পদবঞ্চিত নেতাদের আশ্বস্ত করলেন যুবদল সভাপতি

সভায় বক্তব্য রাখছেন যুবদল নেতা
জাতীয়তবাদী যুবদলের সদ্যঘোষিত পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটিতে যারা স্থান পাননি, ভবিষ্যতে তাদের মূল্যায়নের ব্যাপারে আশ্বস্ত করেছেন সংগঠনের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না।
এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় চেষ্টা করবেন জানিয়ে তিনি বলেছেন, হাইকমান্ডের নির্দেশনা মেনে যাচাই-বাছাই করে ১৫১ সদস্যের কমিটি গঠন করেছি আমরা। এরপরও যাদের কমিটিতে রাখতে পারিনি, তাদের জন্য চেষ্টা করব। আরও অন্তত ১০০ জনকে কমিটিতে সংযুক্ত করার চেষ্টা করা হবে। সেখানে হয়তো তাদের মূল্যায়ন করার চেষ্টা করব। সুতরাং কারও হতাশ হওয়ার কারণ নেই।
আজ সোমবার রাজধানীর নয়াপল্টনে হোটেল ভিক্টরিতে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন মোনায়েম মুন্না। যুবদলের কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটির নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সমসাময়িক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও সাংগঠনিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সংগঠনটির উদ্যোগে আয়োজন করা হয় এ মতবিনিময় সভার।
গত বৃহস্পতিবার যুবদলের ১৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি অনুমোদন দেয় বিএনপি। এর আগে ২০২৪ সালের ৯ জুলাই আবদুল মোনায়েম মুন্নাকে সভাপতি এবং নুরুল ইসলাম নয়নকে সাধারণ সম্পাদক করে ঘোষণা করা হয়েছিল জাতীয়তাবাদী যুবদলের আংশিক কেন্দ্রীয় কমিটি।
যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রসঙ্গে সংগঠনটির সভাপতি মুন্নার বক্তব্য, প্রত্যেক নেতাকর্মীর রাজপথের ত্যাগ ও সংগ্রামকে মূল্যায়ন করেছি আমরা। সিনিয়র-জুনিয়র দেখে কমিটিতে কাউকে স্থান দেওয়া হয়নি। আগের কমিটির প্রায় ১১৪ জনকে এই কমিটিতে রেখেছি আমরা। আমরা তাদের রাজপথের লড়াই ও অবদানকে স্বীকার করেছি, বিবেচনায় নিয়েছি। অবশ্য আরও কয়েকজন ত্যাগী নেতাকে আমরা জায়গা দিতে পারিনি কমিটিতে।
যুবদল সভাপতির ভাষ্য, অতীতে প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যে যুবদলের নেতাকর্মীরা সামাজিক কর্মসূচি সেভাবে পালন করতে পারেনি। আগামীতে বড় পরিসরে তা পালন করা হবে।
এ সময় বাংলাদেশে মবতন্ত্র ও উচ্ছৃঙ্খল শ্রেণি রাজনীতিতে আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে বলে অভিযোগ করেন মোনায়েম মুন্না। তিনি উল্লেখ করেন, চতুর কথাবার্তা বলে রাজনীতিতে বেশিদিন টিকে থাকা যায় না। মবসন্ত্রাস করে পজিশন নেওয়ার চেষ্টা করলে ভালোভাবে নেবে না জনগণ।
তার নির্দেশ, আপনারা রাজনৈতিক ভাষায় কথা বলুন, সাংগঠনিক কাজ করুন। বেফাঁস বক্তব্য-মন্তব্য থেকে বিরত থাকুন।
বক্তব্যের শুরুতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং বিএনপির চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন যুবদল সভাপতি।
যুবদলের কার্যক্রম তুলে ধরে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন বললেন, গণঅভ্যুত্থানের পর বিভিন্ন সময় অভিযোগের ভিত্তিতে অনেক নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং শোকজ করা হয়েছে। কোথাও কোথাও সংবাদ সম্মেলন করে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বানও জানানো হয়েছে। এসব নেতাকর্মীর অনেকেই আমাদের ঘনিষ্ঠ ছিলেন।
দলের জন্য অবদান ছিল তাদের। আন্দোলন-সংগ্রামেও ভূমিকা ছিল। তারপরও দলের শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যোগ করেন তিনি।
ভবিষ্যতেও দলের সুনাম নষ্ট করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন যুবদল সম্পাদক।




