জামায়াত
আকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ সরকার

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানুষের অংশগ্রহণ কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের জন্য ছিল না; বরং রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক পরিবর্তনের প্রত্যাশা থেকেই ছাত্র-জনতা জীবন বাজি রেখে রাজপথে নেমেছিল।
জুলাই সনদের বাস্তবায়ন, রাষ্ট্রসংস্কার এবং গণহত্যার বিচারে প্রত্যাশিত অগ্রগতি না থাকায় চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ক্রমেই ম্লান হচ্ছে বলে মনে করছে জামায়াতে ইসলামী। সরকারের কর্মকাণ্ডে অতীতের ফ্যাসিবাদী শাসনের নানা বৈশিষ্ট্যও ফিরে আসছে বলে অভিযোগ তাদের।
জামায়াতের পর্যবেক্ষণ, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানুষের অংশগ্রহণ কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের জন্য ছিল না; বরং রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক পরিবর্তনের প্রত্যাশা থেকেই ছাত্র-জনতা জীবন বাজি রেখে রাজপথে নেমেছিল। কিন্তু দুই বছর পরও সেই রাষ্ট্রসংস্কারের দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।
দলটির নেতাদের অভিযোগ, সরকারি-বেসরকারি, আধাসরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক-বীমা, করপোরেশন, প্রশাসনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ ও প্রভাব বিস্তারের প্রবণতা বাড়ছে, যা জুলাইয়ের চেতনার পরিপন্থী। জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের মতে, এসব কর্মকাণ্ড জুলাই আন্দোলনে নিহতদের আত্মত্যাগের সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণার শামিল।
জামায়াত নেতারা বলছেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানকে অর্থবহ করতে হলে গণহত্যার বিচার, রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কার, জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং বৈষম্যহীন শাসনব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিকল্প নেই। অন্যথায় গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ক্ষুণ্ন হবে এবং জনগণের প্রত্যাশা অপূর্ণ থেকে যাবে।
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘দেশের মানুষ যে বৈষম্যহীন ও ইনসাফভিত্তিক সমাজের আশায় বুকের রক্ত ঢেলে দিয়েছিল, বর্তমান প্রশাসন সেই আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করছে। জুলাইয়ের শহীদদের রক্তের সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণা করা হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগের লক্ষ্য ছিল একটি ফ্যাসিবাদমুক্ত, বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গঠন। কিন্তু সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের পরিবর্তে দেশে এখন ‘নির্লজ্জ দলীয়করণ’ চলছে। যোগ্য ও দেশপ্রেমিকদের সরিয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।






