আলোচনা করেই জুলাই সনদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত: রিজভী

জুলাই জাতীয় সনদকে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সরকার, সরকারি দল ও বিরোধী দলগুলোর আলোচনার মাধ্যমে এ বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানো উচিত। প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো আইন ও সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে বাস্তবায়নের আহ্বানও জানান তিনি।
সোমবার রাজধানীর উত্তরায় আইইউবিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই স্মৃতি এবং ‘তারুণ্যের স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেছেন রিজভী।
রিজভী উল্লেখ করেন, জুলাই সনদ নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলগুলোর মধ্যে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। সেখানে কোনো বিষয় সংযোজন বা সংশোধনের প্রয়োজন হলে তা আলোচনার মাধ্যমেই করা উচিত। যেসব বিষয় আইনে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন, তা সংসদে পাস করতে হবে। আর যেসব ক্ষেত্রে সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে, সেগুলোও সম্পন্ন করতে হবে।
তার ভাষ্য, এসব বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর একটি টেবিলে বসে ঐকমত্যে পৌঁছানো জরুরি। তিনি মন্তব্য করেন, ‘এসব কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা প্রয়োজন। অন্যথায় নানা পথ দিয়ে গণতন্ত্রবিরোধী শক্তির পুনরুত্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিপুল অর্থ ও বিদেশি সমর্থন পেয়ে তারা আবারও সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করতে পারে’— যোগ করেন রিজভী।
প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেছেন, জুলাই-আগস্টের পরিবর্তনের মাধ্যমে অন্তত গণতন্ত্রের কিছুটা পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এখন সুষ্ঠু নির্বাচনের সুযোগ রয়েছে এবং সরকারের সমালোচনা করলেই গুম বা বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হওয়ার পরিস্থিতি আর নেই।
তার মতে, মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও সমালোচনার সুযোগ একটি গণতান্ত্রিক সমাজের অপরিহার্য উপাদান, যা জুলাই আন্দোলনের পর নিশ্চিত হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, জুলাইয়ের তাৎপর্য অত্যন্ত গভীর। রাষ্ট্রে গণতন্ত্রের বিকাশে যেসব কাজ এখনো বাকি রয়েছে, সেগুলো সম্পন্ন করতে হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অন্তত কয়েকটি মৌলিক বিষয়ে ন্যূনতম সমঝোতা থাকা প্রয়োজন। তা না হলে গণতন্ত্র আবারও সংকটে পড়তে পারে এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
শহীদ মুগ্ধকে স্মরণ করে রিজভী বলেছেন, ‘পানি লাগবে, পানি?’ এই বাক্যটি শুধু একটি বাক্য নয়, এটি একটি মহাকাব্যিক উচ্চারণ। তার ভাষ্য, মুগ্ধসহ জুলাই আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগ কখনো ভোলা যাবে না।
তিনি অভিযোগ করেন, স্বৈরাচারী সরকার নির্বাচন কমিশনসহ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করেছে। গণমাধ্যম ছিল নিয়ন্ত্রিত, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ছিল না এবং নির্বাচন কমিশন ধারাবাহিকভাবে প্রহসনের নির্বাচন আয়োজন করেছে।
বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা আরও দাবি করেন, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার উদ্দেশ্যে রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল করা হয়েছিল এবং গণতন্ত্রের পক্ষে থাকা রাজনৈতিক দলগুলোকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা চালানো হয়। একই সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে অসুস্থ অবস্থায় কারাগারে রেখে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করার চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন— ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব মোস্তফা জামান, সংরক্ষিত নারী আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ (মিষ্টি), অ্যাব নেতা ইঞ্জিনিয়ার আবু সাঈদ চঞ্চল, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি ডা. জাহেদুল কবির জাহিদ এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহসভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল।






