আর্ট অ্যান্ড গ্রাফিকস
সাজাই যতনে বিবিধ রতনে

ছবি: আগামীর সময়
একটা সময় ছিল, যখন পাঠককে দেশ-বিদেশের সংবাদ পাওয়ার জন্য পরদিন ভোরে দৈনিক পত্রিকা হাতে পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতো। সকালবেলা এক কাপ চায়ের সঙ্গে পত্রিকা পড়া ছিল এক ধরনের বিলাসিতা। কিন্তু যুগ বদলেছে। সংবাদের জন্য পাঠককে এখন আর অপেক্ষা করতে হয় না। সংবাদপত্র হাতে পাওয়ার আগেই বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম ও অনলাইন পাঠকের কাছে পৌঁছে দেয় সব খবর। পরিবর্তনের হাওয়ায় সংবাদপত্রকে কিছুটা চ্যালেঞ্জে পড়তে হচ্ছে। উত্তরণে নিজের রূপও কিছুটা পরিবর্তন করছে সংবাদপত্র। দৈনিক পত্রিকা এখন আর শুধু পড়ার না, দেখারও।
পৃথিবীজুড়ে সব পত্রিকাই এখন ভিজ্যুয়াল পত্রিকায় রূপান্তর হয়েছে। আমাদের দেশও তার ব্যতিক্রম নয়। ফলে দৈনিক পত্রিকাগুলোতে ব্যাপ্তি বাড়ছে আর্ট অ্যান্ড গ্রাফিকস বিভাগের। তারই ধারাবাহিকতায় ১৭ সদস্যের আগামীর সময় ‘আর্ট অ্যান্ড গ্রাফিকস’ বিভাগ।
পাঁচজন আর্টিস্ট ও বারোজন গ্রাফিক ডিজাইনার নিয়ে এই টিম। আমি দেওয়ান আতিকুর রহমান আছি আর্ট এন্ড গ্রাফিক্স এডিটর হিসেবে। এছাড়াও আছেন শিল্পী রজত, অরবিন্দ হালদার, ফারজিন জামান খান ও অনন্যা প্রমা।
রজত খুবই ঠান্ডা স্বভাবের, কিন্তু মজার মানুষ। কাজের ফাঁকে নানা ধরনের দুষ্টুমিতে মাতিয়ে রাখে সহকর্মীদের। অনেকেই মজা করে তাকে ছোটদের ধ্রুব এষ বলে ডাকে। টাইপোগ্রাফি, প্রচ্ছদ এবং শিশুদের বই ইলাস্ট্রেশনে রজতের জুড়ি মেলা ভার। রজতের মতো একজন শিল্পী টিমে থাকলে কাজে বোরিং লাগে না। অনেক চাপেও স্ট্রেস জমে না।
অরবিন্দের পত্রিকায় চাকরির অভিজ্ঞতা খুব বেশি না থাকলেও আগামীর সময়ের শুরুর দিকের কিছু কাজ দিয়ে সে নিজের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দিয়েছে। পোস্টার, বিলবোর্ড, ডিজিটাল সাইন, পোস্টকার্ড— সবকিছুতেই অরবিন্দের হাতের ছোঁয়া। আর ফেসবুক প্রচারণায় কমিক চরিত্র জামিল সাহেব তো এখন সবার মুখে মুখে।
ফারজিন ও অনন্যাও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিণত হয়ে উঠছে। সম্পাদকীয় পাতার পোর্ট্রেইট, ইলাস্ট্রেশন ফারজিন এক হাতেই সামলাচ্ছে এখন। আর অনন্যা তো অনলাইনের অন্ধের ষষ্ঠী।
আর্ট এন্ড গ্রাফিকস বিভাগে ফাহীম সাদিকীন আছেন ভিজ্যুয়াল প্ল্যানার হিসেবে। ভীষণ ঠান্ডা মাথার ফাহীম তার ক্যারিয়ারের দীর্ঘ সময় বিভিন্ন পত্রিকায় কাজ করেছেন সম্পাদক মোস্তফা মামুন ভাইয়ের সঙ্গী হয়ে। ফলে মামুন ভাইয়ের চিন্তা, চাহিদা সম্পর্কে ফাহীম গভীরভাবে পরিচিত। আগামীর সময়ের প্রথম পাতা মুলত ফাহীমের হাতেই আকার পায়।
আসমাউল হক মামুন আছেন সিনিয়র গ্রাফিক ডিজাইনার হিসেবে। সংবাদপত্র ডিজাইনে মামুনেরও ক্যারিয়ার দীর্ঘ দিনের। মামুন মুলত শেষ পৃষ্ঠাসহ বিশেষ সংখ্যার কাজগুলো করেন।
আরিফুল ইসলামও আছেন সিনিয়র গ্রাফিক ডিজাইনার হিসেবে। আগামীর সময়ের ফিচার পাতাগুলো মুলত আরিফই ডিজাইন করে থাকেন। সংবাদপত্রের বাইরেও বইয়ের প্রচ্ছদসহ বিভিন্ন ডিজাইনে আরিফের সুনাম রয়েছে।
সিনিয়র গ্রাফিক ডিজাইনার রাজিব হাওলাদার তৈরি করেন আগামীর সময়ের স্পোর্টস পাতাগুলো। বিশ্বকাপ ম্যাগাজিনসহ খেলা সংক্রান্ত সব ডিজাইন রাজিবই করেন। তাছাড়া প্রতিদিন খেলা নিয়ে দুইপৃষ্ঠা রাজিব ডিজাইন করেন নিষ্ঠার সঙ্গে।
সিনিয়র গ্রাফিক ডিজাইনার হিসেবে আরও আছেন জহির ইলয়াস খান। আছেন রাকিবুল ইসলাম, মিরাজুল শাওন, সোহেল আহমেদ ও পারভেজ খান। ইলিয়াস তার সংবাদপত্রে দীর্ঘ সময় কাজের অভিজ্ঞতায় প্রতিদিন ফর্মা মিলান সুচারুভাবে। পারভেজ করেন সম্পাদকীয় পাতা। আর কাজের বিষয়ে সোহেল যথেষ্ট আন্তরিক।
তবে সবকিছু ছাপিয়ে সবচেয়ে আলোচিত দুজন হলেন রাকিব আর শাওন। বয়সে সবচেয়ে তরুণ এই দুই ডিজাইনার শুধু আগামীর সময় পত্রিকায়ই নয়, এর বাইরেও ইতিমধ্যেই নিজেদের সুনাম ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়েছেন।
এছাড়া গ্রাফিক ডিজাইনার হিসেবে আছেন আবুল কালাম আজাদ, আশ্রাফুর রহমান এবং ফাহতাব হোসেন। এর মধ্যে আবুল কালাম আজাদ সবচেয়ে বয়োজে্যষ্ঠ। মিষ্টি হাসির সুদর্শন কালাম ভাই আর্ট অ্যান্ড গ্রাফিক বিভাগে সবার প্রিয়জন।
আশ্রাফুর রহমানের ডাকনাম রিয়াদ। সদা হাস্যোজ্জ্বল করিতকর্মা রিয়াদের ডিজাইন সেন্স বেশ ভালো । রিয়াদ দ্রুতই নিজের অবস্থান তৈরি করে নেবে বলে আশা করি। ফাহতাব যদিও মাত্রই আমাদের সঙ্গী হলো, তাও কাজের প্রতি সততা তার উজ্জ্বল ভবিষ্যতেরই নির্দেশনা দেয়।
যাই হোক, ১৬ পৃষ্ঠার যেকোনো দৈনিকের আর্ট অ্যান্ড গ্রাফিকস টিম সাধারণত আরও বড় হয়। কিন্তু ১৭ সদস্যের এই দল নিয়েই নিজেদের সর্বোচ্চ শ্রম, মেধা দিয়ে ভালো কিছু করার বিষয়ে আমরা আত্মবিশ্বাসী।




