হাদিসের বাণী
যারা বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে

প্রতীকী ছবি
মুমিনের জীবনে তাওয়াক্কুল বা আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসার গুরুত্ব অপরিসীম। বিপদ-আপদ, অসুস্থতা কিংবা অনিশ্চয়তার সময়ে মানুষের মন নানা কুসংস্কার ও অমূলক বিশ্বাসের দিকে ঝুঁকে যেতে পারে। ইসলাম এসব থেকে দূরে থেকে একমাত্র আল্লাহর ওপর নির্ভর করতে শিক্ষা দিয়েছে। এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইবনে আব্বাস (রা.)-কে একটি গুরুত্বপূর্ণ সুসংবাদ দিয়েছেন। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে-
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " يَدْخُلُ الْجَنَّةَ مِنْ أُمَّتِي سَبْعُونَ أَلْفًا بِغَيْرِ حِسَابٍ، هُمُ الَّذِينَ لاَ يَسْتَرْقُونَ، وَلاَ يَتَطَيَّرُونَ، وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ ".
ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমার উম্মাতের মধ্য থেকে সত্তর হাজার লোক বিনা হিসেবেই জান্নাতে প্রবেশ করবে। তারা হবে এমন লোক- যারা ঝাড়ফুঁকের শরণাপন্ন হয় না, কু-যাত্রা মানে না এবং নিজেদের প্রতিপালকের উপরই ভরসা রাখে। (বুখারি, হাদিস : ৬৪৭২)
হাদিসে আল্লাহর ওপর পূর্ণ তাওয়াক্কুলকারীদের বিশেষ মর্যাদার কথা বলা হয়েছে। এখানে ঝাড়ফুঁকের শরণাপন্ন না হওয়ার অর্থ বৈধ চিকিৎসা বা শরিয়তসম্মত রুকইয়াহকে অস্বীকার করা নয়; বরং মানুষের কাছে অযথা নির্ভরশীলতা এবং কুসংস্কার থেকে মুক্ত থাকা বোঝানো হয়েছে। একইভাবে ‘কু-যাত্রা’ বা অশুভ লক্ষণকে সত্য মনে করা ইসলামের তাওহিদ ও তাওয়াক্কুলের চেতনার পরিপন্থী। মুমিন প্রয়োজনীয় উপায় অবলম্বন করবে, তবে ফলাফলের জন্য অন্তরকে একমাত্র আল্লাহর ওপর নির্ভরশীল রাখবে।
মহান আল্লাহ আমাদের সকলকে বুঝার ও আমল করার তাওফিক দান করুন।



