এনসিপি
কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন হয়নি রাষ্ট্রব্যবস্থার

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
জুলাই আন্দোলন শেষ হলেও বিপ্লব এখনো অসম্পূর্ণ— চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পর আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রনেতারা এমন মূল্যায়ন করেছেন। গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্ব থেকে গড়ে ওঠা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দাবি, সরকার পরিবর্তন হলেও রাষ্ট্রব্যবস্থার কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন হয়নি। রাষ্ট্রসংস্কার, গণহত্যার বিচার ও জুলাই সনদের বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলোর অনীহাই গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যাশা পূরণে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এনসিপি মনে করছে, শুধু সরকার পরিবর্তন নয়, গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য ছিল ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন। কিন্তু দুই বছর পরও সেই মৌলিক লক্ষ্য পূরণ হয়নি। এ ব্যর্থতার জন্য শুধু সরকার নয়, আন্দোলনের সময় একসঙ্গে থাকা রাজনৈতিক দলগুলোও দায়ী।
এনসিপির দাবি, আন্দোলনের পর ঐক্যবদ্ধভাবে রাষ্ট্রসংস্কারের পথ তৈরি না করে রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতার রাজনীতিতে বেশি মনোযোগ দেওয়ায় জুলাইয়ের অনেক আকাঙ্ক্ষাই অধরা থেকে গেছে।
দলটি মনে করছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের নানা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং পরে ক্ষমতার কেন্দ্র নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় জুলাই আন্দোলনের মৌলিক দর্শন থেকে বিচ্যুতি ঘটেছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্র পরিচালনায় দীর্ঘদিনের ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি, দলীয় প্রভাব এবং যোগ্যতার পরিবর্তে আনুগত্যকে প্রাধান্য দেওয়ার প্রবণতা পরিবর্তনের গতি কমিয়ে দিয়েছে।
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বললেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার সম্পূর্ণ বিলুপ্তি; কিন্তু ক্ষমতার পালাবদল হলেও দেশের কোনো পরিবর্তন হয়নি। দুঃখজনকভাবে যারা তখন আমাদের সঙ্গে ছিল, তারাই পরে সবচেয়ে বেশি বিরোধিতা করেছে।’
দলটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল মানুষের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও পরিবর্তনের স্বপ্নের বহিঃপ্রকাশ থেকে; কিন্তু ৫ আগস্টের পর যে বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা ছিল, বাস্তবে তার অনেক কিছুই পূরণ হয়নি। অন্যদিকে দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ বলেছেন, ৫ আগস্টের পর প্রথম বড় রাজনৈতিক বিচ্যুতি ঘটে তখনই, যখন রাজনৈতিক দলগুলো গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনায় বসার পরিবর্তে ক্যান্টনমেন্টমুখী হয়। তার ভাষ্য, শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার আগেই সেনাপ্রধান রাজনৈতিক দলগুলোকে আলোচনায় ডাকেন। সেই সময় আন্দোলনের নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক দলগুলো একসঙ্গে বসে ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিলে সংস্কারপ্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী হতে পারত এবং পরে অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর একক চাপও অনেকটাই কমে যেত।






