অলিম্পিক পদকজয়ীর কাছে সূর্যবংশীকে নিয়ে প্রশ্ন করায় তুলকালাম

অলিম্পিক পদকজয়ী মনু ভাকরকে প্রশ্ন করা হয়েছিল বৈভব সূর্যবংশীর বিষয়ে।
উপমহাদেশের প্রেক্ষাপটে এই মুহূর্তে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ক্রিকেটই সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা। তবে আমজনতার কাছে ফুটবলের জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী। এই দুই খেলার বাইরের খেলাগুলো নিয়ে লোকজনের তেমন আগ্রহ দেখা যায় না। তাই সাংবাদিকরাও ক্রিকেট নিয়েই ছোটেন সর্বত্র। ভারতের অলিম্পিক পদকজয়ী মনু ভাকরকে এবার বৈভব সূর্যবংশীর বিষয়ে প্রশ্ন করে সমালোচনার জন্ম দিলেন এক সাংবাদিক।
অলিম্পিকে জোড়া পদকজয়ী শুটার মনু ভাকর সম্প্রতি ন্যাশনাল রাইফেল অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়ার (এনআরএআই) ৭৫ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছিলেন। সেখানে তার লড়াই বা শুটিংয়ের কৌশল নিয়ে আলোচনার বদলে সংবাদমাধ্যমের আগ্রহের কেন্দ্রে ছিল ১৫ বছর বয়সী নতুন ক্রিকেট সেনসেশন বৈভব সূর্যবংশী। ২৪ বছর বয়সী মনুকে প্রশ্ন করা হয় বৈভবকে নিয়ে তার ভাবনা কী?
অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্ন হলেও বেশ পরিণত উত্তর দিয়েছেন ২০২৪ প্যারিস অলিম্পিকে ইতিহাস গড়া মনু। তিনি বলেন, ‘যদি মেন্টরশিপ ভালো হয় এবং চারপাশের মানুষজন ইতিবাচক থাকে, তবে বয়স কেবল একটি সংখ্যা মাত্র। প্রতিভার কোনো বয়স নেই। ৬০ বছরেও দারুণ কিছু হতে পারে, আবার ৬ বছরেও হতে পারে। সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে সে (বৈভব) অবশ্যই আগামী দিনের বড় তারকা হবে।’
এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় সমালোচনার ঝড়। প্রশ্ন উঠেছে, ২০১৮ সালে যখন মাত্র ১৬ বছর বয়সে মনু ভাকর মেক্সিকো বিশ্বকাপে সোনা জিতে বিশ্ব জুড়ে আলোড়ন তুলেছিলেন, তখন কি বিরাট কোহলি বা রোহিত শর্মাদের কাছে মনুকে নিয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হয়েছিল? উত্তরটা হলো— না। তবে কেন একজন প্রতিষ্ঠিত অলিম্পিক জয়ীকে উদীয়মান ক্রিকেটারকে নিয়ে প্রশ্ন করতে হবে?
১৫ বছর বয়সী বৈভব সূর্যবংশী এখন ভারতীয় ক্রিকেটের রাজপুত্র। আইপিএলে রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে সম্প্রতি হায়দরাবাদের বিপক্ষে ১০৩ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেছেন। চলতি আসরে ৮ ইনিংসে ২৩৪ স্ট্রাইক রেটে তার সংগ্রহ ৩৫৭ রান। এর আগে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে ৪৩৯ রান করে তিনি টুর্নামেন্ট সেরা হয়েছিলেন, যেখানে এক আসরে সর্বোচ্চ ৩০টি ছক্কা মারার বিশ্বরেকর্ডও গড়েন এই বাঁহাতি ব্যাটার।
ক্রীড়াপ্রেমীরা বলছেন, একজন ডাবল অলিম্পিক মেডেলিস্টকে অন্য কোনো খেলার বিশেষজ্ঞ মত দিতে বলাটা তার অর্জনের প্রতি এক ধরনের অবমাননা। ভারত যখন ২০৩৬ অলিম্পিক আয়োজনের স্বপ্ন দেখছে, তখন এ ধরনের ক্রিকেটকেন্দ্রিক মানসিকতা বড় অন্তরায় হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত একজন ক্রিকেটারকে শুটিং বা অন্য ডিসিপ্লিন নিয়ে প্রশ্ন করা না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত ভারত সত্যিকারের ‘স্পোর্টিং নেশন’ হয়ে উঠতে পারবে না।





