গোলাম পরওয়ারের অভিযোগ
স্থানীয় নির্বাচনে জিততে সরকারি দলের লোককে ইসিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে

সংগৃহীত ছবি
স্থানীয় নির্বাচনে জিততে সরকারি দলের লোককে ইসিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারী জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।
আজ বুধবার প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি সাংবাদিকদের একথা জানিয়েছেন।
গোলাম পরওয়ার বলেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও সরকারের কিছু পদক্ষেপ নিয়ে তারা গুরুতর আপত্তি জানিয়েছেন। বৈঠকে রাজনৈতিক নিয়োগ বাতিল, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার সুপারিশ প্রত্যাহার, রাজনৈতিক নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা, মন্ত্রী-এমপিদের নির্বাচনী প্রচারণায় নিষেধাজ্ঞা এবং নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক ক্ষমতা যথাযথভাবে প্রয়োগসহ একাধিক বিষয়ে তাদের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে বৈঠকে।
তিনি বলেন, সদ্য জাতীয় নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের পক্ষে রাজনৈতিক দায়িত্ব পালনকারী একজন ব্যক্তিকে নির্বাচন কমিশনে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই রাজনৈতিক নিয়োগ বাতিল করতে হবে। অন্যথায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হবে।
তিনি দাবি করেন, নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত কাউকে নিয়োগ দেওয়ার উদ্দেশ্য নির্বাচনকে প্রভাবিত করা।
গোলাম পরওয়ার বলেন, এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে তারা আগে অবগত ছিলেন না। পরে গণমাধ্যমের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছেন। তবে জামায়াতের পক্ষ থেকে কমিশনকে জানানো হয়েছে, তারা চাইলে ওই কর্মকর্তাকে যোগদান করতে না দিয়ে সরকারের কাছে আপত্তি জানাতে পারতেন। কমিশনের বক্তব্যে তাদের অসহায়ত্বই প্রকাশ পেয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের অযোগ্য ঘোষণার সুপারিশেরও তীব্র বিরোধিতা করেছে জামায়াত। তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দীর্ঘ ইতিহাসে শিক্ষকরা অংশ নিয়ে আসছেন। কোনো ধরনের রাজনৈতিক দল বা সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তার ভাষ্য, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রার্থী হতে কোনো বাধা নেই। অথচ শুধু স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপ বৈষম্যমূলক এবং এটি সংবিধানে নিশ্চিত নাগরিক অধিকারের পরিপন্থী। তাই নির্বাচন কমিশনকে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে বাতিল করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
গোলাম পরওয়ার জানান, বৈঠকে নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দলের পদধারীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করার দাবিও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বর্তমান সরকার সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে যাদের রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ দিয়েছে, তাদেরও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করার দাবি জানানো হয়েছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, এসব ব্যক্তি সরকারি সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, যেহেতু স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হবে না, তাই সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীরা কোনো প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা, সভা-সমাবেশ বা রাজনৈতিক কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন না। নির্বাচন কমিশনকে এ বিষয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারির আহ্বান জানানো হয়েছে।
গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচন কমিশন তাদের দেওয়া লিখিত দাবিগুলো কমিশনের সভায় আলোচনা করে পুনর্বিবেচনা করবে বলে আশ্বাস দিয়েছে।
এদিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নির্বাচন ভবনের সভাকক্ষে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে জামায়াত নেতাদের বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন, নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাসুদ ও তাহমিদা আহমেদ এবং নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।







