ভারত-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক সিরিজের কোনো সম্ভাবনা নেই

ভারত-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক সিরিজ সুদূর পরাহত।
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই তুমুল উত্তেজনা। এখন যদিও ম্যাচগুলো একপেশেভাবে জিতে নেয় ভারত, তবুও এই লড়াইয়ের আবেদন কমেনি। একসময় নিয়মিত ভারত-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক সিরিজ হতো। রাজানৈতিক কারণে এক দশকের বেশি সময় ধরে তা বন্ধ আছে। আইসিসি এবং এসিসিসির আসর ছাড়া দুই দলের দেখা হয় না। অদূর ভবিষ্যতেও দ্বিপাক্ষিক সিরিজের কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না ললিত মোদি।
দুই দেশের ক্রিকেটাঙ্গন থেকে মাঝেমধ্যেই দ্বিপাক্ষিক সিরিজ আয়োজনের দাবি ওঠে। বাস্তবে দুই দল আইসিসি বা এসিসির ইভেন্টের ম্যাচগুলোও খেলে থাকে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে। সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক ভারত হলেও পাকিস্তান তাদের ম্যাচগুলো খেলেছে শ্রীলঙ্কায়। এর আগে ২০২৫ চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আয়োজক পাকিস্তান হলেও ভারত তাদের ম্যাচ খেলেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে।
আইপিএলের সাবেক চেয়ারম্যান ললিত মোদি মনে করছেন, অদূর ভবিষ্যতে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সিরিজের কোনো সম্ভাবনাই নেই। এর পেছনে তিনি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) ‘চরম রাজনীতিকরণ’কে প্রধান কারণ হিসেবে দায়ী করেছেন। সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক মাইকেল ভনের একটি পডকাস্টে ললিত মোদি বলেন, পিসিবি এখন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না এবং এটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘পিসিবি যদি স্বাধীন হতো এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থাকত, তবে আমরা কোনো ইতিবাচক পদক্ষেপ দেখতে পেতাম। কিন্তু বর্তমানে পিসিবি রাজনৈতিকভাবে এতটাই নিয়ন্ত্রিত যে ওপর মহলের সিদ্ধান্তে সব কাজ করা হচ্ছে। রাজনৈতিক স্তরে যে উত্তেজনা চলছে, তা সহজে মেটার নয়; বরং দিন দিন এটি আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। আমি এখন খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত।’
ললিত মোদি মনে করিয়ে দেন যে, আইপিএলের শুরুতে তিনিই পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের ভারতে নিয়ে এসেছিলেন। তবে ২০০৮ সালের মুম্বাই হামলার পর পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে এবং তাদের সরিয়ে দিতে হয়। বর্তমান প্রেক্ষাপটে নিরপেক্ষ ভেন্যুতেও ভারত-পাকিস্তান সিরিজ আয়োজনের কোনো সুযোগ দেখছেন না তিনি, ‘আমার মনে হয় না, অদূর ভবিষ্যতে এটা সম্ভব হবে। কারণ পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডে রাজনীতিকরণ হয়েছে।’
২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা এবং নিরাপত্তা ইস্যুতে ভারতে খেলতে যাওয়ার অনীহা নিয়েও মুখ খুলেছেন ললিত মোদি। তার মতে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) এই জটিলতায় জড়ানো ঠিক হয়নি। ললিত মোদির ভাষায়, ‘আমি এখনই এর কোনো তাৎক্ষণিক সমাধান দেখছি না। বাংলাদেশও এর মধ্যে জড়ানোর চেষ্টা করেছে, যা তাদের করা ঠিক হয়নি।’

