শিশুর চুল কাটায় ইসলামের সৌন্দর্যবোধ

ইসলাম মানুষের জীবনের ছোট-বড় প্রতিটি বিষয়ে সৌন্দর্য, পরিচ্ছন্নতা ও শালীনতার শিক্ষা দিয়েছে। শিশুর চুল কাটার ক্ষেত্রেও রাসুলুল্লাহ (সা.) এমন একটি পদ্ধতি নিষেধ করেছেন, যা চুলের সৌন্দর্য ও স্বাভাবিক বিন্যাসকে নষ্ট করে। এর নাম ‘কাযা’। হাদিসে এসেছে-
عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنِ الْقَزَعِ . قَالَ قُلْتُ لِنَافِعٍ وَمَا الْقَزَعُ قَالَ يُحْلَقُ بَعْضُ رَأْسِ الصَّبِيِّ وَيُتْرَكُ بَعْضٌ
ইবনে উমার (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) কাযা’ করতে নিষেধ করেছেন। বর্ণনাকারী উমার ইবনু নাফি’ বলেন, তিনি নাফি’ (রহ.)-কে জিজ্ঞেস করেন, ‘কাযা’ কী?’ তিনি বলেন, ‘শিশুর মাথার কিছু চুল কামিয়ে ফেলা এবং কিছু চুল রেখে দেওয়া।’ (মুসলিম, হাদিস: ২১২০; বুখারি, হাদিস: ৫৯২০)
হাদিসটির মাধ্যমে বোঝা যায়, মাথার এক অংশ সম্পূর্ণ কামিয়ে অন্য অংশে চুল রেখে দেওয়ার মতো অস্বাভাবিক ও অসম চুলের ধরন ইসলাম পছন্দ করে না। ইসলামের সৌন্দর্যবোধ কেবল বাহ্যিক সাজসজ্জার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং পরিচ্ছন্নতা, ভারসাম্য ও স্বাভাবিক সৌন্দর্যও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
আরেক বর্ণনায় ইবনে উমার (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) একটি শিশুকে দেখে তার মাথার কিছু অংশ কামানো এবং কিছু অংশ রেখে দেওয়ার বিষয়টি নিষেধ করেন। তিনি বলেন, ‘হয় পুরো মাথা কামিয়ে দাও, অথবা পুরো মাথায় চুল রেখে দাও।’ (আবু দাউদ, হাদিস: ৪১৯৫)
তবে এ নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে মুসলিমদের পারস্পরিক বিদ্বেষ বা কটূক্তির সুযোগ নেই। কেউ অজ্ঞতাবশত এমন চুলের ধরন গ্রহণ করলে তাকে সুন্দরভাবে সুন্নাহর শিক্ষা জানানোই উত্তম। কারণ ইসলামের দাওয়াতের অন্যতম পদ্ধতি হলো প্রজ্ঞা ও উত্তম আচরণ।
শিশুর প্রতি ভালোবাসা যেমন তার পরিচ্ছন্নতা ও সুন্দর পরিচর্যায় প্রকাশ পায়, তেমনি তাকে ছোটবেলা থেকেই নবীজি (সা.)-এর সুন্নাহর সঙ্গে পরিচিত করাও অভিভাবকের দায়িত্ব। বাহ্যিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি সুন্নাহর সৌন্দর্যও যেন তার জীবনের অংশ হয়ে ওঠে, এটাই হওয়া উচিত আমাদের প্রত্যাশা।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক




