আইন আছে, কিন্তু সুবিধা পাননি প্রতিবন্ধীরা : রিজভী

ছবি: আগামীর সময়
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার নিশ্চিতে দেশে আইন প্রণয়ন হলেও বাস্তবে তারা এখনো সেই আইনের সুফল থেকে বঞ্চিত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রের উন্নয়নে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সক্ষমতা কাজে লাগাতে হলে তাদের জন্য সমান সুযোগ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে আয়োজিত বি-স্ক্যান চেঞ্জ মেকার অ্যাওয়ার্ড ২০২৬ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বললেন, ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য দেশে আইন হয়েছে, কিন্তু তারা এখনো সেই আইনের প্রকৃত সুবিধা পাননি। কবে আমরা এমন বাংলাদেশ দেখব, যেখানে ট্রেন, বাস, ব্যাংকসহ সব সেবাপ্রতিষ্ঠানে তারা প্রয়োজনীয় বিশেষ সুবিধা পাবেন? দেশের প্রায় ৪৬ লাখ প্রতিবন্ধী মানুষ শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও নানা ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। সেই সুযোগ নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের।’
নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন রিজভী, গণতন্ত্রের আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে তার শরীরের এক পাশ পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে যায়। ফলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংগ্রাম ও প্রতিদিনের বাস্তবতা তিনি খুব কাছ থেকে উপলব্ধি করতে পারেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সমাজকর্মী চন্দনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বললেন, ‘চন্দন ভাই আমার বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের সিনিয়র ও বন্ধু। যেদিন আমি গুলিবিদ্ধ হয়েছিলাম, সেদিন তার একটি সোয়েটার পরা ছিলাম। পরে তিনি কীভাবে দৃষ্টিশক্তি হারালেন, তা আমি জানি না।’
প্রতিবন্ধকতা মানুষের সক্ষমতার সীমা নির্ধারণ করে না উল্লেখ করে রিজভী বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিংস এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ফ্র্যাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্টের উদাহরণ দেন। তার ভাষ্য, শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও তারা বিশ্বে অসামান্য অবদান রেখে গেছেন। বাংলাদেশেও অনেক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি শিক্ষকতা, ব্যাংকিংসহ বিভিন্ন পেশায় দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছেন। প্রয়োজন তাদের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করা।
মরমি সাধক জালালউদ্দিন রুমির উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, ‘প্রতিটি মানুষের মধ্যেই ডানা আছে। জানতে হবে সেই ডানা কীভাবে মেলতে হয়।’ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উদ্দেশে তিনি বললেন, মেধা, যোগ্যতা ও আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমে তারাও বিশ্বজয়ের সক্ষমতা রাখেন।
অনুষ্ঠানে বি-স্ক্যান চেঞ্জ মেকার অ্যাওয়ার্ড ২০২৬-এ সম্মাননা পান দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী কম্পিউটার প্রশিক্ষক মোহাম্মদ রাসেল। প্রতিবন্ধী ১০ জন সমাজকর্মীর মধ্য থেকে ভোটের মাধ্যমে তাকে এ বছরের বিজয়ী নির্বাচিত করা হয়।




