চট্টগ্রাম ব্যুরো
চট্টগ্রামের সংবাদ নিয়ে আমরা ১১ জন

ছবি: আগামীর সময়
চট্টগ্রামের আসকারদীঘির পাড়ে মিডিয়াপাড়ার বহুতল ভবনে প্রতিদিন সকাল ১০টায় মর্নিং মিটিং। যুক্তিতর্ক-পরিকল্পনা-সমালোচনায় জমজমাট। থাকে খাবারও। মৌসুমি ফল, সিদ্ধ ডিম। এক ঘণ্টার মিটিংয়ে দেরি করে কেউ এলে সেটি নোট করে রাখা হয়। স্বয়ং অফিসের প্রধানের ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য।
টিমের ১১ জন এসেছেন ছোট-বড় আটটি মিডিয়া হাউজ থেকে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে মাস্টার্স শেষ করা দুই শিক্ষার্থী নীলআঁখি বড়ুয়া ও মিয়া ইমন এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন একাডেমিক শিক্ষা আর বাস্তবের সাংবাদিকতায় ফারাক কতটা। নীলআঁখি একটু নার্ভাস থাকেন; কিন্তু ব্যাপক আগ্রহ তার। সহপাঠী মিয়া ইমনের আগ্রহ তার চেয়েও বেশি।
হ্যান্ডসাম প্রতিবেদক আহমেদ সারজিল। সকালের মিটিংয়ে যোগ দিতে প্রায়ই দেরি করেন। মাল্টিমিডিয়া নিয়ে তার কাজকারবার। ফেসবুকে লাইভ করতে আগ্রহ বেশি। প্রতিদিন বাইক চালিয়ে ১০ কিলোমিটার দূর থেকে অফিস করেন ফটোগ্রাফার রনি ফেরারি। মাথায় ক্যাপ, কাঁধে ঝোলানো ক্যামেরার ব্যাগ। ভালো সিকোয়েন্স ধরে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করেন।
অফিসের পাশে ৫ মিনিটের হাঁটাদূরত্বে বাসা। তা-ও প্রতিদিন সকালের মিটিংয়ে গরহাজির ও অনিয়মিত ইফরাজ নূর। আগামীর সময়ে ক্যামেরা চালানোর পাশাপাশি রিপোর্ট করছেন, ভয়েসও দিচ্ছেন। অফিসের রিসিপশন পেরিয়ে ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়ে ডানপাশে ছয়জন রিপোর্টার যে রুমে বসেন, তার লিডার বিশেষ প্রতিনিধি প্রণব বল। খেলাধুলা, পরিবেশ, স্বাস্থ্য, ইতিহাস, ঐতিহ্যের ফিচার নিয়ে তার দীর্ঘদিনের সাংবাদিকতা। প্রথম আলো ও দেশ রূপান্তর হয়ে আগামীর সময়ে বিশেষ প্রতিনিধি। হালকা-পাতলা গড়ন, মাথায় চুল কম; কিন্তু লেখনীতে ধার বেশি। মিটিং রুমের পরের ১৫০ বর্গফুটের গোছানো জায়গায় বসেন তিনজন সিনিয়র রিপোর্টার। হাসি-রস-তামাশায় ভরা থাকে তাদের দিন। প্রথমে উসকে দেন হ্যান্ডসাম বিশেষ প্রতিনিধি আসিফ সিদ্দিকী। সেটি রঙ মিশিয়ে রসাত্মক করে তুলতে ওস্তাদ বিশেষ প্রতিনিধি রমেন দাশগুপ্ত। মুচকি হেসে তাতে নতুন মাত্রা দেন সিনিয়র রিপোর্টার আব্দুল্লাহ আল মামুন।
গ্রাফিকস ডিজাইনে ২২ বছরের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ফোরকান এলাহীর। চিন্তা-ভাবনায় আধুনিক। দীর্ঘক্ষণ কাজের চাপ নিতে অভ্যস্ত। এলোমেলো ছবিকে মুহূর্তের মধ্যে ব্যাকগ্রাউন্ড ডিজাইনে দৃষ্টিনন্দন করে তুলতে পারেন।
আমাদের সঙ্গে আছেন আদিবাসী যুবক লিটন ত্রিপুরা। অফিস সহকারী। সদা হাসিমুখ। তার কণ্ঠে পাহাড়ি টানে বাংলা শুনতে মধুর লাগে।




