এবার নুরুল ইসলামকে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট থেকে বহিষ্কার

ডা. সৈয়দ নুরুল ইসলাম
বিএনপি সরকারের সমালোচনা করায় জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের প্রধান সমন্বয়ক ডা. সৈয়দ নুরুল ইসলামকে জোট থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একইসঙ্গে বাংলাদেশ মুসলিম লীগের (অনিবন্ধিত) সভাপতি ব্যারিস্টার নাসিম খানকে জোটের নতুন প্রধান সমন্বয়কারী করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর তোপখানা রোডের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। রাতে জোটের মুখপাত্র এসএম শাহাদাত স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এর আগে বিকেলে গণমাধ্যমে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট থেকে বের হয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানায় বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (এম.এল) (অনিবন্ধিত)। দলটির সাধারণ সম্পাদক ডা. সৈয়দ নুরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এ দিকে রাতে গণমাধ্যমে প্রেরিত জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২ আগস্ট জাতীয় প্রেস ক্লাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে সমমনা জোটের উদ্যোগে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশের সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক ডা. সৈয়দ নুরুল ইসলাম বিএনপি সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। একপর্যায়ে তিনি সরকারবিরোধী আন্দোলনের ডাকও দেন। বিভিন্ন মিডিয়ায় তার ওই বক্তব্য প্রচারিতও হয়। যেহেতু আমরা বিএনপির শরিক জোটে (ফ্যাসিবাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলন) আছি, সেহেতু তাকে (নুরুল ইসলাম) বক্তব্য প্রত্যাহারের জন্য জোটের নেতারা চাপ প্রয়োগ করেন। কিন্তু তিনি তার ওই বক্তব্য প্রত্যাহারে অস্বীকৃতি জানান।
এতে আরও বলা হয়, এরপর গত ৪ আগস্ট রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অনুষ্ঠানে বক্তব্যের সুযোগ না দেওয়ায় ডা. নুরুল ইসলাম অনুষ্ঠানস্থলে হট্টগোল শুরু করেন। একপর্যায়ে নিরাপত্তা কর্মীরা তাকে শান্ত হতে বাধ্য করেন। এভাবে ২ ও ৪ আগস্ট এমন বিতর্কিত বক্তব্য ও কার্যক্রমের জন্য জোটে ব্যাপকভাবে সমালোচিত হন তিনি। এরই পরিপ্রেক্ষিতে নুরুল ইসলামের উপস্থিতিতেই জোটের মিটিংয়ে সকল দলের নেতারা সর্বসম্মতিক্রমে তাকে সমমনা জোট থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেন। ডা. নুরুল ইসলামও এই সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন বলে জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন— জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের মুখপাত্র ও বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক পার্টির চেয়ারম্যান এসএম শাহাদাত ও সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম, গণদলের চেয়ারম্যান এটিএম গোলাম মাওলা চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক আবু সৈয়দ, এনপিপির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তিফা, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দলের (এমএল) সাধারণ সম্পাদক ডা. সৈয়দ নুরুল ইসলাম, বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান এমএন শাওন সাদেকী ও মহাসচিব আব্দুল বারিক, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের (অনিবন্ধিত) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার নাসিম খান, এনডিপির চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হারুন সোহেল ও মহাসচিব জামিল আহম্মেদ, ডেমোক্রেটিক লীগের (ডিএল) সভাপতি মাইনউদ্দিন কাদেরী ও সাধারণ সম্পাদক খোকন চন্দ্র দাস, জাগপার সভাপতি জাকির হোসেন রিয়াজ প্রমুখ।







