কোরআনের বাণী
শিরকমুক্ত ঈমানই প্রকৃত মুক্তির পথ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
পবিত্র কোরআনের বাণী
সুরা : বনি ইসরাইল, আয়াত : ২২
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
পরম করুণাময়, অসীম দয়াবান আল্লাহর নামে
لَّا تَجْعَلْ مَعَ ٱللَّهِ إِلَـٰهًا ءَاخَرَ فَتَقْعُدَ مَذْمُومًا مَّخْذُولاً
২২. আল্লাহর সঙ্গে অন্য কোনো ইলাহ সাব্যস্ত করো না; করলে নিন্দিত ও লাঞ্ছিত হয়ে বসে পড়বে।
সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা:
এই আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা মানবজীবনের সর্বপ্রথম ও সর্বশ্রেষ্ঠ নির্দেশ
দিয়েছেন, আর
তা হলো তাওহীদ বা একমাত্র
আল্লাহর ইবাদত। তার সঙ্গে কাউকে অংশীদার করা (শিরক) ইসলামে সবচেয়ে বড় অপরাধ, যা মানুষের
সব নেক আমলকে বিনষ্ট করে দিতে পারে যদি সে তাওবা ছাড়া মৃত্যুবরণ করে।
শিরক শুধু মূর্তি পূজার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সমাজে এমন অনেক বিশ্বাস ও আচরণ প্রচলিত আছে, যা মানুষকে অজান্তেই শিরকের দিকে নিয়ে যেতে পারে। যেমন, আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও কাছে গায়েবি সাহায্য প্রার্থনা করা, মৃত ব্যক্তি বা কোনো পীর-আউলিয়াকে এমন ক্ষমতার অধিকারী মনে করা যে, তারা স্বাধীনভাবে বিপদ দূর করতে বা প্রয়োজন পূরণ করতে পারেন, আল্লাহর পরিবর্তে তাদের নামে মানত করা বা কোরবানি দেওয়া, কিংবা তাবিজ-কবচ বা বিভিন্ন বস্তুকে নিজের ভাগ্য পরিবর্তনের স্বাধীন শক্তির অধিকারী মনে করা। এসব বিশ্বাস ও কাজ তাওহীদের পরিপন্থী।
তবে মনে রাখতে হবে, কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে শিরকের অভিযোগে অভিযুক্ত করার আগে ইসলামি শরিয়তের শর্ত, প্রমাণ এবং আলেমদের ব্যাখ্যা বিবেচনা করা জরুরি। তাই আমাদের দায়িত্ব হলো আগে নিজের আকিদা শুদ্ধ করা এবং কোরআন ও সহিহ সুন্নাহর আলোকে বিশুদ্ধ তাওহীদের শিক্ষা গ্রহণ করা।
একজন মুমিনের হৃদয়ে ভয়, আশা, ভালোবাসা, দোয়া, ভরসা ও ইবাদতের সর্বোচ্চ স্থান একমাত্র আল্লাহর জন্যই নির্ধারিত থাকবে। তাওহীদের বিশুদ্ধ চর্চাই দুনিয়ার মর্যাদা ও আখিরাতের মুক্তির একমাত্র পথ।




