রোমাঞ্চ ছড়িয়ে সিলেট টেস্ট গড়াল পঞ্চম দিনে

সংগৃহীত ছবি
মাঠের খেলায় নানা অজুহাতে সময় নষ্ট করায় মোহাম্মদ রিজওয়ানের জুড়ি নেই। সিলেট টেস্ট জিততে পাকিস্তানকে গড়তে হবে বিশ্বরেকর্ড, ড্র করতে হলে খেলতে হবে দুই দিন। তাই রানের সঙ্গে সময় কাটানোও গুরুত্বপূর্ণ। মোহাম্মদ রিজওয়ান চোটাঘাতের অভিনয় করে বেশ ভালোই সময় কাটালেন। ম্যাচও গড়াল পঞ্চম দিনে। টেস্ট ক্রিকেটের ক্ল্যাসিক সৌন্দর্যের পসরা মেলে ধরেছে এই ম্যাচ। চতুর্থ দিনশেষে জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন ৩ উইকেট, পাকিস্তানের চাই ১২১ রান।
আজ মঙ্গলবার পাকিস্তানের ইনিংসের ১১তম ওভারে প্রথম আঘাত হানেন নাহিদ রানা। এই গতি তারকার দ্বিতীয় বলে গালিতে আব্দুল্লাহ ফজলের (৬) দেওয়া ক্যাচ দুর্দান্ত দক্ষতায় তালুবন্দি করেন মিরাজ। সেই মিরাজের বলেই ১৬তম ওভারে এলবিডব্লিউ হয়ে যান আজান আওয়াইস (২১)। রিভিউ নিয়েও তিনি বাঁচতে পারেননি। এরপর ৯২ রানের জুটি গড়েন বাবর আজম ও শান মাসুদ। জমে যাওয়া এই জুটি ভাঙেন তাইজুল। তার বল বাবরের (৪৭) ব্যাট ছুঁয়ে লিটন দাসের গ্লাভসে জমা হয়। লিটনের দক্ষতা ছিল দেখার মতো। আউট হওয়ার পর ফেরার পথে বাবর এত ধীরে হাঁটছিলেন যে বোঝা যাচ্ছিল, ক্রিজ ছাড়ার কোনো ইচ্ছেই তার নেই!
বাবরের পর দ্রুত দুটি উইকেট হারায় পাকিস্তান। ৪৪ তম ওভারে নাহিদ রানার অফ স্টাম্পের বাইরের বল খেলতে গিয়ে উইকেটকিপার লিটন দাসকে ক্যাচ দেন সৌদ শাকিল (৬)। ক্রিজে জমে যাওয়া শান মাসুদকে ফেরান তাইজুল। এই অভিজ্ঞ স্পিনারের বলে শর্ট মাহমুদুল হাসান জয়ের হাতে ক্যাচ দেন ৭১ রান করা পাকিস্তান অধিনায়ক। এরপর আবারও প্রতিরোধ গড়ে পাকিস্তান। মোহাম্মদ রিজওয়ান আর সালমান আগা ৬ষ্ঠ উইকেটে গড়ে তোলেন ২২৪ বলে ১৩৪ রানের জুটি।
এই জুটিতে একটা সময় বাংলাদেশ ব্যাকফুটে চলে যায়। ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হন সেই তাইজুল। ১০২ বলে ৭১ রান করা সালমানকে বোল্ড করে বাংলাদেশকে দারুণ এক ব্রেক থ্রু এনে দেন। রিজওয়ান তখন সেঞ্চুরির পথে ছিলেন। তাকে সঙ্গ দিতে আসা হাসান আলীকে শূন্য রানে ফেরান তাইজুল। দিনশেষে পাকিস্তান তোলে ৭ উইকেটে ৩১৬ রান। ১৩৪ বলে ৭৫ রানে অপরাজিত আছেন রিজওয়ান। তার সঙ্গী সাজিদ খানের সংগ্রহ ৮ রান। ৩১ ওভার বোলিং করে ১১৩ রান দিয়ে ৪ উইকেটে নিয়েছেন তাইজুল। দুটি নিয়েছেন নাহিদ রানা আর একটি মিরাজ।




