জুলাই সনদের ১ বছর
কী হবে যদি সমঝোতার দলিল বাস্তবায়নে সমঝোতা না হয়?

জুলাই সনদ হাতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায়। ফাইল ছবি
দুই বছর আগের জুলাই অভ্যুত্থান পাল্টে দিয়েছে বাংলাদেশকে; এই বদলে যাওয়াকে স্থায়ী ভিত্তি দিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উদ্যোগে রাজনৈতিক দলগুলোর আলোচনার মধ্যদিয়ে এক বছর আগে প্রণীত হয় ‘জুলাই জাতীয় সনদ’। সমঝোতার এই দলিলের পক্ষে গণভোটের গণরায়ও নেওয়া হয়। তবে এই সনদ কীভাবে বাস্তবায়ন হবে, তা নিয়ে মতানৈক্য এখন আলোচনার বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির উদ্যোগে সংবিধান সংশোধনে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের উদ্যোগে এই কমিটি কাজও শুরু করেছে। কিন্তু এই প্রক্রিয়া নিয়ে প্রবল আপত্তি রয়েছে জামায়াতে ইসলামীসহ বিরোধী দলগুলোর। সে কারণে তারা এই কমিটিতে যোগ দেয়নি।
সংবিধান সংশোধন না সংস্কার- এই প্রশ্নও আসছে সামনে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারি দল অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তৈরি হওয়া গণআকাঙ্ক্ষার বিপরীতে এগোলে আবার সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অধ্যাপক আলী রীয়াজ, জুলাই সনদ প্রণয়নের প্রক্রিয়ায় যিনি দিয়েছিলেন নেতৃত্ব।
সনদের পূর্বাপর
সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে ২০২৪ সালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে যে আন্দোলন দানা বেঁধেছিল, রক্তাক্ত এক পথ পেরিয়ে তা রূপ নেয় গণঅভ্যুত্থানে। সেই অভ্যুত্থানের তোড়ে ভেসে যায় আওয়ামী লীগের দেড় দশকের শাসন, পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেন দেড় দশকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার দলের কার্যক্রম পরিচালনায় আসে নিষেধাজ্ঞা।
জুলাই আন্দোলন থেকেই আওয়াজ উঠেছিল রাষ্ট্র সংস্কারের, যা দেশ আর কখনো ফ্যাসিবাদী শাসনের কবলে না পড়ে। তার পথরেখা তৈরি করতে ড. মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করে ছয়টি সংস্কার কমিশন। তাদের সুপারিশমালা একীভূত করতে গঠিত হয় জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সভাপতি হলেও সহসভাপতি আলী রীয়াজ সহসভাপতি হিসেবে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেন। ৩০টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আট মাসের আলোচনার পর তৈরি হয় জুলাই সনদ। ২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে এক অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে গৃহীত হয় এই সনদ।
জুলাই সনদে মোট ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব রয়েছে। এর মধ্যে ৪৮টি সংবিধান সম্পর্কিত। বাকিগুলো বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি সংস্কারের প্রস্তাব।
সনদের শেষ অংশে আছে ৭ দফা অঙ্গীকারনামা। যেখানে রাজনৈতিক দলগুলো অঙ্গীকার করে যে ‘নতুন রাজনীতিন সমঝোতার দলিল’ হিসেবে এই সনদ বাস্তবায়ন করবে তারা।
বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ ২৪টি দল অনুষ্ঠানের দিনই এই সনদের অঙ্গীকারনামায় সই করে। জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও গণফোরাম পরে সনদে সই করে। তবে চারটি বাম দল এই সনদে সই করেনি, যদিও তারা জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় অংশ নিয়েছিল।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নে জনমতের পরীক্ষা নেওয়া হয় এ বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে। সেই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী তার আইনি ভিত্তি তৈরি হয়।
সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে বাঁধল গোল
জুলাই সনদে সংবিধান সংস্কারের সুপারিশগুলো বাস্তবায়নে দুটি বিকল্প দিয়েছিল জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। দুই বিকল্পেই ছিল সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের কথা।
প্রক্রিয়াটি ছিল এমন, নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নিয়ে গঠিত সংসদ প্রথম ছয় মাস ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ হিসেবে কা্জ করবে। এই সময়ে জুলাই সনদ অনুসারে সংবিধান সংস্কার করা হবে।
কমিশনের সুপারিশের পর গত বছরের ১৩ নভেম্বর জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ জারি করেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি।
তা অনুসারে সংসদ সদস্যদের দুটি শপথ নেওয়র কথা ছিল। একটি সংসদ সদস্য হিসেবে, আরেকটি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে। কিন্তু জামায়াত ও এনসিপির নেতারা দুটি শপথ নিলেও তা নেননি বিএনপির সংসদ সদস্যরা। ফলে সংবিধান সংস্কার পরিষদ আর আলোর মুখে দেখেনি।
মতভেদ ক্রমেই বাড়ছে
জুলাই সনদ প্রণয়নের আলোচনার সময় থেকে বিভিন্ন প্রস্তাবে নিজেদের আপত্তির (নোট অব ডিসেন্ট) কথা বলে আসছিল বিএনপি। শপথ নেওয়ার বিষয়ে দলটির অবস্থান ছিল, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ‘অবৈধ’। এ ধরনের শপথ নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। অন্যদিকে জামায়াত-এনসিপির দাবি, বিএনপি এখন কথার বরখেলাপ করছে।
সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় দুই পক্ষের মতভেদের মধ্যে গত ১৩ জুলাই সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে সংসদে ১২ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠনের পর দূরত্ব আরো বেড়েছে।
কমিটি গঠনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে সেদিন সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছিল জামায়াতসহ বিরোধী দল। জামায়াত আমির ও সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান সেদিন বলেছিলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ ‘বাইপাস’ করে গঠিত এই সংসদীয় কমিটিতে তারা যোগ দেবেন না।
বিপরীতে সালাহউদ্দিন বলেছিলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার কোনো সাংবিধানিক ভিত্তি নেই। আগে সংবিধান সংশোধন করতে হবে। রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধানে যদি সংস্কার পরিষদের বিধান যুক্ত হয়, তখন সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। আর সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে আলোচনার উপযুক্ত স্থান সংসদীয় বিশেষ কমিটি।
এদিকে গণভোটের রায় বাস্তবায়নে এরই মধ্যে রাজপথে কর্মসূচি নিয়ে নামে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। কর্মসূচিতে থাকা এনসিপি নেতারা বলছেন, জুলাই সনদ অনুসারে সংবিধান সংস্কার করতে হবে। তার পরিবর্তে সংশোধনের এই প্রয়াস তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।
সংস্কার ঠেকে যাচ্ছে
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়েই ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি হয়েছিল। তার মধ্যে ১৬টি অনুমোদন না করার সিদ্ধান্ত নেয় বিএনপি সরকার। সাতটি বাতিল করা হয়। এসব পদক্ষেপে বর্তমান সরকার সংস্কারের বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান একদিন আগে এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘যেসব অধ্যাদেশ সরকারের তথা নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতাকে অধিকতর জবাবদিহিহীনভাবে শক্তিশালী করেছে, সেগুলো পাস করা হয়েছে। অন্যদিকে যেসব অধ্যাদেশ জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ছিল, তা রহিত বা স্থগিত করা হয়েছে।
‘অর্থাৎ ক্ষমতার রাজনীতি ও আমলাতান্ত্রিক শক্তির যোগসাজশে জুলাই আন্দোলনের মূল অভীষ্ট, একটি জবাবদিহি ও দায়বদ্ধ সরকারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পথ রুদ্ধ হচ্ছে,’ দাবি করছেন তিনি।
এই প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ রহিত করা, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সংশোধন অধ্যাদেশের বিল পাস না করে আগের আইনে ফিরে যাওয়া, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার পরিবর্তন করে পাস করার কথা বলেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক।
পাশাপাশি স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠনের উদ্যোগ না নেওয়া, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির সম্পদ-বিবরণী প্রকাশ না করার কথাও তোলেন তিনি।
এখন কী হবে?
জুলাই সনদে দ্বিপক্ষবিশিষ্ট সংসদ প্রতিষ্ঠা, তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনসহ সংবিধান সংস্কারের বেশ কিছু সুপারিশ রয়েছে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে বলা হয়েছে, এই সরকারের প্রধান বাছাই করবে প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেতা, বিরোধী দল থেকে মনোনীত ডেপুটি স্পিকার এবং দ্বিতীয় বৃহত্তম বিরোধী দলের প্রতিনিধির সমন্বয়ে গঠিত বাছাই কমিটি।
কেউ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী পদে থাকতে পারবেন না, এমন সুপারিশ রয়েছে জুলাই সনদে। আরো বলা হয়েছে, উচ্চকক্ষ গঠন হবে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে। সংবিধান সংশোধনে লাগবে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠের অনুমোদন।
নিম্নকক্ষ ও উচ্চকক্ষের সংসদ সদস্যদের গোপন ব্যালটের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার কথা রয়েছে সনদে। কিন্তু গত আগস্টে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে আগের মতোই।
প্রধানমন্ত্রীর কর্তৃত্ব কমাতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক এবং সরকারি কর্ম কমিশনে (পিএসসি) কমিটির মাধ্যমে নিয়োগের সুপারিশ রয়েছে জুলাই সনদে। তবে বর্তমান সরকার এসব নিয়োগে পুরোনো পথেই হাঁটছে।
এসব দেখে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলছেন, ‘জুলাই সনদ “অক্ষরে অক্ষরে” বাস্তবায়নের অঙ্গীকার নিয়ে নির্বাচনে বিজয়ী দলের সংসদ সদস্যরা গণভোটের পক্ষের শক্তি হওয়া স্বত্ত্বেও প্রস্তাবিত সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ না করার মতো অশুভ অবস্থানের মাধ্যমে রাষ্ট্রসংস্কার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে অনিশ্চয়তা তৈরি করে। সংবিধান সংশোধন কমিটির মাধ্যমে সংবিধান সংশোধন এবং একইভাবে আইন প্রণয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রসংস্কার বাস্তবে ক্ষমতাসীন জোটের একচ্ছত্র ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।’
ফলে সংস্কার নিয়ে এক রকম হতাশা ফুটে ওঠেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য ইফতেখারুজ্জামানের কথায়। বিবৃতিতে তিনি বলছিলেন, ‘জুলাই সনদ মূলত কর্তৃত্ববাদী শাসনামলসহ বিগত সময়ের অর্জিত বাস্তব অভিজ্ঞতার নিরিখেই প্রণীত হয়েছে এবং সরকারি দলসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো কিছু ক্ষেত্রে মতপার্থক্য স্বত্ত্বেও বৃহত্তর স্বার্থে তখন ঐকমত্যে পৌঁছেছিল। এখন সংখ্যাগরিষ্ঠতান্ত্রিক একচ্ছত্র ক্ষমতার চর্চার মোহে সরকারি দল যেমন অভিজ্ঞতার বিপরীতমুখী পথ ধরেছে, তেমনই বিরোধী জোটও মূলত দলীয় রাজনৈতিক ফায়দা অর্জনের তৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে।’
সরকারি দল বিএনপি অবশ্য বলে যাচ্ছে, তারা জুলাই সনদ বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে তা হবে যেসব সুপারিশ বাস্তবায়নে সবার মতৈক্য হয়েছে, তার ভিত্তিতে।
নির্বাচনী ইশতেহারে দলটি বলেছিল, ‘সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে বিগত ১৭ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে জুলাই জাতীয় সনদ যে আঙ্গিকে ঐকমত্য ও স্বাক্ষরিত হয়েছে, সেগুলো সে মতে বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।’
জুলাই সনদে একথাটিও রয়েছে যে, ‘অবশ্য কোনো রাজনৈতিক দল বা জোট তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখপূর্বক যদি জনগণের ম্যান্ডেট লাভ করে, তাহলে তারা সেই মতে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে।’
দৃশ্যত এখানেই জোর দিচ্ছে বিএনপি। সংবিধান সংশোধন কমিটির প্রধান সালাহউদ্দিন গত ২০ সেপ্টেম্বর কমিটির এক সভা শেষে সাংবাদিকদের বলেন, জুলাই সনদ নোট অব ডিসেন্টসহ (ভিন্নমত) যেভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে, সেভাবেই সেটা বাস্তবায়ন করবেন তারা।
তিনি সেদিন জানিয়েছিলেন, তারা সবার সঙ্গে আলোচনা করে ডিসেম্বরের মধ্যে কমিটির সুপারিশ চূড়ান্ত করে সংসদে প্রতিবেদন দেবেন। এক্ষেত্রে যেকোনো আলোচনার জন্য যে কোনো দলের দরজা তাদের জন্য খোলা।
তবে এই কমিটিতে না যাওয়া বিরোধী দল এখনো আগের অবস্থানেই রয়েছে। এনসিপি মনে করছে, সংবিধান সংস্কার পরিষদকে পাশ কাটিয়ে সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠন সংস্কার ‘নস্যাতেরই চক্রান্ত’।
আজ এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন দাবি তুললেন, ‘একদলীয় সংবিধান সংশোধন কমিটি’ বিলুপ্ত করে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন না করল এনসিপি এই কমিটিতে অংশ নেবে না।
এমন প্রেক্ষাপটে আলী রীয়াজ সম্প্রতি একটি সংবাদপত্রকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আশঙ্কা প্রকাশ করছিলেন, অবস্থা সংকটে রূপ নেবে যদি জনগণের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সংস্কার প্রশ্নে সরকারের পদক্ষেপের সামঞ্জস্য না থাকে।
তার মতে, সংকট এড়ানোর পথ হচ্ছে সংবিধান সংস্কার পরিষদ তৈরি করা এবং সেখানে সুনির্দিষ্টভাবে সংবিধান সংস্কার নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করে অগ্রসর হওয়া। নইলে সংবিধানের যেকোনো ধরনের সংশোধন সুরক্ষিত হবে না।
ক্ষমতাসীন দল বিএনপি সেপথে এগোবে কি না, সেই প্রশ্ন রেখেছেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানের এই অধ্যাপক।





