ফিচার
লাকি থার্টিন

ছবি: আগামীর সময়
এই লেখার কাজটা চেয়েছিলাম অন্য কারও ঘাড়ে চাপিয়ে দিতে; কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমার কপালেই জুটল। যাই হোক, ফিচার বিভাগের ১৩ সদস্যের সবচেয়ে কনিষ্ঠ সদস্য আখলাকুজ্জামান অনিককে দিয়েই শুরু করা যাক। বেচারা এখনো একটু অস্বস্তিতে। প্রথম চাকরি, তার ওপর টিমের কারও সঙ্গে আগে থেকে পরিচয় নেই। অফিসে তার মুখে মাঝেমধ্যে যে অপ্রস্তুত হাসি দেখা যায়, সেটা মনে করিয়ে দেয়, এখনো ‘ওয়ার্মআপ’ পর্বে আছেন। সিনিয়র সাব এডিটর ওমর শাহেদকে সাক্ষাৎকারভিত্তিক পাতা ‘তিনি বললেন’-এ সাহায্য করার পাশাপাশি ‘হাত বাড়িয়ে দাও’ তার দায়িত্বে।
প্রসঙ্গ যখন এলোই, ওমর শাহেদকে পরিচয় করিয়ে দিই। ক্যাম্পাস পাতা ‘টিএসসি’রও বিভাগীয় সম্পাদক তিনি। নিঃশব্দে অফিসে আসেন, এক মনে কাজ করেন, আবার নিঃশব্দে চলে যান। উপস্থিতিটা এতটাই শান্ত যে, এমন একজন লোক আছে, বোঝাই যায় না। তবে নিজের কাজে তিনি পাকা।
এবার মুমিতুল মিম্মা, অফিসের পাওয়ার হাউজ। অফিসে এনার্জির আলাদা কোনো ইউনিট থাকলে তিনি সে স্কেলে বেশ ওপরে থাকতেন। স্বাস্থ্য পাতা ‘হ্যালো ডক্টর’-এর দায়িত্বে তিনি। এ সেক্টরে নতুন। চেষ্টা করছেন দ্রুত সব আয়ত্ত করে নিতে।
স্বর্ণা রায় চাকরিবিষয়ক ‘ক্যারিয়ার ক্লাব’ পাতার দায়িত্বে। রান্না করতে ভালোবাসেন, খাওয়াতেও। এ তথ্য সবাই জেনেছেন। এখন শুধু খাওয়ার অপেক্ষা। নতুন ধরনের পাতার সাথে কিছু অ্যাক্টিভিটিসও আছে। এ নিয়ে কিঞ্চিৎ টেনশনে।
অলকানন্দা রায়ের ওয়ার্কস্টেশন দেখলেই বোঝা যায় ইনি নির্ঘাৎ লাইফস্টাইল বিভাগের লোক। আসলেও তাই। ট্যাবলয়েড ‘অপূর্বা’র বিভাগীয় সম্পাদক। বইপ্রেমী।
‘পড়ালেখা’ পাতার দায়িত্ব অনেকটা হুট করেই চেপেছে এহতেশাম আলমের কাঁধে; ডাকনাম শোভন। শান্ত, কম কথার মানুষ তিনি। তবে নিজের কাজে সবসময় সিরিয়াস। বিভিন্ন বিষয়ে ফিচার লেখায়ও হাত পাকা। সৈয়দ মোঃ বোরহান উদ্দিন, যিনি ফরহাদ নামেই বেশি পরিচিত— এককথায় মাল্টি-টাস্কার। চারুকলার ছাত্র, এখন সাব-এডিটর; সামলাচ্ছে একাধিক পাতা। পাশাপাশি তিনি ব্যান্ডশিল্পীও; শোয়ের দিন দিবসে লেখা সম্পাদনা, আর নিশীথে স্টেজে!
বিনোদন বিভাগের দলনেতা জনি হক। হাসিখুশি, প্রাণবন্ত। তবে কোনো কিছু পছন্দ না হলে লুকিয়ে রাখার মানুষ নন। তার পাশে মীর রাকিব—চুপচাপ, নিরীহ টাইপের মনে হলেও আসলে সবকিছুতেই তার নজর। ‘ভাজা মাছ উল্টে খেতে জানেন না’ ভাবটা শুধু বাইরের; ভেতরে পাকা খেলোয়াড়! ইমরানুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মানুষ। দলের একমাত্র সদস্য, যিনি ঢাকার বাইরে থেকে এসে অফিস করেন। ইন্টারন্যাশনাল পাতা থেকে ফিচারে এসে বেশ দ্রুত নিজের জায়গা করে নিয়েছেন।
আমাদের এই ফিচার টিমের দুজন ডেপুটি ফিচার এডিটর। একজন রুদ্র আরিফ। আমাদের টিমের স্টাইল স্টেটমেন্ট বলা যায় তাকে। চশমা, পোশাক— সবকিছুতেই একটু রঙের ছোঁয়া, আলাদা ভাব। তাকে দেখলে বোঝা যায়, ফিচার শুধু লেখার নয়, উপস্থাপনারও বিষয়। তার গুরুত্ব আলাদা করে বুঝতে হলে চলচ্চিত্র নিয়ে তার লেখা ভারী ভারী বইগুলোর দিকে তাকালেই হবে, পড়তে হবে না। ফিচারে আরেকজন ডেপুটি এই লেখার লেখক নিজে। নিজের সম্পর্ক বেশি বলা শোভন নয়। তবু সংক্ষেপে বলি- বইপ্রেমী, পাহাড়-অরণ্য ভালোবাসি, চাই বণ্যপ্রাণীরা নিরাপদে থাক। লিখতে ভালোবাসি।
সবশেষে পুরো দলের লিডার মুনির রানা। শুধু ফিচার নয়, সম্পাদকীয় বিভাগেরও প্রধান। প্রচারবিমুখ। তাই বেশি বললে হয়তো পরে হিসাব চাইবেন, সেই ঝুঁকি না নেওয়াই ভালো!
সব মিলিয়ে এই ১৩ জনের দলটা বৈচিত্র্যময়। কেউ ঝাল, কেউ মিষ্টি, কেউ টক। কিন্তু একসঙ্গে মিশলেই তৈরি হয় আসল স্বাদ। সে স্বাদই ধীরে ধীরে জমে উঠছে প্রতিদিনের কাজে, গল্পে। আশা করি, আগামীর সময়ের লাকি থার্টিন হয়ে উঠব আমরা।




