১৭ দেশ নিয়ে টঙ্গিতে আরচারি টুর্নামেন্ট

ছবি: আগামীর সময়
সাম্প্রতিক সময়ে আরচারদের আন্তর্জাতিক মঞ্চে সেভাবে জ্বলে উঠতে দেখা যায়নি। এশিয়ান কাপের কয়েকটি আসরে অংশ নিলেও বলার মতো সাফল্য জুটেনি। সম্প্রতি বাংলাদেশ আরচারি ফেডারেশনের নেতৃত্বে পরিবর্তন এসেছে। সম্প্রতি ফেডারেশনটির প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক কাজী রাজীব উদ্দীন আহমেদ চপলের নেতৃত্বে নতুন এডহক কমিটি দায়িত্ব নিয়েছে। দায়িত্ব নিয়েই ওয়ার্ল্ড আরচারি এশিয়ার আর্থিক সহায়তায় ঢাকায় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে যাচ্ছে নতুন কমিটি। এই আসরের মধ্য দিয়ে সম্ভাবনাময় খেলাটিকে কক্ষে ফেরানোর কথা জানিয়েছেন কর্তারা।
চপল একই সঙ্গে ওয়ার্ল্ড আরচারি এশিয়ারও সভাপতি। এই টুর্নামেন্টটি এর আগে এশিয়ার নানা দেশে আয়োজিত হলেও এবারই প্রথম বাংলাদেশে হতে যাচ্ছে। এশিয়ার ১৭টি দেশের অংশগ্রহণে ৩০ জুলাই থেকে টঙ্গিতে শুরু হবে ওয়ার্ল্ড আরচারি এশিয়া (ডব্লিউএএ) প্রেসিডেন্ট’র চ্যালেঞ্জ কাপ। ওয়ার্ল্ড আরচারি এশিয়ার প্রায় ৪৪ হাজার মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মূদ্রায় প্রায় ৫৪ লাখ ২৯ হাজার টাকা) আর্থিক সহায়তা করছে। এর বাইরে বাদ বাকী খরচ বহন করবে চপলের ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান মৌসুমী ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড।
রবিবার এ উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে টুর্নামেন্টের খুঁটিনাটি তুলে ধরেন চপল। একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে জয়েন্ট ট্রেনিং প্রোগ্রাম ও স্পোর্টস ইনজুরি সেমিনার। যা পরিচালনার দায়িত্বে থাকবেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের জার্মান কোচ মার্টিন ফ্রেডরিখ ও কোরিয় সহকারী কোচ ইয়ং সুক পার্ক।
মোট ছয়টি ইভেন্টে ১৭ দেশের ১১৪জন আরচার ও কর্মকর্তা অংশ নেবেন এই টুর্নামেন্টে। স্বাগতিক বাংলাদেশ ছাড়াও আফগানিস্তান, ভুটান, চীন, ভারত, ইরাক, জর্ডান, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, নেপাল, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, কাতার, সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, উজবেকিস্তান, ইয়েমেনের আরচাররা অংশ নেবেন এ আসরে। রিকার্ভ পুরুষ ও মহিলা একক, অনূর্ধ্ব-১৮ পুরুষ ও মহিলা একক, রিকার্ভ মিশ্র দলগত ও অনূর্ধ্ব-১৮ মিশ্র দলগত ইভেন্টে অংশ নেবেন আরচাররা।
একটা সময় রিকার্ভ ইভেন্টগুলোতে ছিল বাংলাদেশের আধিপত্য। বড় যা কিছু অর্জন রিকার্ভ আরচারদের হাত ধরেই এসেছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে রোমান সানা, দিয়া সিদ্দিকী, হাকিম আহমেদ, রুবেলের মতো সেরা রিকার্ভ আরচাররা যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী নিবাস গড়লে বড় একটা শূন্য সৃষ্টি হয়। এর মাঝে অবশ্য কম্পাউন্ড আরচারের হাত ধরে কিছু সাফল্য মিলেছে। সর্বশেষ এশিয়অন কাপ স্টেজ ওয়ান আসরে পুরুষ কম্পাউন্ড দলগত ইভেন্টে স্বর্ণপদক জিতেছিলেন বাংলাদেশের হিমু বাছার, ঐশ্বর্য রহমান ও নেওয়াজ আহমেদ রাকিব।
নিজ আঙিনায় এই টুর্নামেন্টে যেহেতু রিকার্ভ ইভেন্টগুলো হতে যাচ্ছে, তাই এটা রিকার্ভ আরচারদের জন্য নিজেদের প্রমাণের বড় মঞ্চ। নেতৃত্বে রদবদলের কারণে মাঝে সময়টায় আর্চারিতে ভাটার টানের বিষয়টি স্বীকার করে নেন সর্বশেষ বিলুপ্তপ্রায় কমিটির এক নম্বর নির্বাহী সদস্য হিসেবে থাকা চপল, ‘হ্যাঁ, আমরা একটু পিছিয়ে গেছি। তবে আগের জায়গটা পুনরুদ্ধার করার লক্ষ্যেই এই রকম একটি টুর্নামেন্ট আয়োজন করছি। ফেডারেশনের নেতৃত্বে কিছু অস্থিরতা আসলেও আমরা সবসময় নতুনত্বে বিশ্বাসী। যাদের হাত ধরে খেলাটা একটু পেছনে হেঁটেছে তারাও আমাদের সহকর্মী, আমাদেরই সতীর্থ। তাদের বদনাম করে তো আমরা এগিয়ে যেতে চাই না। বরং কীভাবে হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনা যায় সেটা নিয়েই আমরা কাজ করছি।'
বাংলাদেশকে আয়োজক স্বত্ত্ব দেওয়ার কারণ হিসেবে ওয়ার্ল্ড আরচারি এশিয়ার পক্ষে থেকে চপল বলেন, 'আমি যখন ওয়ার্ল্ড আর্চারি এশিয়ার সভাপতির নির্বাচন করি, তখন একটা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম—ওয়ান ভিশন ওয়ান এশিয়া। আমরা একটা ইউনিক এশিয়া গড়ে তুলতে চাই। একটা দেশ রাজত্ব করবে আর বাকিরা সব পেছনে পড়ে থাকবে, তা হবে না। সবাইকে এমন একটা স্তরে নিয়ে যেতে চাই যেন তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়। আগে যেমন কোরিয়াকে কেউ হারাতে পারতো না, আবার বাংলাদেশের মাঠেই কোরিয়াকে দুবার হারতে হয়েছে। খেলোয়াড়দের এই উদ্বুদ্ধ করার জন্যই জয়েন্ট ট্রেনিং প্রোগ্রামের সাথে প্রেসিডেন্টস চ্যালেঞ্জ কাপ জুড়ে দেওয়া হয়েছে।'
আগামী ৩০ জুলাই থেকে ২ আগস্ট পর্যন্ত টঙ্গীর আর্চারি ট্রেনিং একাডেমিতে হবে এই টুর্নামেন্ট। আর অংশগ্রহণকারী আরচার ও কর্মকর্তাদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে ঢাকা রিজেন্সি হোটেলে।
জয়েন্ট ট্রেনিং প্রোগ্রামে আধুনিক ক্রীড়া বিজ্ঞানের সঙ্গে খেলোয়াড়দের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হবে। স্পোর্টস ইনজুরি প্রিভেনশন, স্পোর্টস নিউট্রিশন, স্পোর্টস সাইকোলজি, এন্টিডোপিং এবং জেন্ডার ইক্যুয়িটির মতো বিষয়গুলো নিয়েও কোর্স পরিচালনা করবেন মার্টিন ফ্রেডরিক ও পার্ক।




