খুব একটা খারাপ না করলেও তিনি উইকেট শিকার করতে পারছেন না। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে রান আটকে রাখার চেয়েও উইকেট নেওয়া বেশি জরুরি। বুমরা রান কিছুটা আটকাতে পারলেও ব্রেক থ্রু এনে দিতে পারছেন না। যার ফলে অন্য প্রান্তের বোলারদের ওপর চাপ বাড়ছে।
চলতি আসরে অন্তত ৮ ওভার বল করেছেন এমন বোলারদের মধ্যে মোহাম্মদ শামি (৬.২৫), রশিদ খান (৬.৮৭) কিংবা সুনীল নারাইনদের (৭.৪৫) ইকোনমি রেট বুমরার চেয়ে অনেক কম। অর্থাৎ, বুমরা কেবল উইকেটশূন্যই নন, কৃপণ বোলিংয়ের দৌড়েও বেশ পিছিয়ে পড়েছেন। কেবল বুমরা নন, মুম্বাইয়ের পুরো বোলিং ইউনিটই ধুঁকছে। ট্রেন্ট বোল্ট ৩ ম্যাচে ১১০ রান দিয়ে পেয়েছেন মাত্র ১ উইকেট, তার ইকোনমি রেট আকাশচুম্বী ১২.২২।
দীপক চাহারও পাওয়ার প্লে-তে সুইং দিয়ে বিভ্রান্ত করতে পারছেন না ব্যাটারদের। শার্দুল ঠাকুর ৫ উইকেট নিয়ে দলের সেরা উইকেট শিকারি হলেও প্রতি ওভারে ১৩ রানের বেশি খরচ করেছেন! শুধু তাই নয়, চলতি আসরে মুম্বাই একমাত্র দল, যারা প্রতি ওভারে গড়ে ১১-র বেশি রান দিচ্ছে। ইনিংসের মাঝের ওভারগুলোতে তাদের রান দেওয়ার হার ১১.১৪, যা টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ। চার ম্যাচে তারা উইকেট নিতে পেরেছে মাত্র ১৫টি।
মুম্বাইয়ের বোলিং আক্রমণের নেতা হিসেবে বুমরার ওপর দায় বেশি থাকবেই। দলের অন্য সব পেসার অন্তত একটি করে উইকেট পেলেও বুমরার ঝুলি এখনো শূন্য। প্রতিপক্ষ দলগুলো এখন বুমরাকে উইকেট না দিয়ে দেখেশুনে খেলে অন্য বোলারদের ওপর চড়াও হওয়ার কৌশল নিয়েছে। ক্রিকেট বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, বুমরাকে এখন রান আটকানোর চিন্তা বাদ দিয়ে আক্রমণাত্বক হতে হবে। প্রতিপক্ষের মনে সেই পুরনো ত্রাস সৃষ্টি করে উইকেট তুলে নিতে না পারলে মুম্বাইয়ের দুর্ভোগ বাড়তেই থাকবে।

